চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না

বাণী

চেয়ো না সুনয়না আর চেয়ো না এ নয়ন পানে।
জানিতে নাইকো বাকি, সই ও আঁখি কি যাদু জানে।।
একে ঐ চাউনি বাঁকা সুর্মা আঁকা তা’য় ডাগর আঁখি রে
বধিতে তা’য় কেন সাধ? যে মরেছে ঐ নয়ন বাণে।
			মরেছে ঐ আঁখির বাণে।।
চকোর কি প’ড়ল ধরা পীযূষ ভরা ঐ মুখ-চাঁদে (রে),
কাঁদিছে নার্গিসের ফুল লাল কপোলের কমল-বাগানে।
জ্বলিছে দিবস রাতি মোমের বাতি রূপের দেওয়ালি (রে),
নিশিদিন তাই কি জ্বলি’ পড়ছ গলি’ অঝোর নয়ানে।
মিছে তুই কথার কাঁটায় সুর বিঁধে হায় হার গাঁথিস কবি (রে)।
বিকিয়ে যায় রে মালা এই নিরালা আঁখির দোকানে।।

রক্ষা-কালীর রক্ষা-কবচ আছে আমায় ঘিরে

বাণী

রক্ষা-কালীর রক্ষা-কবচ আছে আমায় ঘিরে
মায়ের পায়ের ফুল কুড়িয়ে বেঁধেছি মোর শিরে॥
	মা’র চরণামৃত খেয়ে
	অমৃতে প্রাণ আছে ছেয়ে,
দুঃখ অভাব ভাবনার ভার দিয়েছি মা ভবানীরে॥
তারা নামের নামাবলী জড়িয়ে আমার বুকে,
মায়ের কোলে শিশুর মত ঘুমাই পরম সুখে।
	মা’র ভক্তের চরণ ধূলি
	নিয়েছি মোর বক্ষে তুরি
মায়ের পূজার প্রসাদ পেতে আমি আসি ফিরে ফিরে॥

কত আর এ মন্দির দ্বার হে প্রিয় রাখিব খুলি

বাণী

	কত আর এ মন্দির দ্বার, হে প্রিয়, রাখিব খুলি'
	বয়ে যায় যে লগ্নের ক্ষণ, জীবনে ঘনায় গোধূলি।।
	নিয়ে যাও বিদায়-আরতি, হ'ল ম্লান আঁখির জ্যোতি;
	ঝরে যায় শুষ্ক স্মৃতির মালিকা-কুসুমগুলি।।
	কত চন্দন ক্ষয় হ'ল হায়, কত ধূপ পুড়িল বৃথায়;
	নিরাশায় সে পুষ্প কত ও পায়ে হইল ধূলি।।
ও	বেদী-তলে কত প্রাণ — হে পাষাণ নিলে বলিদান;
	তবু হায় দিলে না দেখা — দেবতা, রহিলে ভুলি'।।

এসো মা ভারত-জননী আবার

বাণী

এসো	মা ভারত-জননী আবার জগৎ-তারিণী সাজে।
	রাজরানী মা’র ভিখারিনী বেশ দেখে প্রাণে বড় বাজে॥
		শিশু-জগতেরে মায়ের মতন,
		তুমি মা প্রথম করিলে পালন,
আজ	মাগো তোরই সন্তানগণ কাঁদিছে দৈন্য-লাজে॥
		আঁধার বিশ্বে তুমি কল্যাণী
		জ্বালিলে প্রথম জ্ঞান-দীপ আনি;
	হইলে বিশ্ব-নন্দিতা রানী নিখিল নর-সমাজে॥
		দেখা মা পুন সে অতীত মহিমা,
		মুছে দে ভীরুতা গ্লানির কালিমা,
	রাঙায়ে আবার দশদিক-সীমা দাঁড়া মা বিশ্ব-মাঝে॥

ও কে মুঠি মুঠি আবীর কাননে ছড়ায়

বাণী

ও কে মুঠি মুঠি আবীর কাননে ছড়ায়
রাঙা-হাসির পরাগ-ফুল আননে ঝরায়।।
তার রঙের আবেশ লাগে চাঁদের চোখে
তার লালসার রঙ জাগে রাঙা অশোকে
তার রঙিন নিশান দোলে কৃষ্ণ চূড়ায়।।
তার পুষ্প ধনু দোলে শিমূল শাখায়
তার কানা কাঁপে গো ভোমরা পাখায়,
সে খোঁপাতে বেল-ফুলের মালা জড়ায়।।
সে কুসমী শাড়ি পরায় নীল বসনায়
সে আঁধার মনে জ্বালে লাল রোশনাই
সে শুকনো বনে ফাগুন আগুন ধরায়।।

আমার কথা লুকিয়ে থাকে

বাণী

আমার কথা লুকিয়ে থাকে আমার গানের আড়ালে।
সেই কথাটি জানার লাগি’ কে গো এসে দাঁড়ালে।।
	শূন্য মনের নাই কেহ মোর সাথি
	গান গেয়ে তাই কাটাই দিবারাতি,
সেই হৃদয়ের গভীর বনে কে তুমি পথ হারালে।।
হৃদয় নিয়ে নিদয় খেলার হয় যেখানে অভিনয়,
চেও না সেই হাটের মাঝে আমার মনের পরিচয়।
	যে বেদনার আগুন বুকে ল’য়ে
	জ্বলি আমি প্রদীপ-শিখা হ’য়ে,
সেই বেদনা জুড়াতে মোর কে তুমি হাত বাড়ালে।।

গীতিচিত্র: ‘অতনুর দেশ’