বাণী
দাও আরো আরো দাও সুরা আর সুর। প্রাণের পাত্র কর সুখে ভরপুর।। বাজুক অধীর হ’য়ে নূপুর জলদ লয়ে, সমতালে তাল দিক কাঁকন-কেয়ূর।। সুর ও সুরার ঝোঁক ধরায় অমর হোক, এই সে-স্বর্গলোকে আয় তৃষাতুর।।
নাটিকা: ‘নরমেধ’
রাগ ও তাল
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা
স্বরলিপি

দাও আরো আরো দাও সুরা আর সুর। প্রাণের পাত্র কর সুখে ভরপুর।। বাজুক অধীর হ’য়ে নূপুর জলদ লয়ে, সমতালে তাল দিক কাঁকন-কেয়ূর।। সুর ও সুরার ঝোঁক ধরায় অমর হোক, এই সে-স্বর্গলোকে আয় তৃষাতুর।।
নাটিকা: ‘নরমেধ’
রাগঃ
তালঃ কাহার্বা

চঞ্চল ঝর্না সম হে প্রিয়তম আসিলে মোর জীবনে। নীরব মনের উপবন মর্মরি’ উঠিল অধীর হরষণে।। যে মুকুল ঘুমায়ে ছিল পত্রপুটে অনুরাগে ফুল হয়ে উঠিল ফুটে, তনুর কূলে কূলে ছন্দ উঠিল দুলে আকুল শিহরণে।। অলকানন্দা হ’তে রসের ধারা তুমি আনিলে বহি’, অশান্ত সুরে একি গাহিলে গান, হে দূর বিরহী। মায়ামৃগ তুমি হেসে চ’লে যাও তব কূলে যে কাঁদে তারে ফিরে নাহি চাও, কত বন ভূমিরে আঁখি-নীরে ভাসাও — হে উদাসীন আনমনে।।
রাগঃ
তালঃ
বল বীর – বল উন্নত মম শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর – বল মহাবিশ্বের মহাকাশ ফাড়ি’ চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা ছাড়ি’ ভূলোক দ্যুলোক গোলক ভেদিয়া খোদার আসন ‘আরশ’ ছেদিয়া, উঠিয়াছি চির-বিস্ময় আমি বিশ্ববিধাতৃর! মম ললাটে রুদ্র ভগবান জ্বলে রাজ-রাজটীকা দীপ্ত জয়শ্রীর! বল বীর – আমি চির উন্নত শির! আমি চিরদূর্দম, দুর্বিনীত, নৃশংস, মহা-প্রলয়ের আমি নটরাজ, আমি সাইক্লোন, আমি ধ্বংস! আমি মহাভয়, আমি অভিশাপ পৃথ্বীর, আমি দুর্বার, আমি ভেঙে করি সব চুরমার! আমি অনিয়ম উচ্ছৃঙ্খল, আমি দ’লে যাই যত বন্ধন, যত নিয়ম কানুন শৃঙ্খল! আমি মানি না কো কোন আইন, আমি ভরা-তরী করি ভরা-ডুবি, আমি টর্পেডো, আমি ভীম ভাসমান মাইন! আমি ধূর্জটি, আমি এলোকেশে ঝড় অকাল-বৈশাখীর আমি বিদ্রোহী, আমি বিদ্রোহী-সুত বিশ্ব-বিধাতৃর! বল বীর – চির-উন্নত মম শির! আমি ঝন্ঝা, আমি ঘূর্ণি, আমি পথ-সমূখে যাহা পাই যাই চূর্ণি’। আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ, আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ। আমি হাম্বীর, আমি ছায়ানট, আমি হিন্দোল, আমি চল-চঞ্চল, ঠমকি’ ছমকি’ পথে যেতে যেতে চকিতে চমকি’ ফিং দিয়া দিই তিন দোল; আমি চপলা-চপল হিন্দোল। আমি তাই করি ভাই যখন চাহে এ মন যা, করি শত্রুর সাথে গলাগলি, ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা, আমি উন্মাদ, আমি ঝঞ্ঝা! ধরি মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা আমি মহামারী, আমি ভীতি এ ধরিত্রীর; আমি শাসন-ত্রাসন, সংহার আমি উষ্ঞ চির-অধীর! বল বীর – আমি চির উন্নত শির! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর - বল উন্নত মম শির! আমি বেদুঈন, আমি চেঙ্গিস, আমি আপনারে ছাড়া করি না কাহারে কুর্ণিশ! আমি বজ্র, আমি ঈশান-বিষাণে ওঙ্কার, আমি ইস্রাফিলের শিঙ্গার মহা হুঙ্কার, আমি পিণাক-পাণির ডমরু ত্রিশূল, ধর্মরাজের দন্ড, আমি চক্র ও মহা শঙ্খ, আমি প্রণব-নাদ প্রচন্ড! আমি ক্ষ্যাপা দুর্বাসা, বিশ্বামিত্র-শিষ্য, আমি দাবানল-দাহ, দাহন করিব বিশ্ব। আমি প্রাণ খোলা হাসি উল্লাস, – আমি সৃষ্টি-বৈরী মহাত্রাস, আমি মহা প্রলয়ের দ্বাদশ রবির রাহু গ্রাস! আমি কভূ প্রশান্ত কভূ অশান্ত দারুণ স্বেচ্ছাচারী, আমি অরুণ খুনের তরুণ, আমি বিধির দর্পহারী! শির নেহারি’ আমারি নতশির ওই শিখর হিমাদ্রির! বল বীর - বল উন্নত মম শির! উন্নত মম শির! উন্নত মম শির!
রাগঃ
তালঃ দ্রুত-দাদ্রা

মম মধুর মিনতি শোন ঘনশ্যাম গিরিধারী কৃষ্ণমুরারী, আনন্দ ব্রজে তব সাথে মুরারি।। যেন নিশিদিন মুরলী-ধ্বনি শুনি উজান বহে প্রেম-যমুনারি বারি নূপুর হয়ে যেন হে বনচারী চরণ জড়ায়ে ধরে কাঁদিতে পারি।।
রাগঃ জৌনপুরী
তালঃ ত্রিতাল
শিল্পীঃ সুমন চৌধুরী

আমার মানস-বনে ফুটেছে রে শ্যামা-লতার মঞ্জরি। সেই মঞ্জু-বনে ফির্ছে রে তাই ভক্তি-ভ্রমর গুঞ্জরি।। সেথা আনন্দে দেয় করতালি প্রেমের কিশোর বনমালী, সেই লতামূলে শিবের জটার গঙ্গা ঝরে ঝর্ঝরি।। কোটি তরু শাখা মেলি’ এই সে-লতার স্পর্শ চায়, শিরে ধ’রে ধন্য হ’তে এই শ্যামারই শ্যাম শোভায়। এই লতারই ফুল-সুবাসে কোটি চন্দ্র সূর্য আসে১ নীল আকাশে, এই লতার ছায়ায় প্রাণ জুড়াতে ত্রিলোক আছে প্রাণ ধরি’।।
১. হাসে
রাগঃ দেশ মিশ্র
তালঃ দাদ্রা

জাগো মালবিকা! জাগো মালবিকা! ডাকে তোমায় গগন-সীমায় মেঘ-বালিকা।। বরষার মিনতি মানো, মেঘপানে ভুরু হানো, বন-ডালি ভরি' আনো নীপ-যূথিকা।। তব অবগুণ্ঠন খোলো, তমাল ঝুলনায় দোলো, তরঙ্গ-লহরি তোলো সাগরিকা।।
রাগঃ আনন্দী
তালঃ ত্রিতাল
