সাধ জাগে মনে পর-জীবনে

বাণী

		সাধ জাগে মনে পর-জীবনে
(আমি)		তব কপোলে যেন তিল হই।
		ভালবাসিয়া মোরে দিল্‌ দিবে তুমি
(যেন)		আমি তোমার মত বে-দিল্‌ হই।।
		মোর দেওয়া যে হার নিলে না অকরুণা
(যেন)		হয়ে সে হার তব বক্ষে রই।।
		যাহারে ভালবেসে তুমি চাহ না মোরে
		মরিয়া আসি যেন তাহারি রূপ ধ’রে
(তুমি)		হার মানিবে আমি হ’ব জয়ী।।
		হৃদি নিঙাড়ি মম আল্‌তা হব পায়ে
		অধরে হব হাসি রূপ-লাবনি গায়ে
		আমার যাহা কিছু তোমাতে হবে হারা
(প্রিয়)		তুমি জানিবে না আমা বৈ।।

কানন গিরি সিন্ধু পার ফিরনু পথিক দেশ-বিদেশ

বাণী

কানন গিরি সিন্ধু–পার ফির্‌নু পথিক দেশ–বিদেশ।
ভ্রমিনু কতই রূপে এই সৃজন ভুবন অশেষ।।
তীর্থ–পথিক এই পথের ফিরিয়া এলো না কেউ,
আজ এ পথে যাত্রা যার, কা’ল নাহি তার চিহ্ন লেশ।।
রাত্রি দিবার রঙমহল চিত্রিত এ চন্দ্রতাপ
দু’দিনের এ পান্থবাস এই ভুবন – এ সুখ–আবেশ।।
ভোগ–বিলাসী ‘জমশেদের জল্‌সা ছিল এই সে দেশ,
আজ শ্মশান, ছিল যেথায় “বাহ্‌রামের” আরাম আয়েশ।।

ভারত আজিও ভোলেনি বিরাট

বাণী

ভারত আজিও ভোলেনি বিরাট মহাভারতের ধ্যান।
দেশ হারায়েছে — হারায়নি তা’র আত্মা ও ভগবান।।
তাহার ক্ষাত্রশক্তি গিয়াছে
প্রেম ও ভক্তি আজও বেঁচে আছে,
আজিও পরম ধৈর্য ও বিশ্বাসে —
তার আশা-দীপ জ্বালিয়া রেখেছে সেই ভাগবত জ্ঞান।।
দেহের জীর্ণ পিঞ্জরে তার প্রাণ কাঁদে নিরাশায়,
‘সম্ভবামি যুগে যুগে’ বাণী ভুলিতে পারে না হায়!
সেই আশ্বাসে আজ নব অনুরাগে
পাষাণ ভারতে বিরাট চেতনা জাগে,
জেগেছে সুপ্ত-সিংহ, এসেছে দিব্য অসি-কৃপাণ।।

বঁধু আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের

বাণী

বঁধু	আমি ছিনু বুঝি বৃন্দাবনের রাধিকার আঁখি-জলে।
	বাদল সাঁঝের যুঁই ফুল হয়ে আসিয়াছি ধরাতলে।।
তাই	যেমনি মিলন সাধ ওঠে জেগে
তুমি	লুকাও হে চাঁদ বিরহের মেঘে,
আমি	পূবালী পবনে ঝরে যাই বনে দলগুলি যেই খোলে।।
বঁধু	এই বুঝি হায় নিয়তির লেখা মিলন আমার নহে —
	ক্ষনিকের শুভ-দৃষ্টি লভিয়া কাঁদিব পরম বিরহে।
			বুঝি মিলন আমার নহে —
		আসিব না আমি মাধবী নিশীথে
		বরষায় শুধু আসিব ঝুরিতে,
	অসহায় ধারা-স্রোতে ভেসে যাব, মালা হব নাকো গলে।।

আমায় আঘাত যত হানবি শ্যামা

বাণী

আমায়		আঘাত যত হানবি শ্যামা ডাকব তত তোরে।
		মায়ের ভয়ে শিশু যেমন লুকায় মায়ের ক্রোড়ে।।
ওমা		চারধারে মোর দুখের পাথার
তুই		পরখ্ কত করবি মা আর,
আমি		জানি তবু পার হ’ব মা চরণতরী ধ’রে।।
আমি		ছাড়বো না তোর নামের ধেয়ান বিশ্বভুবন পেলে,
আমায়		দুঃখ দিয়ে নাম ভুলাবি, নই মা তেমন ছেলে।
		আমায় দুঃখ দেওয়ার ছলে
		তুই স্মরণ করিস পলে পলে,
আমি		সেই আনন্দে দুখের অসীম-সাগর যাব ত’রে।।

বিজলি খেলে আকাশে কেন

বাণী

বিজলি খেলে আকাশে কেন — কে জানে গো কে জানে।
কোন্ চপলের চকিত চাওয়া চমকে বেড়ায় দূর বিমানে।।
	মেঘের ডাকে সিন্ধু-কূলে
	অশান্ত স্রোত উঠ্‌লে দুলে,
সজল ভাষায় শ্যামল যেন কইল কথা কানে কানে।।
	বারি-ধারায় কাঁদে বুঝি
	মোর ঘনশ্যাম মোরে খুঁজি’,
আজ বরষার দুখের রাতে বন্ধুরে মোর পেলাম প্রাণে।।