সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ

বাণী

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ
করুণা-সিন্ধু খোদার বন্ধু নিখিল মানব-প্রেমাস্পদ।।
আদম নূহ, ইব্রাহিম দাউদ সোলেয়মান মুসা আর ঈসা,
সাক্ষ্য দিল আমার নবীর, সবার কালাম হ'ল রদ।
যাঁহার মাঝে দেখল জগৎ ইশারা খোদার নূরের,
পাপ-দুনিয়ায় আনলো যে রে, পুণ্য বেহেশতী সনদ।।
হায় সিকান্দর খুঁজল বৃথাই আব-হায়াত এই দুনিয়ায়
বিলিয়ে দিল আমার নবী, সে সুধা মানব সবায়।
হায় জুলেখা মজল ঐ ইউসুফেরই রূপ দেখে,
দেখলে মোদের নবীর সুরত, যোগীন হত ভসম মেখে'।
শুনলে নবীর শিঁরিন জবান, দাউদ মাগিত মদদ।।
ছিল নবীর নূর পেশানিতে, তাই ডুবল না কিস্তি নূহের
পুড়ল না আগুনে হযরত ইব্রাহিম সে নমরুদের
হায়, দোজখ আমার হারাম হ'ল পিয়ে কোরানের শিঁরিন শ্যহদ।।

চল জয়যাত্রায় চল

বাণী

চল জয়যাত্রায় চল বাসন্তী-বাহিনী
চল রচিতে বুকে বুকে নব প্রেম-কাহিনী।।
যথা উদাসীন পুরুষ তপস্যা-মগ্ন
জাগো সেথা সুরত রতি অতি লগ্ন —
যার বাসনা ফুরায় মনে — চলো তার তপোবনে
		চল কামনার কামিনী।।

নাটক : ‘হরপার্বতী’

বাজিছে বাঁশরি কার অজানা সুরে

বাণী

বাজিছে বাঁশরি কার অজানা সুরে।
ডাকিছে সে যেন তার সুদূর বঁধুরে।।
তারা-লোকের সাথীরে যেন সে চাহে ধরাতে,
তারি কাঁদন যেন ঝরা কুসুমে ঝুরে।।
চাঁদের স্বপন ল’য়ে জাগে সে নিশীথ একা,
নিরালা গাহে গান হায় বিষাদ-মধুরে।।
তাহারি অভিমান যেন উঠিছে বাতাসে কাঁপি’,
তাহারি বেদনা দূর আকাশে ঘুরে।।

ভোরের হাওয়া ধীরে ধীরে বলো

বাণী

		ভোরের হাওয়া! ধীরে ধীরে বলো গো সেই হরিণীরে।
		আর কত দিন দিশাহারা ঘুরব একা মরুর তীরে।।
		মিষ্টি চিনির পসরিণীর হৃদয় কেন কষায় হেন,
		এই চিনি-খোর তুতীর পানে কেন গো সে চায় না ফিরে।।
		গোলাব লো! তোর রূপের গরব দেয় না বুঝি জিজ্ঞাসিতে,
		প্রণয়-পাগল বুলবুলি তোর ভাসে কেন অশ্রু-নীরে।।
		চতুর নিষাদ শিকার করে প্রণয়ীরে মুখের মিঠায়,
		চপল পাখি ধরতে সে গো বিছায় না জাল আকাশ ঘিরে।।
		বঁধুর পাশে বসে তোমার ঢাল্‌বে যেদিন রঙীন শারাব
		স্মরণ ক’রো রূপসী, এই উপোসী-মন দূর সাথিরে।।
শেয়র : 	সরল-তনু, কাজল-আঁখি, চাঁদের মালা ললাট-কূলে —
		রঙীন্‌ প্রেমের লাগল না রঙ কেন গো সে রূপের ফুলে।
		তোমার রূপের চাঁদে, প্রিয়, এই শুধু কলঙ্ক-লেখা —
		মধুর রূপের কাননে নাই বিধুর প্রেমের কুহু কেকা!
		হাফেজী এই গজল যদি পৌছে আকাশ, নয় সে কিছু,
		গাইবে সে গান ‘জোহরা’ তারা, নাচবে ‘ঈশা’ সে সুর মীড়ে।।

সখি ব’লো বঁধুয়ারে নিরজনে

বাণী

(সখি) ব’লো বঁধুয়ারে নিরজনে
দেখা হ’লে রাতে ফুল–বনে।।
কে করে ফুল চুরি জেনেছে ফুলমালী
কে দেয় গহীন রাতে ফুলের কুলে কালি
জেনেছে ফুলমালী গোপনে।।
ও–পথে চোর–কাঁটা, সখি, তায় বলে দিও
বেঁধে না বেঁধে না লো যেন তার উত্তরীয়।
এ বনফুল লাগি’ না আসে কাঁটা’ দলি’
আপনি যাব চলি’ বঁধুয়ার কুঞ্জ–গলি
বিনা মূল্যে বিকাইব ও–চরণে।।

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে

বাণী

শেষ হ’ল মোর এ জীবনে ফুল ফোটাবার পালা।
ওগো মরণ, অর্ঘ্য লহ সেই কুসুমের ডালা।।
	কাটলো কীটে ঝরলো যে-ফুল
	শুকালো যে আশার মুকুল,
তাই দিয়ে হে মরণ তোমার গেঁথেছি আজ মালা।।
সুন্দর এই ধরণীতে কতই ছিল সাধ বাঁচিতে,
হঠাৎ তোমার বাজলো বেণু বিদায়-করুণ ভৈরবীতে।
	তোমার আঁধার-শান্ত কোলে
	শ্রান্ত তনু পড়ুক ঢ’লে,
আর সহে না কুসুম-বিহীন কন্টকের জ্বালা।।