যাবি কে মদিনায় আয়

বাণী

যাবি কে মদিনায় আয় ত্বরা করি'।
তোর খেয়া ঘাটে এলো পুণ্য তরী।।
আবুবকর, উমর খাত্তাব, উসমান, আলী হায়দর
দাঁড়ি এ সোনার তরণীর, পাপী সব নাই নাই আর ডর।
এ তরীর কাণ্ডারি আহমদ, পাকা সব মাঝি ও মাল্লা,
মাঝিদের মুখে সারিগান শোন ঐ 'লা শরীক আল্লাহ'।
পাপ-দরিয়ার তুফানে আর নাহি ডরি।।
ঈমানের পারানি কড়ি আছে যার আয় এ সোনার নায় —
ধরিয়া দ্বীনের রশি কলেমার জাহাজ-ঘাটায়।
ফিরদাউস হ’তে ডাকে হুরী-পরী।।

পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে চল গো

বাণী

পান্‌সে জোছ্‌নাতে কে			চল গো পানসি বেয়ে’।
ঢেউ-এর তালে তালে			বাঁশিতে গজল গেয়ে’।।
মেঘের ফাঁকে ফোটে			বাঁকা শশীর চিকন হাসি,
উজান বেয়ে চল			তুমি কি তার চোখে চেয়ে।।
ও-পারে লুকায়ে আঁধার		গভীর ঘন বন-ছায়,
আকাশে হেলান দিয়ে			আলসে পাহাড় ঘুমায়।
ঘুমায়ে দূরে সে কোন গ্রাম		বাসরে পল্লী-বধূর প্রায়
এ-পারে ধূ-ধূ বালুচর			যেন নদীর আঁচল লুটায়।
ছাড়ি’ এ সুখ-বাস			চলেছ কোথায় গো নেয়ে।।
নদীর দু’তীরে টানে			বেতস-লতা উত্তরীয়,
চমকি’ উঠি’ চখি			ডাকে মুহু মুহু ‘কিও!’
চকোরী চাঁদে ভুলি’			চাহে তব মুখপানে,
কেঁদে পাপিয়া শুধায়,			‘পিউ কাঁহা, কাঁহা পিও।’
তুমি যাও আপন-বিভোল		স্বপনে নয়ন ছেয়ে’।।

কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি

বাণী

কে দুয়ারে এলে মোর তরুণ ভিখারি
কি যাচে ও আঁখি বুঝিতে যে নারি॥
হৃদি প্রাণ মন বিভব রতন
ডারিনু চরণে লহ পথচারী॥
দুয়ারে মোর নিতি গেয়ে যায় যে গীতি
নিশিদিন বুকে বেঁধে তারি স্মুতি।
কি দিয়ে এ ব্যথা নিবারিতে পারি॥
মিলন বিরহ যা চাও প্রিয় লহ
দাও ভিখারিনী বেশ দাও ব্যথা অসহ
মোর নয়নে দাও তব নয়ন বারি॥

নাটকঃ ‘আলেয়া’

থির হয়ে তুই ব’স দেখি মা

বাণী

থির হয়ে তুই ব’স দেখি মা খানিক আমার আঁখির আগে
দেখব নিত্য লীলাময়ী থির হলে তুই কেমন লাগে।।
	শান্ত হ’লে ডাকাত মেয়ে
	কেমন দেখায় দেখব চেয়ে (মা গো)
চিন্ময় শিব শম্ভু কেন চরণ-তলে শরণ মাগে।।
দেখব চেয়ে জননী তুই সাকারা না নিরাকারা
কেমন করে কালি হয়ে নামে ব্রক্ষ্মজ্যোতিধারা।
	কোলে নিতে কোলের ছেলে
	শ্মশান জাগিস বাহু মেলে
কেমন ক’রে মহামায়া তোর বুকে মায়া জাগে।।

তোমার নাম নিয়ে খোদা আমি যে কাজ করি

বাণী

		তোমার নাম নিয়ে খোদা আমি যে কাজ করি।
		আমার তা’তে নাই লাজ ভয় মরি কিম্বা তরি।।
		আমার ভালো মন্দ তুমি খোদা জানো,
(তাই)	দুখের শমন দিয়ে এমন বুকের কাছে টানো, (খোদা)
(আমি)	দুঃখ দেখে তোমার থেকে না যেন যাই সরি’।।
		সুখ-দুঃখ যশ নিন্দা মান ও অপমান
		আমার ব’লে নাইতো কিছু সবই তোমার দান,
(যত)		বাইরে আঘাত আসে তত তোমায় যেন ধরি।।
(এই)		ফেরেববাজীর দনিয়া ভরা কেবল মায়া ফাঁকি
(তাই)	তোমার নামের বাতি জ্বেলে বুকের কাছে রাখি,
		ঐ নামের আঁচের আমি যেন মোমের মত ঝরি।
খোদা		তোমার প্রেমে গ’লে যেন মোমের মত ঝরি।।

উপল নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে

বাণী

উপল নুড়ির কাঁকন চুড়ি বাজে
	বাজে ঘুমতি নদীর জলে।
বুনো হাঁসের পাখার মত মন যে ভেসে চলে
	সেই ঘুমতি নদীর জলে।।
মেঘ এসেছে আকাশ ভ'রে —
যেন শ্যামল ধেনু চরে
নাগিনীর সম বিজলি-ফনা তুলে
	নাচে,নাচে নাচে রে।
	মেঘ-ঘন গগন তলে।।
পাহাড়িয়া অজগর ছুটে আসে ঝর্‌ ঝর্‌ বেনো-জল্‌
দিয়ে করতালি প'রে পিয়াল পাতার মাথালি
ছিটায় জল,গেঁয়ো কিশোরীর দল।
রিনিক,ঝিনিক,বাজে চাবি আঁচলে
কাল নাগিনীর মত পিঠে বেনী দোলে
তীর-ধনুক হাতে বন-শিকারির সাথে
	মন ছুটে যায় বনতলে।।