মা কবে তোরে পারব দিতে আমার সকল ভার

বাণী

মা	কবে তোরে পারব দিতে আমার সকল ভার।
	ভাবতে কখন পারব মাগো নাই কিছু আমার॥
		কারেও আনিনি মা সঙ্গে ক’রে
		রাখতে নারি কারেও ধ’রে
	তুই দিস্, তুই নিস্ মা হ’রে (আমার) কোথায় অধিকার॥
	হাসি খেলি, চলি, ফিরি ইঙ্গিতে মা তোরই,
মা	তোরই মাঝে লভি, তোরই মাঝে মরি।
		পুত্র-মিত্র-কন্যা-জায়া,
		মহামায়া তোরই মায়া,
মা	তোর লীলার পুতুল আমি ভাবতে দে এবার॥

আমি কৃষ্ণচূড়া হতাম যদি

বাণী

আমি		কৃষ্ণচূড়া হতাম যদি হতাম ময়ূর-পাখা, (সখা হে)!
তোমার		বাঁকা চূড়ায় শোভা পেতাম ওগো শ্যামল বাঁকা।।
		আমি হলে গোপীচন্দন, শ্যাম, অলকা-তিলকা হতাম;
		শ্যাম, ও-চাঁদমুখে অলকা-তিলকা হতাম।
		শ্রীঅঙ্গের পরশ পেতাম হ’লে কদম-শাখা।।
		আমি বৃন্দাবনে বন-কুসুম হতাম যদি কালা,
		কণ্ঠ ধ’রে ঝ’রে যেতাম হয়ে বনমালা।
			আমি নূপুর যদি হতাম হরি
			কাঁদতাম শ্রীচরণ ধরি’
		ব্রজবুলি হলে রেইত বুকে চরণ-চিহ্ন আঁকা।।

জয়-জগৎ-জননী ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর

বাণী

জয়-জগৎ-জননী, ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর বন্দিতা,
		জয় মা-ত্রিলোক তারিণী।
জয় আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী নন্দন-লোক-নন্দিতা
			জয় দুর্গতিহারিণী।।
তোমাতে সর্বজীবের বসতি, সর্বাশ্রয় তুমি মা,
জয় হয় সব বন্ধন পাপ-তাপ তব পদ চুমি’ মা।
তুমি শাশ্বতী, সৃষ্টি-স্থিতি, তুমি মা প্রলয়কারিণী।।
তুমি মা শ্রদ্ধা, প্রেম, ভক্তি তুমি কল্যাণ সিদ্ধি
ধর্ম, অর্থ, কাম, মোক্ষ তুমি তিন-জন ঋদ্ধি,
জয় বরাভয়া ত্রিগুণময়ী দশ-প্রহরণ-ধারিণী।।

নাটক : ‘বিদ্যাপতি’ (স্তব)

এসো হৃদি-রাস-মন্দিরে এসো

বাণী

এসো হৃদি-রাস-মন্দিরে এসো হে রাসবিহারী কালা।
মম নয়নের পাতে রাখিয়াছি গেঁথে অশ্রু-যূথীর মালা।।
	আমি	ত্যাজিয়াছি কবে লাজ-মান-কুল
		বহি’ কলঙ্ক এসেছি গোকুল,
আমি ভুলিয়াছি ঘর শ্যাম নটবর কর মোরে গোপবালা।।
		আমার কাঁদন-যমুনার নদী
	শ্যাম হে ভাঁটি টানে শুধু বহে নিরবধি,
তারে বাঁশরির তানে বহাও উজানে ভোলাও বিরহ-জ্বালা।।

আমি পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি

বাণী

আমি	পথ-ভোলা ভিনদেশি গানের পাখি
	তোমাদের সুরের সভায় এই অজানায় লহ গো ডাকি'।।
	তোমরা বেঁধেছে বাসা যে তরু-শাখায়
	আমারে বসিতে দিও তাহারি ছায়ায়
	গাহিবার আছে আশা, জানি না গানের ভাষা
তবু	ভালোবাসা দিয়ে বাঁধ গো রাখি।।
	মায়াময় তোমাদের তরুলতা, ফুল
	তোমাদের গান শুনে' পথ হ'ল ভুল।
	যেন শতবার এসে' জন্মেছি এই দেশে-
বন্ধু	হে বন্ধু, অতিথিরে চিনিবে না-কি।।

মা খড়গ নিয়ে মাতিস রণে

বাণী

(মা)		খড়গ নিয়ে মাতিস রণে নয়ন দিয়ে বহে ধারা (মা)
(এমন)	একাধারে নিষ্ঠুরতা কৃপা তোরই সাজে তারা।।
			তোর করে অসুর-মুন্ডরাশি
			অধরে না ধরে হাসি
		জানিস্ মরলে তোর আঘাতে তোরই কোলে যাবে তারা।।
		মা দুই হাতে তোর বর ও অভয় আর দু’হাতে মুন্ড অসি,
		ললাটে তোর পূর্ণিমা-চাঁদ, কেশে কৃষ্ণা চতুর্দ্দশী।
			জননী-প্রায় আঘাত করে
			দিস্ মা দোলা বক্ষে ধ’রে
		পাপ-মুক্ত করার ছলে অসুর বধিস ভব-তারা।।