মোর হৃদি-ব্যথার কেউ সাথী নাহি

বাণী

মোর হৃদি-ব্যথার কেউ সাথী নাহি।
ল’য়ে আহত প্রাণ একা গান গাহি।।
	দিবস বরষ মাস
	বুকে চাপি’ হা-হুতাশ,
চলি মরুপথে মেঘ-ছায়া চাহি’।।
কানন রচি বৃথা, কুসুম নাহি ফোটে
বাসি হয় গাঁথা মালা পথের ধূলায় লোটে,
কবে বহিবে নিঝর-ধারা পাষাণ বাহি’।।

টলমল টলমল পদভরে

বাণী

টলমল টলমল পদভরে
বীরদল চলে সমরে॥
খরধার তরবার কটিতে দোলে
রণন ঝনন রণ-ডঙ্কা বোলে
ঘন তূর্য-রোলে শোক-মৃত্যু ভোলে
দেয় আশিস সূর্য সহস্র করে॥
চলে শ্রান্ত দূর-পথে মরু দুর্গম পর্বতে
চলে বন্ধুবিহীন একা, মোছে রক্তে ললাট-কলঙ্ক-লেখা।
কাঁপে মন্দিরে ভৈরবী -  এ কি বলিদান!
জাগে নিঃশঙ্ক শঙ্কর ত্যজিয়া শ্মশান!
দোলে ঈশান মেঘে কাল প্রলয় নিশান!
বাজে ডম্বরু, অম্বর কাঁপিছে ডরে॥

মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়

বাণী

কিশোরীরা		:	মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়।
১ম কিশোরী	:	আমি অনুরাগ-রাঙা, আমি গোলাব-শাখায়।।
২য় কিশোরী	:	বন-কুন্তলে গরবী, আমি কানন-করবী।
৩য় কিশোরী	:	আমি সরসী-কমলা, আমি ষোড়শী কমলা
৪র্থ কিশোরী	:	আমি চম্পক খোঁপায়।।
				নিভিল আলেয়া-আলো পথ চলিতে,
প্রজাপতিদ্বয়	:	তোমরা আসিলে কি গো মন ছলিতে।
কিশোরীরা		:	মোরা অনির্বাণ-শিখা দীপ্তিমতী,
				আমরা কুসুম-রাঙা আমরা জ্যোতি।
প্রজাপতিদ্বয়	:	আমরা চাহি নাকো প্রেম, চাহি মোহিনী মায়ায়।।

নাটক : ‘আলেয়া’

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে

বাণী

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
শ্রাবণ রজনী আঁধার।
বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
মন চাহে প্রেম অভিসার॥
কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
কদম-কেয়া-বনে
ডাহুকী আনমনে —
সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো

বাণী

নিশির নিশুতি যেন হিয়ার ভিতরে গো,
সে বলেও না টলেও না থমথম করে গো॥
যেন নতুন পিঞ্জরের পাখি, ঘেরা টোপে ঢাকা থাকি
জটিলা-কুটিলার ভয়ে আছি আমি ম’রে গো॥
যেন চোরের বউ কান্‌তে নারি ভয়ে ফুকারিয়া গো,
আমি রান্না ঘরে কান্না লুকাই লঙ্কা-ফোড়ন দিয়া গো।
ব্যথার ব্যথী পাইরে কোথা, জানাই যা’রে মনের ব্যথা
বুকে ধিকি ধিকি তুষের আগুন জ্ব’লবে চিরতরে
বুঝি জ্ব’লবে জনম ভ’রে গো॥

সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে

বাণী

সেই রবিয়ল আউয়ালেরই চাঁদ এসেছে ফিরে
		ভেসে আকুল অশ্রুনীরে।
আজ মদিনার গোলাপ বাগে বাতাস বহে ধীরে
		ভেসে আকুল অশ্রুনীরে।।
	তপ্ত বুকে আজ সাহারার
	উঠেছে রে ঘোর হাহাকার
মরুর দেশে এলো আঁধার শোকের বাদল ঘিরে।।
চবুতরায় বিলাপ করে কবুতরগুলি খোঁজে নবীজীরে।
কাঁদিছে মেষশাবক, কাঁদে বনের বুলবুলি গোরস্থান ঘিরে।।
	মা ফাতেমা লুটিয়ে প’ড়ে
	কাঁদে নবীর বুকের পরে
আজ দুনিয়া জাহান কাঁদে কর হানি শিরে।।