আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়

বাণী

	আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়, চাঁদ নেহারিয়া প্রিয়
	মোরে যদি মনে পড়ে, বাতায়ন বন্ধ করিয়া দিও।।
		সুরের ডুরিতে জপমালা সম
		তব নাম গাঁথা ছিল প্রিয়তম,
	দুয়ারে ভিখারি গাহিলে সে গান, তুমি ফিরে না চাহিও।।
	অভিশাপ দিও, বকুল-কুঞ্জে যদি কুহু গেয়ে ওঠে,
	চরণে দলিও সেই যুঁই গাছে আর যদি ফুল ফোটে।
		মোর স্মৃতি আছে যা কিছু যেথায়
		যেন তাহা চির-তরে মুছে যায়,
(মোর)	যে ছবি ভাঙিয়া ফেলেছ ধূলায় (তারে) আর তু’লে নাহি নিও।।

কী দশা হয়েছে মোদের দেখ্ মা উমা আনন্দিনী

বাণী

কী দশা হয়েছে মোদের দেখ্ মা উমা আনন্দিনী।
তোর বাপ হয়েছে পাষাণ গিরি, মা হয়েছে পাগলিনী।।
	(মা)	এ দেশে আর ফুল ফোটে না
		গঙ্গাতে আর ঢেউ ওঠে না
তোর হাসি-মুখ দেখলে যে মা পোহায় না মোর নিশীথিনী।।
আর যাবি না ছেড়ে মোদের বল্ মা আমায় কন্ঠ ধরি
সুর যেন তার না থামে আর বাজালি তুই যে বাঁশরি।।
	(মা)	না পেলে তুই শিবের দেখা
		রইতে যদি নারিস্ একা,
আমি শিবকে বেঁধে রাখব মা গো হয়ে শিব-পূজারিণী।।

আবার কি এলো রে বাদল

বাণী

আবার কি এলো রে বাদল।
ল’য়ে পিঠভরা এলোচুল, চোখ ভরা জল।।
তৃষিত গগনের তৃষ্ণা কি মিটিল
কৃষ্ণা-প্রিয়ায় পেয়ে হিয়া কি তিতিল,
কাহার বিরহ-দাহন জুড়াল,
মোর মত কা’র নিশি হইল বিফল।।
ফুটিল কি কদম কেয়া,
দোলে, কা’র বুকে ফুল, কা’র নয়নে দেয়া।
কে গেল অভিসারে, কে কাঁদে ভবনে
কা’র দীপ নিভে গেল দুরন্ত পবনে,
কণ্ঠ-লগ্না কা’র কান্তা ঘুমায়
মোর মত কা’র বুকে জ্বলিছে অনল।।

ডেকে ডেকে কেন তারে ভাঙালি ঘুমের ঘোর

বাণী

ডেকে ডেকে কেন তারে ভাঙালি ঘুমের ঘোর
	কেন ভাঙালি
স্বপনে মোর এসেছিল, সখি, স্বপন কুমার মনচোর
	কেন ভাঙালি ঘুমের ঘোর।।
সে যেন লো পাশে ব'সে কহিল হেসে হেসে
‌‘যাব না আর পরদেশে’, সখি, মোছ মোছ আঁখিলোর’।।
দেখালো তার হৃদয় খুলি’, কহিল : ‌‘হের প্রিয়ে
তোমার অধিক ব্যথা হেথায় তোমারে ব্যথা দিয়ে।’
জানি না মোর হিয়ার চেয়েও অধিক ক্ষত তার হৃদয়
সে হৃদয়ে আমার ছবি, সকল হিয়া আমি-ময়।
তাহার জীবন-মালারি মাঝে, সখি, আমি যেন সোনার ডোর।।
আমি কহিনু, বুঝেছি সখা তোমার এ দুখ দেওয়ার ছল,
ভালোবাসার ফুল না শুকায় তুমি তাই চাহ মোর চোখেরই জল’।
জেগে দেখি কেঁদে কেঁদে, সখি, ভিজেছে বুকের আঁচল।।

সখি গো বৃথা প্রবোধ দিস্‌নে ললিতে

বাণী

সখি গো বৃথা প্রবোধ দিস্‌নে ললিতে
কোন্ প্রাণে তুই বলতে পারিলি মোর শ্রীকৃষ্ণে ভুলিতে।।
সেই নন্দপুরের চন্দ্র বিহনে নাহি আনন্দ মোর।
তারে না হেরিলে তিলেকের তরে বাঁচে না চিত-চকোর।।
বলে দে বলে দে কোথা আমার প্রাণসখা
				ভাসি আমি আঁখি-নীরে 
কেঁদে কেঁদে অন্ধ হলাম ভাসি আমি আঁখি-নীরে।
সখি, এই তো আমার সাধনা
আমার মত জগত কাঁদুক, এই তো আমার কামনা।।
কাঁদতে হবে — 
যে হরিরে মোর হরিবে, তায় রাধার মত কাঁদতে হবে।
সে কৃষ্ণ কৃষ্ণ বলে চিরজীবন কাঁদবে ভবে।
সখি কাঁদলে তারে যায় না পাওয়া
তাহলে সখি আমি পেতাম 
যদি কাঁদলে তারে পাওয়া যেত যশোমতী তারে হারাত না।
সে যে প্রেমের চির-কাঙাল 
প্রেম বিনে তায় যায় না পাওয়া।

পরান-প্রিয় কেন এলে অবেলায়

বাণী

পরান-প্রিয়! কেন এলে অবেলায়
শীতল হিমেল বায়ে ফুল ঝ’রে যায়।।
	সেদিনও সকাল বেলা
	খেলেছি কুসুম–খেলা,
আজি যে কাঁদি একেলা ভাঙ্গা এ মেলায়।।