সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়

বাণী

		সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়
(সখি)	আকুল তাহার আঁখি দুটি কাহার পানে চায়॥
		সই যা না লো দাঁড়ায়ে, কাঁটা বিঁধেছে মোর পায়ে
		তোরা দাঁড়া সখি ক্ষণেক, (সখি) ওকি হাসিস্ কেন হায়॥
		আমার কলসিটি যে ভারি, ডালে বেঁধেছে মোর শাড়ি
		তোরা বলিস ছলে হেরি ওরে (ওলো) ছি ছি একি দায়!
		যদি হেরেই থাকি ওরে, তোরা দুষিস্ কেন মোরে
ওলো		আমার আমি বশে নাই মোর (পাগল) আঁখির নেশায়॥

ফিরে এসো ফিরে এসো প্রিয়তম

বাণী

ফিরে এসো ফিরে এসো প্রিয়তম
তেমনি চাহিয়া আছে নিশীথের তারাগুলি।
লতা-নিকুঞ্জে কাঁদে আজো বন-বুলবুলি।।
ঘুমায়ে পড়েছে সবে, মোর ঘুম নাহি আসে
তুমি যে ঘুমায়েছিলে সেদিন আমার পাশে
সাজানো সে গৃহ তব, ঢেকেছে পথের ধূলি।।
আমার চোখের জলে মুছে যায় পথ-রেখা
রোহিনী গিয়াছে চলি' চাঁদ কাঁদে একা-একা
কোন দূর তারালোকে কেমনে রয়েছ ভুলি'।।

এ কোথায় আসিলে হায়

বাণী

এ কোথায় আসিলে হায়, তৃষিত ভিখারি।
হায়, পথ-ভোলা পথিক, হায়, মৃগ মরুচারী।।
	মোর ব্যথায় চরণ ফেলে
	চির-দেবতা কি এলে,
হায়, শুকায়েছে যবে মোর নয়নে নয়ন-বারি।।
তোমার আসার পথে প্রিয় ছিলাম যবে পরান পাতি’,
সেদিন যদি আসিতে নাথ হইতে ব্যথার ব্যথী।
ধোওয়ায়ে নয়ন-জলে পা মুছাতাম আকুল কেশে
আজ কেন দিন-শেষে এলে নাথ মলিন বেশে!
হায়, বুকে ল’য়ে ব্যথা আসিলে ব্যথা-হারী।।
স্মৃতির যে শুকানো মালা যতনে রেখেছি তুলি’
ছুঁয়ে সে হার ঝরায়ো না ম্লান তার কুসুমগুলি,
হায়, জ্বলুক বুকে চিতা, তা’য় ঢেলো না আর বারি।।

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান

বাণী

বিদায় বেলায় করুণ সুরে গাইছ কেন গান।
সুরের সাথে হল আকুল পাষাণ পরান।।
	আজকে ব্যথায় উঠল ভ’রে
	মালার কুসুম পড়ল ঝ’রে,
পরান আমার কেমন করে নেবে তব দান।।
	বৃথায় ফুলে সাজাও মোরে
	ভাসাও যত নয়ন লোরে,
প্রাণের ঠাকুর ডাকেন মোরে কাঁদে মম প্রাণ।।

আমি চাই পৃথিবীর ফুল ছায়া

বাণী

ঝর্না	: আমি চাই পৃথিবীর ফুল ছায়া ঢাকা ঘরে খেলা।
ব্রহ্মপুত্র	: আমি চাই দূর আকাশের তারা সাগরে ভাসাতে ভেলা।।
ঝর্না	: আমি চাই আয়ু, চাই আলো প্রাণ
ব্রহ্মপুত্র	: মরণের মাঝে মোর অভিযান,
উভয়ে	: মোরা একটি বৃন্তে যেন দু’টি ফুল প্রেম আর অবহেলা।।
ব্রহ্মপুত্র	: আমি বাহির ভুবনে ছুটে যেতে চাই উদাসীন সন্ন্যাসী,
ঝর্না	: হে উদাসীন! তব তপোবনে তাই উর্বশী হয়ে আসি।
ব্রহ্মপুত্র	: মোর ধ্বংসের মাঝে উল্লাস জাগে
ঝর্না	: তাই বাঁধি নিতি নব অনুরাগে,
উভয়ে	: মোরা চিরদিন খেলি এই খেলা, গ’ড়ে তোলা ভেঙে ফেলা।।

নাটক : `হরপার্বতী’ (ঝর্না ও ব্রহ্মপুত্রের দ্বৈত গান)

তোমা বিনা মাধব রহিতে পারি না

বাণী

তোমা বিনা মাধব রহিতে পারি না আর।
বায়ু বিনা যেমন বাঁচে না জীবন তেমনি আপন তুমি যে আমার॥
	মেঘ বিনা চাতকিনী মরে যায়,
	জল বিনা যেমন শতদল ঝরে যায়,
তিল্ তিল্ করি মরিতেছি আমি যে তেমনি বিরহে তোমার॥
তুমি ছাড়া প্রীতম্ মনে হয় কেহ মোর নাহি এ নিখিলে;
নিভে গেছে রবি-শশী, ডুবে গেছে পৃথিবী প্রলয়-সলিলে।
আর সকলের, তুমি প্রভু, ধ্রুব-জ্যোতি;
			কৃষ্ণ নয়ন-তারা তুমি যে মীরার॥