হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে

বাণী

হায় আঙিনায় সখি আজো সেই চাঁপা ফোটে।
হায় আকাশে সখি আজো কি সেই চাঁদ ওঠে।।
	সখি তাহার হাতের হেনা গাছে
	বুঝি প্রথম মুকুল ধরিয়াছে।
হায় যমুনায়, বাঁশি বাজে কি আর ছায়ানটে।।
শিয়রে জানালা খুলে দে বাহিরে চাহিয়া দেখি
আমার বাগানে আবার বসন্ত আসিয়াছে কি?
দেখি সে ডালিম ফুলে হায় আছে কি সে রঙ আগেকার।
ও-বাড়ির ছাদের টবে সই বেলফুল ফুটলো কি আবার?
	আজি আসিবে সে মনে লাগে
	তারি আসার আভাস মনে জাগে
হায় বুঝি তাই, মোর মরণ মধুর হয়ে ওঠে।।

আজি পূর্ণশশী কেন মেঘে ঢাকা

বাণী

	আজি পূর্ণশশী কেন মেঘে ঢাকা।
	মোরে স্মরিয়া রাধিকাও হ’ল কি বাঁকা।।
কেন	অভিমান-শিশিরে মাখা কমল,
	কাজল-উজল-চোখে কেন এত জল,
	লহ মুরলী হরি লহ শিখী-পাখা।

সাত ভাই চম্পা জাগো রে

বাণী

সাত ভাই চম্পা জাগো রে, ঐ পারুল তোদের ডাকে।
ভাই আর কত ঘুমাবি সবুজ পাতা-ঘেরা শাখে।।
কি যাদু করলি তোদের বিদেশী সৎ-মায়ে,
রাজার দুলাল ঘুমিয়ে আছিস আঁধার কানন-ছায়ে,
নিজেরা না জাগলে কবে মুক্ত করবি মা’কে।।
তোদের বোন এনেছে জিয়ন-কাঠি প্রাণের পরশ-মণি,
মায়া-নিদ্রা ভোলাতে ঐ গায় সে জাগরণী।
গুবরে পোকায় মউ খেয়ে যায় তোদের ঐ মৌচাকে।।
তোদের চাঁপা রঙে চাপা আছে অরুণ-কিরণ-রেখা;
তোরা জাগবি রে যেই, অমনি পাবি দিনমণির দেখা,
বোনের সাথে ভাই জাগিলে ভয় করি আর কা’কে।।

আল্লা নামের নায়ে চ’ড়ে

বাণী

	আল্লা নামের নায়ে চ’ড়ে যাব মদিনায়।
	মোহাম্মদের নাম হ’বে মোর (ও ভাই) নদী-পথে পুবান বায়।।
	চার ইয়ারের নাম হ’বে মোর সেই তরণীর দাঁড়
	কল্‌মা শাহাদতের বাণী হাল ধরিবে তা’র,
	খোদার শত নামের শুন্ টানিব (ও ভাই) নাও যদি না যেতে চায়।।
মোর	নাও যদি না চলিতে দেয় সাহারার বালি,
	মরুভূমে বান ডাকাব, (চোখের) পানি দিব ঢালি’।
	তাবিজ হ’য়ে দুল্‌বে বুকে কোরান, খোদার বাণী
	আঁধার রাতে ঝড়-তুফানে১ আমি কি ভয় মানি!
	আমি তরে’ যাব রে তরী যদি ডুবে’ তারে না পায়২।।

১. দুর্দিনেরই ঝড়-তুফানে, ২. ডুবে তাঁহার এলাকায়

তুমি এলে কে গো চির-সাথী অবেলাতে

বাণী

তুমি	এলে কে গো চির-সাথী অবেলাতে
যবে	ঝুরিছে সন্ধ্যামণি আঙিনাতে।
ওগো	কে এলে গো চির-সাথী অবেলাতে।।
	রোদের দাহে এলে স্নিগ্ধ-বাস ফুল-রেণু
	নিঝুম প্রাণে এলে বাজায়ে ব্যাকুল বেণু
ওগো	চাঁদের তিলক এলে আঁধার রাতে।
ওগো	কে এলে গো চির-সাথী অবেলাতে।।
	ফুল ঝরার বেলা এলে মোর শেষ অতিথি
	কাঁদে হা হা স্বরে রিক্ত কানন-বীথি।
	এলে রে মরুভূমে পিয়াসি চকোর মোর
	শুক্লাতিথির শেষে কাঁদিতে এলে চকোর।
(তুমি)	আসিলে জীবন-সাঁঝে ঘুম ভাঙাতে।
ওগো	কে এলে গো চির সাথী অবেলাতে।।

সখি কেন এত সাজিলাম যতন করি

বাণী

সখি কেন এত সাজিলাম যতন করি
জাগিয়া পোহাল হায় বিভাবরী।।
	চাহিতে মুকুর পানে
	সজ্জা লজ্জা হানে।
অভিমানে লুটাইয়া কাঁদে কবরী।।
সখি লুকায়ে হাসিবে সবে দেখিয়া মোরে
বল এ মুখ দেখাব আমি কেমন করে?
	সখি ঐ দেখ লোক জাগে
	কেহ জাগিবার আগে
নিয়ে চল যমুনাতে ডুবিয়া মরি।।