মোর ভুলিবার সাধনায় কেন সাধ বাদ

বাণী

মোর ভুলিবার সাধনায় কেন সাধ বাদ।
কেন নিরাশা-আঁধারে জ্বালো আশার চাঁদ।।
	যে প্রেম লভিয়াছে সমাধি,
	কি হবে সেথায় আর কাঁদি’,
বাঁচিবে না নয়নের জলে সে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে যার সুখ-সাধ।।
যে তরুর কাটিয়াছ মূল, কেন ফুল সেথা চাও,
নির্জন অরণ্যে বিরহ-তাপে তা’রে শুকাইতে দাও।
	শুভ লগ্নের ক্ষণ ভুবনে
	একবার আসে শুধু জীবনে,
ব’য়ে গেছে সেই শুভ দৃষ্টির শুভক্ষণ আর পাইব না তব আঁখির প্রসাদ।।

আমি পূরব দেশের পুরনারী

বাণী

আমি পূরব দেশের পুরনারী (গো)।
গাগরি ভরিয়া এনেছি গো অমৃত-বারি।।
পদ্মকুলের আমি পদ্মিনী-বধূ
এনেছি শাপলা-পদ্মের মধু
ঘন বন ছায়ায় শ্যামলী মায়ায়
শান্তি আনিয়াছি ভরি’ হেমঝারি।।
আমি শঙ্খ-নগর হতে আনিয়াছি শাখা, অভয়শঙ্খ,
ঝিল্‌ ছেনে এনেছি সুনীল কাজল গো —
বিল্‌ ছেনে অনাবিল চন্দন-পঙ্ক (এনেছি)।
এনেছি, শত ব্রত-পার্বণ-উৎসব
এনেছি, সারস হংসের কলরব
এনেছি, নব আশা-ঊষার সিন্দুর
মেঘ-ডম্বরু সাথে মেঘ-ডুমুর শাড়ি।।

তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী

বাণী

তুমি প্রভাতের সকরুণ ভৈরবী।
শিশির-সজল ভোরের আকাশে ভাসে তোমারি উদাস ছবি।।
	বিষাদ গভীর কার কল্পনা
	রূপ ধ’রে তুমি ফের আনমনা,
তোমারি মূরতি ধেয়ায় স্বপনে বিরহী সুরের কবি।।
তুমি ধরা দিতে যেন আস নাই ধরণীতে,
একা-একা খেলা খেল সারাবেলা সাথিহীন তরণীতে।
	আঘাত হানিয়া সে-কোন্ নিঠুর
	জাগাবে তোমাতে আশাবরি সুর,
পাষাণ টুটিয়া গলিয়া পড়িবে অশ্রুর জাহ্নবী।।

কাঁদিস্‌নে আর কাঁদিস্‌নে মা

বাণী

কাঁদিস্‌নে আর কাঁদিস্‌নে মা, আমি মা তোর দুঃখ ঘুচাব।
বসন-ভূষণ দেব এনে মা তোর চোখের জল মুছাব।।
	তুই হবি মা রাজ-জননী
	এনে দেব রত্ন-মণি,
রাজার আসন আন্‌ব ছিনি তোরে সেই আসনে বসাব।।

চলচ্চিত্র : ‘ধ্রুব’ (ধ্রুবের গীত)

যতদিন রবে প্রাণের প্রদীপে

বাণী

যতদিন রবে প্রাণের প্রদীপে প্রেমের শিখাটি জ্বালা।
ফুরাবে না, প্রিয় ফুরাবে না তোমারে পাওয়ার আশা।।
চামেলির মত ঝুরিব জনম জনম,
না ফুরাবে কভু, তোমারে ঘেরিয়া সুখ-কল্পনা মম।
শত তরঙ্গে সাগর-বক্ষে ঝলকি’ উঠিবে তুমি,
সাগর-নীলে এলায়ে নিজেরে তোমার স্মৃতিরে চুমি।
তোমারি তরে, শুধু তোমারি তরে এই যাওয়া-আসা।।
যদি কোনোদিন সাধ জাগে তব মনে
মোর লাগি’, প্রিয়, ঝুরিও পুবালি পবনে,
বাদল-বরিষে আমি আছি জেন লাগি’ তব ভালোবাসা।।

উত্তরীয় লুটায় আমার ধানের ক্ষেতে

বাণী

		উত্তরীয় লুটায় আমার
		ধানের ক্ষেতে, হিমেল্ হাওয়ায়।
আমার চাওয়া জড়িয়ে আছে নীল আকাশের সুনীল চাওয়ায়॥
		ভাটির শীর্ণা নদীর কূলে
		আমার রবি-ফসল দুলে,
নবান্নেরই সুঘ্রাণে মোর চাষির মুখে টপ্পা গাওয়ায়॥

হৈমন্তী