হংস-মিথুন ওগো যাও ক’য়ে যাও

বাণী

হংস-মিথুন ওগো যাও ক’য়ে যাও।
বৈশাখী তৃষ্ণার জল কোথা পাও।।
কোন মানস-সরোবর জলে
পদ্মপাতার ছায়া-তলে,
পাখায় বাঁধিয়া পাখা দু’জনে প্রখর বিরহ দাহন জুড়াও।।
অলস দুপুর মোর কাটে না একা,
ঝ’রে যায় চন্দন-পত্রলেখা।
কখন আসিবে মেঘ নভে
মিটিবে আমার তৃষ্ণা কবে,
তৃষায় মূর্ছিতা চাতকী কোথায় তাহার ঘনশ্যাম, ব’লে দাও।।

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি

বাণী

ললাটে মোর তিলক এঁকো মুছে বঁধুর চরণ-ধুলি
আঁখিতে মোর কাজল মেখো ঘন শ্যামের বরণগুলি।।
	বঁধুর কথা মধুর প্রিয়
	কর্ণ মূলে দুলিয়ে দিও
বক্ষে আমার হার পরিও বঁধুর পায়ের নূপুর খুলি।।
তার পীত বসন দিয়ে ক'রো এই যোগিনীর উত্তরীয়
হবে অঙ্গেরই চন্দন আমার কলঙ্ক তার মুছে নিও।
	সে দেয় যা ফেলে মনের ভুলে
	তাই অঞ্চলে মোর দিও তুলে
তার বনমালার বাসি ফুলে ভ'রো আমার ভিক্ষা ঝুলি।।

পোহাল পোহাল নিশি খোল গো আঁখি

বাণী

পোহাল পোহাল নিশি খোল গো আঁখি।
কুঞ্জ-দুয়ারে তব গাহিছে১ পাখি,
		ওই গাহিছে পাখি॥
ওই বংশী বাজে দূরে
শোন ঘুম ভাঙানো সুরে,
খোল দ্বার লহ বঁধূরে ডাকি॥২

১. ডাকিছে, ২. খুলি’ দ্বার বঁধূরে লহ গো ডাকি’॥

নাটকঃ ‘আলেয়া’ (ভোরের হাওয়ার গান)

সখি নাম ধ’রে কে ডাকে দুয়ারে

বাণী

সখি নাম ধ’রে কে ডাকে দুয়ারে।
চ’লে যাওয়া বন্ধু বুঝি ফিরে এলো জোয়ারে।।
	সখি নিত্য আমার বুকের মাঝে
	যাহার চরণ-ধ্বনি বাজে,
সেই পায়ের ধ্বনি কানে শুনি আমার আঙিনার ধারে।।
সাজ পরতে সাধ কেন হয়, বাম অঙ্গ নাচে,
থাকি থাকি বৌ কথাকও পাখি ডাকে গাছে।
	গাঙের পারে বাজে বাঁশি
	চাঁদের মুখে রাঙা হাসি
মোর মন কেঁদে কয়, সে এসেছে আন্ লো ডেকে উহারে।।

আমি গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা

বাণী

আমি	গগন গহনে সন্ধ্যা-তারা
	কনক গাঁদার ফুল গো।
	গোধূলির শেষে হেসে উঠি আমি
	এক নিমেষের ভুল গো।
আমি	কণিকা,
আমি	সাঁঝের অধরে ম্লান আনন্দ-কণিকা
আমি	অভিমানিনীর খুলে ফেলে দেওয়া মণিকা
আমি	দেব-কুমারীর দুল গো।।
	আলতা রাখার পাত্র আমার আধখানা চাঁদ ভাঙা
	তাহারি রং গড়িয়ে পরে (ঐ) অস্ত-আকাশ রাঙা।
আমি	একমুঠো আলো কৃষ্ণা-সাঁঝের হাতে
আমি	নিবেদিত ফুল আকাশ-নদীতে রাতে
	ভাসিয়া বেড়াই যাঁর উদ্দেশে গো
	তার পাই না চরণ-মূল।।

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে

বাণী

অঞ্জলি লহ মোর সঙ্গীতে।
প্রদীপ-শিখা সম কাঁপিছে প্রাণ মম
তোমায়, হে সুন্দর, বন্দিতে!
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
তোমার দেবালয়ে কি সুখে কি জানি
দু’লে দু’লে ওঠে আমার দেহখানি
আরতি –নৃত্যের ভঙ্গীতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।
পুলকে বিকশিল প্রেমের শতদল
গন্ধে রূপে রসে টলিছে টলমল।
তোমার মুখে চাহি আমার বাণী যত
লুটাইয়া পড়ে ঝরা ফুলের মত
তোমার পদতল রঞ্জিতে।
সঙ্গীতে সঙ্গীতে।।