ইয়া মোহাম্মদ বেহেশত্‌ হতে

বাণী

ইয়া মোহাম্মদ, বেহেশেত্‌ হতে খোদায় পাওয়ার পথ দেখাও
এই দুনিয়ার দুঃখ থেকে এবার আমায় নাজাত দাও।।
পীর মুর্শীদ পাইনি আমি, তাই তোমায় ডাকি দিবস-যামী,
তোমারই নাম হউক হজরত আমার পরপারের নাও।।
অর্থ-বিভব-যশ-সম্মান চেয়ে চেয়ে নিশিদিন
দুঃখে শোকে জ্ব’লে মরি পরান কাঁদে শ্রান্তিহীন।
আল্লা ছাড়া ত্রিভুবনে, শান্তি পাওয়া যায় না মনে
কোথায় পাব সে আবহায়াত ইয়া নবীজী রাহ্‌ বাতাও।।

আমার মুক্তি নিয়ে কি হবে মা

বাণী

আমার	মুক্তি নিয়ে কি হবে মা, (মাগো) আমি তোরেই চাই
		স্বর্গ আমি চাইনে মাগো, কোল্ যদি তোর পাই॥
(মাগো)		কি হবে সে মুক্তি নিয়ে,
			কি হবে সে স্বর্গে গিয়ে;
		যেথায় গিয়ে তোকে ডাকার আর প্রয়োজন নাই॥
		যুগে যুগে যে লোকে মা প্রকাশ হবে তোর
(আমি)	পুত্র হয়ে দেখব লীলা এই বাসনা মোর।
			তুই, মাখাস্ যদি মাখ্‌ব ধূলি,
			শুধু তোকে যেন নাহি ভুলি;
		তুই, মুছিয়ে ধূলি নিবি তুলি বক্ষে দিবি ঠাঁই॥

শ্রী রঘুপতি রাম লহ প্রণাম

বাণী

দ্বৈত	:	শ্রী রঘুপতি রাম
		লহ প্রণাম শ্রী রঘুপতি রাম
		নব দূর্বাদল শ্যাম অভিরাম।
স্ত্রী	:	সুরাসুর কিন্নর যোগী ঋষি নর
পুরুষ	:	চরাচর যে নাম জপে অবিরাম॥
স্ত্রী	:	সরযূ নদীর জল ছল ছল কান্তি
পুরুষ	:	ঢল ঢল অঙ্গ ললাটে প্রশান্তি
স্ত্রী	:	নাম স্মরণে টোটে শোক তাপ ভ্রান্তি
দ্বৈত	:	পদারবিন্দে মূরছিত কোটি কাম॥
স্ত্রী	:	জানকী বল্লভ সুঠাম অঙ্গ
পুরুষ	:	পরশে নিমেষে হয় হরধনু ভঙ্গ
দ্বৈত	:	রাবণ ভয় হরে যাঁহার নাম॥
স্ত্রী	:	পিতৃ সত্যব্রত পালনকারী
পুরুষ	:	চির বল্কলধারী কাননচারী
দ্বৈত	:	প্রজারঞ্জন লাগি সর্বসুখ ত্যাগী
		যে নামে ধরা হল আনন্দধাম॥

মদির অধীর দখিন হাওয়া

বাণী

মদির অধীর দখিন হাওয়া।
ফিরে গেল, এলো না (মোর) পথ-চাওয়া।।
ফুরাইয়া যায় পরানের ফাগুন, আসিল না জীবন-দেবতা,
ঝরা পল্লব-প্রায় সাধ আশা ঝ’রে যায় শুকাল এ তনু-লতা।
শ্রান্ত গানের পাখি ডেকে ডেকে চ’লে যায় চির-বসন্ত যথা।।
আকাশে আজিও ঝরে জোছনার-ঝর্না,
তুমি আসিবে বলি’ এ দেহ চাঁপার কলি আজও আছে বঁধু চন্দন-বর্ণা।
নিরাশায় সায়রে আজিও একটি দু’টি কুসুম ফোটে,
কৃষ্ণা-তিথি, তবু আধেক রাতের পরে আজও চাঁদ ওঠে।
এ চাঁদ উঠিবে না, এ ফুল ফুটিবে না আর এ জীবন-তটে।।
	এসো ফিরে, এসে লহ প্রিয়তম
	তোমারে নিবেদিত অঞ্জলি মম,
রূপের প্রেমের অঞ্জলি মম — এসো ফিরে, এসে লহ প্রিয়তম।।

দীনের হতে দীন দুঃখী অধম যেথা থাকে

বাণী

দীনের হতে দীন দুঃখী অধম যেথা থাকে
ভিখারিনী বেশে সেথা দেখেছি মোর মাকে
		মোর অন্নপূর্ণা মাকে॥
অহংকারের প্রদীপ নিয়ে স্বর্গে মাকে খুঁজি
মা ফেরেন ধূলি পথে যখন ঘটা করে পূজি
ঘুরে ঘুরে দূর আকাশে প্রণাম আমার ফিরে আসে
যথায় আতুর সন্তানে মা কোল বাড়ায়ে ডাকে॥
নামতে নারি তাদের কাছে সবার নীচে যারা
তাদের তরে আমার জগন্মাতা সর্বহারা।
অপমানের পাতাল তলে লুকিয়ে যারা আছে
তোর শ্রীচরণ রাজে সেথা নে মা তাদের কাছে
আনন্দময় তোর ভুবনে আনব কবে বিশ্বজনে
আমি দেখব জ্যোতির্ময়ী রূপে সেদিন তমসাকে
		আমার অন্নপূর্ণা মাকে॥

অন্তরে প্রেমের দীপ জ্বলে যার

বাণী

অন্তরে প্রেমের দীপ জ্বলে যার,
ত্রিভুবনে নাই তার কোথাও আঁধার।।
পথের ধূলি তারই চরণ যাচে
আকাশ কথা কয় তাহারি কাছে,
তা’রি তরে খোলা থাকে সকলের ঘর
		সকলের হৃদয়-দুয়ার।।
কে বলে ভিখারিনী সে — কে বলে সে ভিখারি।
ভিক্ষা-ঝুলিতে তার বিশ্ব থাকে — ভগবান তাহার দ্বারী।
তার রীতি বোঝা যায় না
বুকে যার বহে নিতি পিরিতি-জোয়ার।।