মোহাম্মদ মোর নয়ন-মণি

বাণী

মোহাম্মদ মোর নয়ন-মণি মোহাম্মদ নাম জপমালা।
ঐ নামে মিটাই পিয়াসা ও নাম কওসারের পিয়ালা।।
	মোহাম্মদ নাম শিরে ধরি,
	মোহাম্মদ নাম গলায় পরি,
ঐ নামের রওশনীতে আঁধার এ মন রয় উজালা।।
	আমার হৃদয়-মদিনাতে
	শুনি ও নাম দিনে-রাতে,
ও নাম আমার তস্‌বি হাতে, মন-মরুতে গুলে-লালা।।
	মোহাম্মদ মোর অশ্রু চোখের
	ব্যথার সাথী শান্তি শোকের,
চাইনে বেহেশ্‌ত যদি ও নাম জপ্‌তে সদা পাই নিরালা।।

গুরুমন্ত্র তোমার উঠল জ্ব’লে

বাণী

গুরুমন্ত্র তোমার উঠল জ্ব’লে হোমের শিখার মত।
এক নিমেষে ভষ্ম হ’ল পাপ-তাপ মোর যত।।
	চির-আঁধার ছিল আমার হিয়া
	তুমি এলে মন্দ্র-প্রদীপ নিয়া,
হল চকিতে সেই দীপালোকে মনের আঁধার গত।।
উজ্জ্বল মোর ঘন-দেউলে কোন্ সে আদি ঋষি,
গভীর উদার মন্ত্র তোমার জপে দিবা-নিশি।
	রিপু দানব যথা ক’রত বাস
	সেই মন হ’ল আজ আনন্দ-কৈলাস,
সে-কৈলাসে তুমি শিব, আমি দীন প্রণত।।

কে বলে গো তুমি আমার নাই

বাণী

কে বলে গো তুমি আমার নাই?
তোমার গানে পরশ তব পাই।।
তোমায়-আমায় এই নীরবে
জানাজানি অনুভবে,
তোমার সুরের গভীর রবে আমারি কথাই।।
হে বিরহী আমায় বারে বারে
স্মারণ করো সুরের সিন্ধু পারে
ওগো গুণী পেয়ে মায়
যদি তোমার গান থেমে যায়,
উঠবে কাঁদন সুরের সভায় চাই না কাছে তাই।।

কৃষ্ণ-প্রিয়া লো কেমনে যাবি

বাণী

কৃষ্ণ-প্রিয়া লো! কেমনে যাবি অভিসারে?
সে বিরহী রসে মানস সুরধুনী ’পারে।।
সে এ পারে রহে না
পারাপারের অতীত সে, এ পারে রহে না,
এ পারে না, ও পারেও রহে না, কোন পারে রহে না।।
গগনে গুরু গুরু মেঘ গরজে অবিরল বাদল ঝর ঝর ঝরে,
আঁখি-জলে আঁখি তোর টলমল সই অন্তর দুরুদুরু করে।
পথ দেখিবি কেমনে
আঁখি-জলে পিছল আঁখি, পথ দেখিবি কেমনে।
তোর আঁখি পিছল পথও পিছল পথে যাবি কেমনে,
তোর অন্তরে মেঘ, বাহিরে মেঘ পথ দেখিবি কেমনে।
একে কুহু-যামিনী তাহে কুল-কামিনী পথে পথে কালনাগিনী (লো),
আছে আড় পেতে শাশুড়ি ননদিনী লো।
তুই চাতকীর মত কেতকীর মত রাই
মেঘ দেখে মত্ত হইলি ভয় নাই,
যার প্রেমের পথে বাধা বিধির অভিশাপ — সাপেরে সে ভয় করে না।।

পলাশ ফুলের গেলাস ভরি

বাণী

পলাশ ফুলের গেলাস ভরি’ পিয়াব অমিয়া তোমারে প্রিয়া
চাঁদিনী রাতের চাঁদোয়া তলে বুকের আঁচল দিব পাতিয়া।।
নয়ন-মণির মুকুরে তোমার দুলিবে আমার সজল ছবি
সবুজ ঘাসের শিশির ছানি মুকুতা মালিকা দিব গাঁথিয়া।।
		ফিরোজা আকাশ আবেশে ঝিমায়
		দীঘির বুকে কমল ঘুমায়
নীরব যখন পাখির কূজন আমরা দু’জন রব জাগিয়া।।

তুমি লহ প্রভু আমার সংসারেরি ভার

বাণী

তুমি লহ প্রভু আমার সংসারেরি ভার লহ সংসারেরি ভার
আজকে অতি ক্লান্তআমি বইতে নারি আর
	এ ভার বইতে নারি আর।।
	সংসারেরি তরে খেটে
	জনম আমার গেল কেটে
(ওরে) তবু অভাব ঘুচল না (আমার) হায় খাটাই হল সার।।
বিফল যখন হলাম পেতে সবার কাছে হাত
তখন তোমায় পড়ল মনে হে অনাথের নাথ।
	অভাবকে আর করি না ভয়
	তোমার ভাবে মগ্ন হৃদয়
তোমায় ফিরিয়ে দিলাম হে মায়াময় তোমারি সংসার।।