মধুকর মঞ্জির বাজে

বাণী

মধুকর মঞ্জির বাজে বাজে
		গুন্‌ গুন্‌ মঞ্জুল গুঞ্জরণে।
মৃদুল দোদুল নৃত্যে
		বন শবরী মাতে কুঞ্জবনে।।
বাজাইছে সমীর দখিনা
পল্লবে মর্মর বীণা,
বনভুমি ধ্যান–আসীনা
		সাজিল রাঙা কিশলয়–বসনে।।
ধূলি ধূসর প্রান্তর পরেছিল গৈরিক সন্ন্যাস–সাজ
নব–দূর্বাদল শ্যাম হলো আনন্দে আজ।
লতিকা–বিতানে ওঠে ডাকি’
মুহু মুহু ঘুমহারা পাখি
নব নীল অঞ্জন মাখি’
		উদাসী আকাশ হাসে চাঁদের সনে।।

উম্মত আমি গুনাহগার

বাণী

উম্মত আমি গুনাহগার তবু ভয় নাহি রে আমার।
আহমদ আমার নবী যিনি খোদ্ হবিব খোদার।।
যাঁহার উম্মত্ হ’তে চাহে সকল নবী,
তাঁহারি দামন ধরি’ পুলসরাত হব পার।।
	কাঁদিবে রোজ হাশরে সবে
	যবে ‘নফ্‌সি য়্যা নফ্‌সি’ রবে,
‘য়্যা উম্মতী’ ব’লে একা কাঁদিবেন আমার মোখতার।।
কাঁদিবেন সাথে মা ফাতেমা ধরিয়া আরশ্ আল্লার।
হোসায়নের খুনের বদলায় মাফী চাই পাপী সবাকার।
দোজখ্ হয়েছে হারাম যে-দিন পড়েছি কলেমা।
যেদিন হয়েছি আমি কোরানের নিশান-বর্দার।।

হাওয়াতে নেচে’ নেচে' যায় ঐ তটিনী

বাণী

হাওয়াতে নেচে’ নেচে’ যায় ঐ তটিনী।
পাহাড়ের পথ-ভোলা কিশোরী নটিনী।।
		তরঙ্গ আঁচল দুলায়ে
		বনভূমির মন ভুলায়ে,
চলেছে চপল পায়ে একাকিনী উদাসিনী।।
এঁকে বেঁকে থম্‌কে গিয়ে,
হরিণীরে চম্‌কে দিয়ে।
ছুটিয়া যায় সুদূরে
আয় আয় বলি, ডাকে কে কুলের বধূরে,
নেচে চলে পথ বেভুল ঘর-ছাড়া বিবাগিনী।।

এসো এসো পাহাড়ি ঝর্ণা মেঘ সজল

বাণী

এসো এসো পাহাড়ি ঝর্ণা মেঘ সজল কাজল বর্ণা
এসো জল ছিটিয়ে ফুল ফুটিয়ে এসো।।
উপল নুড়িতে কাঁকন চুড়িতে
রিনি ঠিনি ছন্দে বন্য আনন্দে এসো
এসো ছলছল ঝলমল আঁচল লুটিয়ে এসো।।
তৃষ্ণায় ডাকে কূলে কূলে হরিণী
আনো কৃষ্ণার জল নির্ঝরিণী।
ফুলবনে ভ্রমর দল জুটিয়ে এসো।।
এসো তপ্ত ধরার বক্ষে, শান্তি ধারা আনো চক্ষে
শীতল হোক খরতর বায়ু, নির্জীব প্রান্তরে আনো পরমায়ু
এসো পাষাণ-কারারঘুম টুটিয়ে এসো।।

নাটকঃ‘মদিনা’

হায় গো ভালোবেসে অবশেষে

বাণী

(হায় গো) 	ভালোবেসে অবশেষে কেঁদে দিন গেল।
		ফুল-শয্যা বাসি হল, বঁধূ না এলো।।
		শুকাইল পানের খিলি বাঁটাতে ভরা,
		এ পান আমি কারে দিব সে বঁধূ ছাড়া।
(হায় গো) 	নীলাম্বরী শাড়ি ছি ছি পরলেম মিছে লো।।
		এবার ধ’রে দিস্ যদি তায়
		রাখ্‌ব বেঁধে বিনোদ খোঁপায়,
		কাঙালে পাইলে রতন রাখে যেমন লো।।
		সোঁদা-মাখা নিস্‌নে কেশে, গন্ধে যে লো তার
		মনে আনে চন্দন-গন্ধ সোনার বঁধূয়ার।
		এত দুঃখ ছিল আমার এই বয়সে লো।।

বাউল

লহ রাজ রাজ আনিয়াছি মালা

বাণী

	লহ রাজ রাজ, আনিয়াছি মালা।
	আনিয়াছি মালা, ভরি’ তনু-ডালা।।
	এনেছি ছলছল নয়ন-পাতে
	প্রেম-সুধা-রস মালার সাথে,
	অধরে অনুরাগ-রাঙা পিয়ালা।।
	এনেছি প্রীতির মালতী-বকুল
	রস টলমল রূপের মুকুল,
(যেন)	বৃথা না যায় শুভলগ্ন নিরালা।।

নাটক : ‘অর্জুন বিজয়’