জাগো জাগো শঙ্খ চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী

বাণী

জাগো জাগো শঙ্খ চক্র-গদা-পদ্ম-ধারী 
জাগো শ্রীকৃষ্ণ-তিথির তিমির অপসারি’।।
	ডাকে বসুদেব দেবকী ডাকে
	ঘরে ঘরে, নারায়ণ, তোমাকে।
ডাকে বলরাম শ্রীদাম সুদাম ডাকিছে যমুনা-বারি।।
	হরি হে, তোমায় সজল নেত্রে
	ডাকে পাণ্ডব কুরুক্ষেত্রে!
দুঃশাসন সভায় দ্রৌপদী ডাকিছে লজ্জাহারী।।
	মহাভারতের হে মহাদেবতা
	জাগো জাগো, আনো আলোক-বারতা!
ডাকিছে গীতার শ্লোক অনাগতা বিশ্বের নর-নারী।।

সখি বল কোন দেশে যাই

বাণী

সখি বল কোন দেশে যাই।
সে বৃন্দা আছে সে বন আছে তবু সে বৃন্দাবন নাই —
গোবিন্দ বিনে লো বৃন্দে (বৃন্দে গো) রাধার বৃন্দাবন হয়েছে আঁধার।
বনে সীতার ছিল যে রাম, মোর বনে নাই ঘনশ্যাম।
আমি কি লয়ে থাকি, কেন দেহ রাখি।
পিঞ্জর আছে প'ড়ে, নাই শ্যাম পাখি,
আর ময়ূর ডাকে না 'কে গো' বলিয়া।
পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
কৃষ্ণপ্রিয়া গো 'প্রিয়া প্রিয়া' বলে পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
পথে পথে আর রহে না গো ব্রজগোপিনী আড়ি পাতিয়া।
আজি রাধার সাথে সবার আড়ি,
কৃষ্ণপ্রিয়ার কৃষ্ণ গেছে ছাড়ি'
তাই রাধার সাথে সবার আড়ি, সখি গো —
শুকায়ে গিয়াছে দ্বাদশ কুঞ্জ,
পূর্ণ চাঁদেরই ব্রজে একাদশীর তিথি,
হয়ত আবার বাজিবে বেণু তার, রবে না ব্রজে যবে রাধার স্মৃতি।।

এসো এসো তব যাত্রা-পথে

বাণী

এসো এসো তব যাত্রা-পথে
শুভ বিজয়-রথে ডাকে দূর-সাথি।
মোরা তোমার লাগি’, হেথা রহিব জাগি’
তব সাজায়ে বাসর জ্বালি’ আশার বাতি।।
হের গো বিকীর্ণ শত শুভ চিহ্ন পথ-পাশে নগর-বাটে,
স-বৎসা ধেনু গো-ক্ষুর-রেণু উড়ায়ে চলে দূর মাঠে।
দক্ষিণ-আবর্ত-বহ্নি, পূর্ণ-ঘট-কাঁখে তম্বী,
দোলে পুষ্প-মালা, ঝলে’ শুক্লা রাতি।।
হের পতাকা দোলে দূর তোরণ-তলে, গজ তুরগ চলে।
শুক্লা ধানের হের মঞ্জরী ঐ, এসো কল্যাণী গো,
		আনো নব-প্রভাতী।।

নাটক : ‘সাবিত্রী’

সাত ভাই চম্পা জাগো রে

বাণী

সাত ভাই চম্পা জাগো রে, ঐ পারুল তোদের ডাকে।
ভাই আর কত ঘুমাবি সবুজ পাতা-ঘেরা শাখে।।
কি যাদু করলি তোদের বিদেশী সৎ-মায়ে,
রাজার দুলাল ঘুমিয়ে আছিস আঁধার কানন-ছায়ে,
নিজেরা না জাগলে কবে মুক্ত করবি মা’কে।।
তোদের বোন এনেছে জিয়ন-কাঠি প্রাণের পরশ-মণি,
মায়া-নিদ্রা ভোলাতে ঐ গায় সে জাগরণী।
গুবরে পোকায় মউ খেয়ে যায় তোদের ঐ মৌচাকে।।
তোদের চাঁপা রঙে চাপা আছে অরুণ-কিরণ-রেখা;
তোরা জাগবি রে যেই, অমনি পাবি দিনমণির দেখা,
বোনের সাথে ভাই জাগিলে ভয় করি আর কা’কে।।

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে

বাণী

আজি বাদল বঁধূ এলো শ্রাবণ-সাঁঝে —
নীপের দীপ ঢাকি’ আঁচল ভাঁজে।।
	জ্বালি’ হেনার ধুনা
	যাচি’ কার করুণা
বন-তুলসী তলে এলে পূজারিণী সাজে।।
সেদিন এমনি সাঁঝে মোর বেদীর মূলে
প্রিয়া জ্বালিলে এ দীপ, তাহা গেছ কি ভুলে?
	সেই সন্ধ্যা-স্মৃতি
	সে যে করুণ গীতি,
দূরে দাদুরি আনে বহি’ মরম মাঝে।।

কানে আজো বাজে আমার তোমার গানের

বাণী

কানে আজো বাজে আমার তোমার গানের রেশ
নয়নে মোর জাগে তোমার নয়নের আবেশ।।
	তোমার বাণী অনাহত
	দুলে কানে দুলের মত
ও গান যদি কুসুম হত সাজাতাম মোর কেশ।।
নদীর ধারে যেতে নারি শুনে তোমার সুর
মনে আনে তোমার গান করুণ বিধুর।
	শুনি বুনো পাখির গীতি
	জাগে তোমার গানের স্মৃতি
পরান আমার যায় যে ভেসে তোমার সুরের দেশ।।