এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে

বাণী

এ ঘোর শ্রাবণ-নিশি কাটে কেমনে।
রহি’ রহি’ সেই মুখ পড়িছে মনে।।
	বিজলিতে সেই আঁখি
	চমকিছে থাকি’ থাকি’
শিহরিত এমনি সে বাহু-বাঁধনে।।
শন শন বহে বায় সে কোথায় সে কোথায়
নাহি নাহি ধ্বনি শুনি উতল পবনে হায়
চরাচর দুলিছে অসীম রোদনে।।

এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো

বাণী

এ বাসি বাসরে আসিলে কে গো ছলিতে।
কেন পুন বাঁশি বাজালে কাফি ললিতে।। 
নিশীথ গভীরে কেন আঁখি-নীরে এলে ফিরে ফিরে
			গোপন কথা বলিতে।।
দলিত কুসুম-দলে রচিয়াছি শয়ন,
অন্ধ তিমির রাতি, নিভু নিভু নয়ন;
মরণ বেলায় প্রিয় আনিলে কি অমিয়,
এলে কি গো নিঠুর ঝরা ফুল দলিতে।।

সন্ধ্যামালতী যবে ফুলবনে ঝুরে

বাণী

সন্ধ্যামালতী যবে ফুলবনে ঝুরে
কে আসি’ বাজালে বাঁশি ভৈরবী সুরে।।
সাঁঝের পূর্ণ চাঁদে অরুণ ভাবিয়া
পাপিয়া প্রভাতী সুরে উঠিল গাহিয়া
ভোরের কমল ভেবে সাঁঝের শাপলা ফুলে
	গুঞ্জরে ভ্রমর ঘুরে’ ঘুরে’।।
বিকালের বিষাদে ঢাকা ছিল বনভূমি
সকালের মল্লিকা ফুটাইলে তুমি,
রাঙিয়া ঊষার রঙে গোধূলি-লগন
	শোনালে আশার বাণী বিরহ-বিধুরে।।

সুদূর সিন্ধুর ছন্দ উতল

বাণী

সুদূর সিন্ধুর ছন্দ উতল
আমরা কলগীতি চঞ্চল॥
তুফান ঝঞ্ঝা কল্লোল ছলছল
ঊর্ধ্বে আমি ঝড় বহি শন্‌শন্‌
মম বক্ষে তব মঞ্জির তোলে গো রণন্
আনন্দ চিত্তে মেতে উঠি নৃত্যে
গুরু গুরু গুরু বাজে বাদল মাদল॥
তুমি গগন তলে উঠি মেঘের ছলে
জল-বিম্বমালা বালা পরাও গলে।
তুমি বাদল হাওয়ায় কর আদন যখন
মোরে কান্না পাওয়ায়।
ধুলি গৈরিক ঝড়ে সাগর নীলাম্বরী
জড়াইয়া অপরূপ করে ঝলমল॥

নিশিদিন তব ডাক শুনিয়াছি মনে মনে

বাণী

নিশিদিন তব ডাক শুনিয়াছি মনে মনে
শ্রবণে শুনিনি আহ্বান তব পবনে শুনেছি বনে বনে।।
	হে বিরহী তব আতাস
	পাণ্ডু করেছে তোমার আকাশ
বিজনে তোমারে করিয়াছি ধ্যান শুধা যে ফিরিনি জনে জনে।।
সকলে যখন ঘুমায়ে পড়েছে আধ রাতে
স্মৃতি মঞ্জুষা খুলিয়া দেখেছি নিরালাতে।
	যদি তব ছবি ম্লান হয়ে যায়
	অশ্রু সলিলে ধুয়ে রাখি তায়
দেবতা তোমারে মৌন পূজায় নীরবে ধেয়াই নিরজনে।।

মেঘলা নিশি ভোরে

বাণী

মেঘলা নিশি ভোরে মন যে কেমন করে
তারি তরে গো মেঘ-বরণ যার কেশ।
বুঝি তাহারি লাগি’ হয়েছে বৈরাগী
গেরুয়া রাঙা গিরিমাটির দেশ।।

মৌরি ফুলের ক্ষেতে, মৌমাছি ওঠে মেতে
এলিয়েছিল কেশ কি গো তার এই পথে সে যেতে।
তার ডাগর চোখের ঝিলিক লেগে রাত হয়েছে শেষ (গো)।।

শিরিষ পাতায় ঝিরিঝিরি, বাজে নূপুর তারি
সোনাল ডালে দোলে তাহার কামরাঙা রঙ শাড়ি।
হয়েছি মন-ভিখারি কোন্‌ শিকারি আমি
উঠি পাহাড় চূড়ায়, ঝর্না জলে নামি
কালো পাথর দেখে জাগে কার চোখের আবেশ গো।।