কোথায় তখত তাউস কোথায় সে বাদশাহী

বাণী

কোথায় তখত তাউস, কোথায় সে বাদশাহী।
কাঁদিয়া জানায় মুসলিম ফরিয়াদ ইয়া ইলাহী।।
কোথায় সে বীর খালিদ, কোথায় তারেক মুসা
নাহি সে হজরত আলী, সে জুলফিকার নাহি।।
নাহি সে উমর খত্তাব, নাহি সে ইসলামী জোশ
করিল জয় যে দুনিয়া, আজি নাহি সে সিপাহি।।
হাসান হোসেন সে কোথায়, কোথায় বীর শহীদান —
কোরবানি দিতে আপনায় আল্লার মুখ চাহি'।।
কোথায় সে তেজ ঈমান, কোথায় সে শান-শওকত,
তকদীরে নাই সে মাহতাব, আছে প'ড়ে শুধু সিয়াহি।।

আমার ঘরের পাশ দিয়ে সে

বাণী

আমার ঘরের পাশ দিয়ে সে চলতো নিতুই সকাল-সাঁঝে।
আর এ পথে চলবে না সে, সেই ব্যথা হায় বক্ষে বাজে।।
আমার দ্বারের কাছটিতে তার ফুটতো লালী গালের টোলে,
টলতো চরণ, চাউনি বিবশ, কাঁপতো নয়ন-পাতার কোলে —
					কুঁড়ি যেমন খোলে গো!
কেউ কখনো কইনি কথা, কেবল নিবিড় নীরবতা
সুর বাজাতো অনাহতা গোপন মরম-বীণার মাঝে।।
মূক পথের আজ বুক ফেটে যায় স্মরি’
	তারি পায়ের পরশ বুক-খসা তার আঁচর-চুমু,
রঙিন ধুলো পাংশু হ’ল, ঘাস শুকোলো যেচে’
	বাচাল যোড়-পায়েলার রুমু-ঝুমু।
আজো আমার কাটবে গো দিন রোজই যেমন কাটতো বেলা,
একলা ব’সে শূন্য ঘরে — তেমনি ঘাটে ভাসবে ভেলা —
					অবহেলা হেলা-ফেলায় গো!
	শুধু সে আর তেমন ক’রে
	মন র’বে না নেশায় ভ’রে
আসার আশায় সে কার তরে সজাগ হ’য়ে সকল কাজে।
ডুকরে কাঁদে মন-কপোতী ‘কোথায় সাথির কূজন বাজে?
					সে-পার ভাষা কোথায় রাজে।।

মনে যে মোর মনের ঠাকুর তারেই আমি

বাণী

মনে যে মোর মনের ঠাকুর তারেই আমি পূজা করি,
আমার দেহের পঞ্চভূতের পঞ্চপ্রদীপ তুলে ধরি।।
	ফকির যোগী হয়ে বনে
	ফিরি না তার অন্বেষণে
আমি	মনের দুয়ার খুলে দেখি রূপের জোয়ার মরি মরি।।
	আছেন যিনি ঘিরে আমায়
	তারে আমি খুঁজব কোথায়
সাগরে খুঁজে বেড়াই সাগর বুকে ভাসিয়ে তরী।
	মন্দিরের ঐ বন্ধ খোঁপে
	ঠাকুর কি রয় পূজার লোভে?
পেতে রাখি ভক্তি বেদী আসবে নেমে প্রেমের হরি।।

ও সে বাঁশরি বাজায়

বাণী

ও সে		বাঁশরি বাজায় হেলে দুলে যায়
		গোঠে শ্যামরায় নওল কিশোর।
		জোছনা পিয়াসে চাঁদ মুখ পাশে।
		ঘোরে গোপিনীর নয়ন-চকোর।।
		নীল উৎপল ভ্রমে মধুকর
		উড়ে চলে সাথে, ছাড়ি’ সরোবর,
		অঙ্গে গোপী-চন্দন বাস
		লুটিয়া পলায় সমীর-চোর।।
		চরণ-কমলে ভ্রমরের প্রায় —
		সোনার নূপুর গুঞ্জরিয়া যায়।
		শ্যামেরে নবীন নীরদ ভাবিয়া
		নাচিছে ময়ূর কলাপ মেলিয়া,
		ঢেউ তুলে যেন চলে রূপের সায়র।।

প্রণমি তোমায় বনদেবতা

বাণী

প্রণমি তোমায় বনদেবতা।
শাখে শাখে শুনি তব ফুল-বারতা — দেবতা।।
তোমার ময়ূর তোমার হরিণ
লীলা-সাথী রয় নিশিদিন,
বিলায় ছায়া বাণী-বিহীন —
		তরু ও লতা — দেবতা।।

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে

বাণী

খুলেছে আজ রঙের দোকান বৃন্দাবনে হোরির দিনে।
প্রেম-রঙিলা ব্রজ-বালা যায় গো হেথায় আবির কিনে।।
	আজ গোকুলের রঙ মহলায়
	রামধনু ঐ রঙ পিয়ে যায়
সন্ধ্যা-সকাল রাঙতো না গো ঐ হোরির কুমকুম বিনে।।
রঙ কিনিতে এসে সেথায় রব শশী আকাশ ভেঙে'
এই ফাগুনী ফাগের রাগে অশোক শিমুল ওঠে রেঙে'।
আসে হেথায় রাধা-মাধব এই রঙেরই পথ চিনে।।