কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে

বাণী

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে
হেসে নদীকুলে এলো হেলে দুলে!
	নূপুর রিনিকি ঝিনি বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।
দূরে মন উদাসি বাজে বাঁশের বাঁশি,
	বকুল-শাখে পাপিয়া ডাকে —
হেরিয়া বুঝি এই বন-বালিকায়
	রঙিন সাজে রে, বাজে রে।।
	এ বুঝি নদীর কেউ
তাই অধীর হলো জলে ঢেউ।
	চন্দন-মাখা যেন চাঁদের পুতলি,
	যত চলে তত রূপ ওঠে উথলি
মেঘে লুকালো পরী লাজে রে, বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।

মাকে আদর করে কালী বলি

বাণী

মাকে আদর করে কালী বলি সে সত্যি কালো নয় রে।
তার ঈষৎ হাসির এক ঝলকে জগৎ আলো হয় রে,
			ত্রি-জগৎ আলো হয় রে।।
(কালো নয় কালো নয়, চরণে যার মহাকাল
পায়ের নখে চাঁদের মালা, কালো নয় কালো নয়)
			সত্যি কালো নয় রে।।
(আমরা) আপনভোলা পাগলী গিরিবালা
মুন্ডামালায় মনে করে কুন্দফুলের মালা;
(রয়) মরা-ছেলে বুকের ধ’রে শ্মশানে তন্ময় রে,
রয় শ্মশানে তন্ময় রে।
শ্মশানে সে থাকে ব’লে ভয়ঙ্করী নয় রে!
(ভবের) খেলা-শেষে সকলেরে দেয় সে বরাভয় রে।।
(সে) মারে যাকে, মালা করে তারেও পরে রয় রে!
(সেই) তামসিকও যায়রে তরে (মাকে) তামসী যে কয় রে।।

শাদী মোবারকবাদী শাদী মোবারক

বাণী

শাদী মোবারকবাদী শাদী মোবারক।
দেয় মোবারক-বাদ আলম রসুলে-পাক আল্লা হক।।
	আজ এ খুশির মাহফিলে
	দুলহা ও দুলহিনে মিলে
	মিলন হল প্রাণে প্রাণে
		মাশুক আর আশক।।
	আউলিয়া আম্বিয়া সবে
	এসো এ মিলন-উৎসবে,
	দোয়া কর আজ এ খুশির
		গুলিস্তান গুলজার হোক।।

নাটিকাঃ‘পুতুলের বিয়ে’

মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়

বাণী

কিশোরীরা		:	মোরা ফুটিয়াছি বঁধু হের তোমারি আশায়।
১ম কিশোরী	:	আমি অনুরাগ-রাঙা, আমি গোলাব-শাখায়।।
২য় কিশোরী	:	বন-কুন্তলে গরবী, আমি কানন-করবী।
৩য় কিশোরী	:	আমি সরসী-কমলা, আমি ষোড়শী কমলা
৪র্থ কিশোরী	:	আমি চম্পক খোঁপায়।।
				নিভিল আলেয়া-আলো পথ চলিতে,
প্রজাপতিদ্বয়	:	তোমরা আসিলে কি গো মন ছলিতে।
কিশোরীরা		:	মোরা অনির্বাণ-শিখা দীপ্তিমতী,
				আমরা কুসুম-রাঙা আমরা জ্যোতি।
প্রজাপতিদ্বয়	:	আমরা চাহি নাকো প্রেম, চাহি মোহিনী মায়ায়।।

নাটক : ‘আলেয়া’

আমার ভবের অভাব লয় হয়েছে

বাণী

(মা) আমার ভবের অভাব লয় হয়েছে শ্যামা-ভাব-সমাধিতে।
শ্যামা রসে যে-মন আছে ডুবে কাজ কিরে তার যশ-খ্যাতিতে।।
	মধু যে পায় শ্যামা-পদে,
	কাজ কিরে তার বিষয়-মদে;
যুক্ত যে মন যোগামায়াতে; ভাবনা কি তার রোগ ব্যাধিতে।।
কাজ কি’রে তার লক্ষ টাকায়, মোক্ষ লক্ষ্মী যাহার ঘরে,
কত রাজার রাজা প্রসাদ মাগে সেই ভিখারীর পায়ে ধরে।
ও মা শান্তিময়ী অন্তরে যার, দুঃখ শোকে ভয় কি রে তার
সে সদানন্দ সদাশিব জীবন্মুক্ত ধরণীতে।।

নন্দকুমার বিনে সই আজি বৃন্দাবন অন্ধকার

বাণী

নন্দকুমার বিনে সই আজি বৃন্দাবন অন্ধকার
				নাহি ব্রজে আনন্দ আর।
যমুনার জল দ্বিগুণ বেড়েছে ঝরি’ গোকূলে অশ্রুধার।।
শীতল জানিয়া মেঘ-বরণ শ্যামের শরণ লইয়া সই
তৃষিতা চাতকী জ্বলে মরি হায় বিরহ-দাহনে ভস্ম হই।
শীতল মেঘে অশনি থাকে
কে জানিত সখি সজল কাজল শীতল মেঘে অশনি থাকে।
ব্রজে বাজে না বেণু আর চরে না ধেনু
(আর) পড়ে না গোকুলে শ্যাম চরণ রেণু
তার ফেলে যাওয়া বাঁশি নিয়ে শ্রীদাম সুদাম
ধায় মথুরার পথে আর কাঁদে অবিরাম।
কৃষ্ণে না হেরি দূর বন পার উড়ে গেছে শুক সারি
কৃষ্ণ যেথায় সেই মথুরায় চলো যাই ব্রজনারী।।