মাগো আমি তান্ত্রিক নই

বাণী

মাগো আমি তান্ত্রিক নই তন্ত্র মন্ত্র জানি না মা।
আমার মন্ত্র যোগ-সাধনা ডাকি শুধু শ্যামা শ্যামা।।
	যাই না আমি শ্মশান মশান
	দিই না পায়ে জীব বলিদান,
খুঁজতে তোকে খুজি না মা অমাবস্যা ঘোর ত্রিযামা।।
ঝিল্লী যেমন নিশীথ রাতে একটানা সুর গায় অবিরাম
তেমনি করে নিত্য আমি জপি শ্যামা তোমারি নাম।
	শিশু যেমন অনায়াসে
	জননীরে ভালোবাসে,
তেমনি সহজ সাধনা মোর তাতেই পাব তোর দেখা মা।।

একাকিনী বিরহিণী জাগি আধো রাতে

বাণী

একাকিনী বিরহিণী জাগি আধো রাতে।
বঁধু নাহি পাশে, নিদ নাহি আসে,
কণ্টক ফোটে হায় ফুল-বিছানায়।
আবার ফুটিবে ফুল উঠিবে চাঁদ,
আমারি মনের হায় মিটিল না সাধ,
যামিনীর ফুল যেন এ রূপ-যৌবন
নিশীথে ফুটিয়া লাজে ঝ’রে যায় প্রাতে।।

নাটক : ‘দেবী দুর্গা’

আমার ভবের অভাব লয় হয়েছে

বাণী

(মা) আমার ভবের অভাব লয় হয়েছে শ্যামা-ভাব-সমাধিতে।
শ্যামা রসে যে-মন আছে ডুবে কাজ কিরে তার যশ-খ্যাতিতে।।
	মধু যে পায় শ্যামা-পদে,
	কাজ কিরে তার বিষয়-মদে;
যুক্ত যে মন যোগামায়াতে; ভাবনা কি তার রোগ ব্যাধিতে।।
কাজ কি’রে তার লক্ষ টাকায়, মোক্ষ লক্ষ্মী যাহার ঘরে,
কত রাজার রাজা প্রসাদ মাগে সেই ভিখারীর পায়ে ধরে।
ও মা শান্তিময়ী অন্তরে যার, দুঃখ শোকে ভয় কি রে তার
সে সদানন্দ সদাশিব জীবন্মুক্ত ধরণীতে।।

অগ্নি-গিরি ঘুমন্ত উঠিল জাগিয়া

বাণী

অগ্নি-গিরি ঘুমন্ত উঠিল জাগিয়া।
বহ্নি-রাগে দিগন্ত গেল রে রাঙিয়া॥
রুদ্র রোষে কি শঙ্কর উর্ধ্বের পানে
লক্ষ-ফণা ভুজঙ্গ-বিদ্যুৎ হানে
দীপ্ত তেজে অনন্ত-নাগের ঘুম ভাঙিয়া॥
লঙ্কা-দাহন হোমাগ্নি সাগ্নিক মন্ত্র
যজ্ঞ-ধূম বেদ-ওঙ্কার ছাইল অনন্ত।
খড়গ-পাণি শ্রীচন্ডী অরাজক মহীতে
দৈত্য নিশুম্ভ-শুম্ভে এলো বুঝি দহিতে,
বিশ্ব কাঁদে প্রেম-ভিক্ষু আনন্দ মাগিয়া॥

রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি

বাণী

রাত্রি-শেষের যাত্রী আমি যাই চ’লে যাই একা।
শুকতারাতে রইল আমার চোখের জলের লেখা।।
	ফোটার আগে ঝরে যে ফুল
	সঙ্গী আমার সেই সে-মুকুল,
ছায়াপথে জাগে আমার বিদায় পথ-রেখা।।
অনেক ছিল আশা আমার অনেক ছিল সাধ,
ব্যর্থ হ’ল না পেয়ে কা’র আাঁখির পরসাদ।
	দীপ নেভানো শূন্য ঘরে
	এসো না আর খুঁজতে মোরে,
তারার দেশে চন্দ্রলোকে হবে আবার দেখা।।

পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া

বাণী

		পুবান হাওয়া পশ্চিমে যাও কাবার পথে বইয়া
		যাও রে বইয়া এই গরিবের সালামখানি লইয়া।।
		কাবার জিয়ারতের আমার নাই সম্বল ভাই
		সারা জনম সাধ ছিল যে মদিনাতে যাই (রে ভাই)
		মিটল না সাধ, দিন গেল মোর দুনিয়ার বোঝা বইয়া।।
(তোমার)	পানির সাথে লইয়া যাও রে আমার চোখের পানি
		লইয়া যাও রে এই নিরাশের, দীর্ঘ নিশাসখানি।
		নবীজীর রওজায় কাঁদিও ভাই রে আমার হইয়া।।
		মা ফাতেমা হজরত আলীর মাজার যথায় আছে
আমার	সালাম দিয়া আইস তাদের পায়ের কাছে (রে ভাই!)
		কাবায় মোনাজাত করিও আমার কথা কইয়া।।