মোর দুখ নিশি কবে হবে ভোর

বাণী

মোর দুখ নিশি কবে হবে ভোর
ভুবনে ছাড়ালো প্রভাতের আলো —
আমারি ভবনে কেন আঁধার ঘোর।।
সূর্য-কিরণে সাগর শুকায় —
সে রবি-কিরণে শুকালো না হায়
আমার বিরহী আঁখির লোর।।
আশোক বনে সীতার সঙ্গিনী প্রমীলার সম
নিশীথের আঁধার মুখ লুকায়ে কাঁদে অন্তরে মম।
মালা চন্দন লয়ে মন্দির মাঝে
ফেলে নববধূ সাজ পূজারিণী-সাজে
শূন্য মন্দিরে আমি একা কাঁদি জড়ায়ে ছিন্ন মালার ডোর।।

আমার যাবার সময় হলো

বাণী

আমার যাবার সময় হলো, দাও বিদায়।
মোছ আঁখি, দুয়ার খোলো, দাও বিদায়।।
ফোটে যে ফুল আঁধার রাতে
ঝরে ধূলায় ভোর বেলাতে
আমায় তারা ডাকে সাথে - আয় রে আয়।
সজল করুণ নয়ন তোলো, দাও বিদায়।।
অন্ধকারে এসেছিলাম থাকতে আঁধার যাই চ’লে;
ক্ষণিক ভালোবেসেছিলেম চিরকালের না-ই হ’লে।
হ’লো চেনা হ’লো দেখা
নয়ন-জলে রইলো লেখা
দূর বিরহের ডাকে কেকা বরষায়
ফাগুন স্বপন ভোলো ভোলো,দাও বিদায়।।

প্রভু রাখ এ মিনতি ত্রিভুবন-পতি

বাণী

(প্রভু)		রাখ এ মিনতি ত্রিভুবন-পতি তব পদে মতি।
		আঁখির আগে যেন সদা জাগে তব ধ্রুব-জ্যোতি।।
			সংসার মরুমাঝে তুমি মেঘ-মায়া,
			বিষাদ-শোক তাপে তুমি তরু-ছায়া,
		সান্ত্বনা দাতা তুমি দুঃখ ত্রাতা অগতির গতি।।
		জননীর মত আছ ঊর্ধ্বে জাগি
		জলে স্থলে শূন্যে অগণিত তব দান মোদের লাগি।
			ঝঞ্ঝার মাঝে তব বিষাণ বাজে,
			সহসা ঢলি পড় বনে ফুল-সাজে,
		কোমলে কঠোরে হে প্রভু বিরাজে তব মহাশক্তি।।

১. দোলে কালো নিশার কোলে / আলো-উষসী / তিমির তলে তব তিলক জ্বলে / ঐ পূর্ণ শশী।

আন্‌মনে জল নিতে ভাসিল গাগরী

বাণী

আনমনে জল নিতে ভাসিল গাগরী
সাঁতার জানি না, আনি কলস কেমন করি।।
জানি না বলিব কি শুধাবে যবে ননদী
কাহার কথা ভাবে পোড়া মন নিরবধি
কলসি না ভাসিয়া ভাসিতাম আমি যদি
কি বলিব কেন মোর ভিজিল ঘাগরী।।
একেলা কুলবধূ, পথ বিজন, নদীর বাঁকে
ডাকিল বৌ–কথা–কও কেন হলুদ চাঁপার শাখে
বিদেশে শ্যাম আমার পড়ল মনে সেই সে ডাকে
ঠাঁই দে যমুনে, বুকে, আমিও ডুবিয়া মরি।।

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি

বাণী

ভুলিতে পারিনে তাই আসিয়াছি পথ ভুলি’।
ভোল মোর সে অপরাধ, আজি যে লগ্ন গোধূলি।।
এমনি রঙিন বেলায় খেলেছি তোমায় আমায়,
খুঁজিতে এসেছি তাই সেই পুরানো দিনগুলি।।
তুমি যে গেছ ভুলে – ছিল না আমার মনে,
তাই আসিয়াছি তব বেড়া–দেওয়া ফুলবনে।
গেঁথেছি কতই মালা এই বাগানের ফুল তুলি’—
আজও সেথা গাহে গান আমার পোষা বুলবুলি।।

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন

বাণী

শুধু নামে যাঁহার এত মধু সে বঁধু কেমন
শুধু নাম শুনে যাঁর জাগে জোয়ার পরানে এমন।।
	শুধু যাহার বাঁশির সুরে
	আমার এত নয়ন ঝুরে
ওগো না জানি তার রূপ কেমন মদন-মোহন।।
সে বুঝি লো' অপরূপ সে চির-নতুন
বাঁশির সুরের মতো আঁখি-সকরুণ।
	তারে আমি দেখি যদি
	কাঁদিব কি নিরবধি
ওগো, যেমন ক'রে ঐ যমুনা কাঁদে অনুক্ষণ।।