আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি

বাণী

আসিলে এ ভাঙা ঘরে কে মোর রাঙা অতিথি।
হরষে বরিষে বারি শাওন-গগন তিতি'।।
বকুল-বনের সাকি নটীন পুবালি হাওয়া
বিলায় সুরভি-সুরা মাতায় কানন-বীথি।।
তিতির শিখীর সাথে নোটন-কপোতী নাচে;
ঝিঁঝির ঝিয়ারি গাহে ঝুমুর কাজরি-গীতি।
হিঙুল হিজল-তলে ডাহুক পিছল-আঁখি,
বধূর তমাল-চোখে ঘনায় নিশীথ-ভীতি।
তিমির-ময়ুর আজি তারার পেখম খোলে
জড়ায় গগন-গলে চাঁদের ষোড়শী তিথি।।

যেদিন লব বিদায়

বাণী

		যেদিন লব বিদায় ধরা ছাড়ি প্রিয়ে।
		ধুয়ো ‘লাশ’ আমার লাল পানি দিয়ে।।
শেয়র:	শারাবী জমশেদী গজল ‘জানাজায়’ গাহিও আমার
		দিবে গোর খুঁড়িয়া মাটি খারারী ঐ শারাব-খানার!
		‘রোজ-কিয়ামতে’ তাজা উঠব জিয়ে।।
শেয়র:	এমনি পিইব শারাব ভেসে যাব তাহার স্রোতে,
		উঠিবে খুশবু শারাবের আমার ঐ গোরের পার হতে;
		টলি’ পড়বে পথিক সে নেশায় ঝিমিয়ে।।

কানাই রে কই তোর চূড়া বাঁশরি

বাণী

নিত্যানন্দ	:	কানাই রে কই তোর চূড়া বাঁশরি!
			তুই নাকি সেই নন্দদুলাল এলি নদীয়ায় ব্রজ পাশরি’।।
নিমাই		:	কি পুছসি আমারে ভাই
			এবার চূড়া বাঁশরি নাই,
			ব্রজের খেলা বাঁশির তান
			ন’দের খেলা হরি-গান।
			ব্রজের বেশ ধড়াচূড়া
			ন’দের বেশ কৌপীন পরা,	
			ব্রজের খেলা রাখাল হয়ে,
			ন’দের খেলা ধূলি ল’য়ে।
নিত্যানন্দ	:	নদীয়াতে বিষ্ণুপ্রিয়া, ব্রজের রাইকিশোরী।।

নাটক : ‘বিষ্ণুপ্রিয়া’ (নিত্যানন্দ ও নিমাইয়ের গান)

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ

বাণী

সৈয়দে মক্কী মদনী আমার নবী মোহাম্মদ
করুণা-সিন্ধু খোদার বন্ধু নিখিল মানব-প্রেমাস্পদ।।
আদম নূহ, ইব্রাহিম দাউদ সোলেয়মান মুসা আর ঈসা,
সাক্ষ্য দিল আমার নবীর, সবার কালাম হ'ল রদ।
যাঁহার মাঝে দেখল জগৎ ইশারা খোদার নূরের,
পাপ-দুনিয়ায় আনলো যে রে, পুণ্য বেহেশতী সনদ।।
হায় সিকান্দর খুঁজল বৃথাই আব-হায়াত এই দুনিয়ায়
বিলিয়ে দিল আমার নবী, সে সুধা মানব সবায়।
হায় জুলেখা মজল ঐ ইউসুফেরই রূপ দেখে,
দেখলে মোদের নবীর সুরত, যোগীন হত ভসম মেখে'।
শুনলে নবীর শিঁরিন জবান, দাউদ মাগিত মদদ।।
ছিল নবীর নূর পেশানিতে, তাই ডুবল না কিস্তি নূহের
পুড়ল না আগুনে হযরত ইব্রাহিম সে নমরুদের
হায়, দোজখ আমার হারাম হ'ল পিয়ে কোরানের শিঁরিন শ্যহদ।।

সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে

বাণী

সতী–হারা উদাসী ভৈরব কাঁদে।
বিষাণ ত্রিশূল ফেলি’ গভীর বিষাদে।।
	জটাজুটে গঙ্গা
	নিস্তরঙ্গা,
রাহু যেন গ্রাসিয়াছে ললাটের চাঁদে।।
দুই করে দেবী–দেহ ধরি’ বুকে বাঁধে,
রোদনের সুর বাজে প্রণব–নিনাদে।
ভক্তের চোখে আজি ভগবান শঙ্কর —
সুন্দরতর হ’ল – পড়ি’ মায়া ফাঁদে।।

ওলো বিশাখা ওলো ললিতে

বাণী

		ওলো বিশাখা, ওলো ললিতে, দে এই পথের ধূলি দে।
		যে পথে শ্যামের রথ চ’লে গেছে, দে সেই পথের ধূলি দে।।
আখর	:	[ধুলি নয় ধুলি নয়, এ যে হরি-চন্দন ধূলি নয়,
		এ যে হরি-চন্দন, অঙ্গ শীতল করা।
		ওর ভাগ্য ভালো, রাধার চেয়ে ওর ভাগ্য ভালো —
		ঐ, ধূলি মাথায় তুলে দে লো।]
		ঐ পথের বুকে গেছে কৃষ্ণের রথ, সখী আমি কেন হই নাই ঐ ধূলি-পথ।
আখর	:	[বধূ, চ’লে যে যেত গো আমার, হিয়ার উপর দিয়া চ’লে যে যেত
		আমার, সকল জনম সফল হ’ত, চ’লে যে যেত গো]
		অনুরাগের রজ্জু দিয়া বাঁধিতাম সে-রথে
		নিয়ে যেতাম সে-রথ প্রেমপথে (ওলো ললিতে)
আখর	:	[নিয়ে যেতাম, অনুরাগ-রজ্জুতে বেঁধে,
		প্রেমের পথে, অনুরাগ-রজ্জুতে বেঁধে।