না মিটিতে মনোসাধ যেয়ো না হে শ্যামচাঁদ

বাণী

	না মিটিতে মনোসাধ যেয়ো না হে শ্যামচাঁদ
	আঁধার করিয়া ব্রজধাম, সখা হে —।
	সোনার বরনী রাই অঙ্গে মাখিয়া ছাই
	দিশা নাই কাঁদে অবিরাম, সখা হে —।।
	অবিরাম কাঁদে রাই
	তারে কাঁদায় যে তারি তরে
	অবিরাম কাঁদে সখা হে।
	এখনো মাধবী-লতা
	কহেনি কুসুম-কথা
		জড়াইয়া তরুর গলে,
	এখনো ফোটেনি ভাষা
	আধ-ফুট ভালোবাসা
		ঢাকা লাজ পল্লব-তলে।
		বলা হলো না,হলো না,
	বুকের ভাষা মুখে বলা যে হলো না।
সখা	আমরা নারী, বলতে নারি!
	দুঃখের কথা মুখে বলতে নারি
	নয়ন জলে গলতে পারি
	তবু মুখে বলতে নারি
	মরণ-কোলে ঢলতে পারি
সখা	মুখ ফুটে তবু বলতে নারি, সখা হে —
	নবীন নীরদ-বরণ শ‍্যাম জানিতাম মোরা তখনি,
ঐ	করুণ সজল কাজল মেঘে থাকে গো ভীষণ অশনি।
	তুমি আগুন জ্বালিলে,
ওহে	নিরদয়! বুকে কেন আগুন জ্বালিলে।
বুকে	আগুন জ্বালায়ে চোখে সলিল ঢালিলে।
তাহে	আগুন নেভে কি?
	চোখেরি জলে ডুবে আগুন নেভে কি
	সথা হে- আগুন নেভে কি।।

খেলে নন্দের-আঙিনায় আনন্দ দুলাল

বাণী

খেলে নন্দের-আঙিনায় আনন্দ দুলাল।
রাঙা চরণে মধুর সুরে বাজে নূপুর-তাল॥
	নবীন নাটুয়া বেশে
	নাচে কভু হেসে হেসে,
যাশোমতীর কোলে এসে দোলে কভু গোপাল॥
‘ননী দে’ বলিয়া কাঁদে কভু রোহিণী-কোলে,
জড়ায়ে ধ’রে কদম তরু তমাল-ডালে দোলে।
	দাঁড়ায়ে ত্রিভঙ্গ হ’য়ে
	বাজায় মুরলী ল’য়ে,
কভু সে চরায় ধেনু বনের রাখাল॥

সুন্দর হে দাও দাও সুন্দর জীবন

বাণী

সুন্দর হে, দাও দাও সুন্দর জীবন।
হউক দূর অকল্যাণ, সকল অশোভন।।
	এ প্রাণ প্রভাতী-তারার প্রায়
	ফুটুক উদয়-গগন-গায়,
দুঃখ নিশায় আন পূর্ণ চাঁদের স্বপন।।
সকল বিরস-হৃদয়-মন সরস কর হে,
আশার সূর্য্যে মৃত্যু-গহন বিপদ হর হে।
	কাঁটার ঊর্ধ্বে ফোটাও ফুল
	ভোলাও পথের দুঃখ ভুল,
এ বিশ্ব হোক পূজা-দেউল পবিত্র-মোহন।।

দ্বীনের নবীজি শোনায় একাকী

বাণী

দ্বীনের নবীজি শোনায় একাকী কোরানের মধু-বাণী।
আয়েশা খাতুন শোনেন বসিয়া, নয়নে ঝরিছে পানি।।
	বে-দ্বীন দিওয়ানা হ’য়ে
	কাঁদে যে কোরান ল’য়ে,
বিশ্ববাসী আনিল ঈমান যে পাক কোরান মানি’।।
চন্দ্র-তারকা-গ্রহ আদি ঐ তরুলতা মরু-বায়,
কোরানের সেই আয়াত শুনিয়া লুটায় নবীর পায়।
	কোরানে জাগাও ওরে
	জ্ঞান-গরিমায় মোরে,
মরিতে আমায় দিও গো ল’য়ে বক্ষে কোরানখানি।

নাচে তেওয়াড়ী চৌবেজী দৌবে পাঁড়ে

বাণী

নাচে তেওয়াড়ী চৌবেজী দৌবে পাঁড়ে
তালে তালে ভুঁড়ি নাড়ে (হাঁরে)।।
নাচে কাবলিওয়ালা আগা হেলায় দাড়ি
নাচে ইয়া গোঁফওয়ালা প’রে ঘাঘরি শাড়ি।
নাচে পান্ডাজী ধপাস্ ধপাস্
নাচে যুপী বুড়ি থপাস্  থপাস্
ফোঁপরা ঢেঁকিতে যেন চাল কাঁড়ে।।
নাচে তাড়তা হিড়িম্বে শূর্পণখা
নাচে উচ্চিংড়ে আরশোলা গুবরে পোকা
নাচে কিক্কড় কাল্লু গামা, নাচিছে ধুচুনি নাচিছে ধামা
নাচিছে ডুয়েট ঘটোৎকচ গোপাল ভাঁড়ে।।
নাচে নানা মিঞা হায় হায় ঘুরিয়ে লুঙ্গি
নাচে মাদ্রাজি উড়িয়া মগ বার্মিজ ফুঙ্গি
তাকিয়ার খোল পরে বল নাচে
সায়েবের সাথে মেম পাছে পাছে
ঘুরে ঘুরে যেন গরু ধান মাড়ে।।

ঝড়ের বাঁশিতে কে গেলে ডেকে

বাণী

ঝড়ের বাঁশিতে কে গেলে ডেকে হে তরুণ অশান্ত।
গুরু গুরু বাজিল মেঘ-মৃদঙ্গ দুলিয়া উঠিল বন-বনান্ত।।
		সাগর তরঙ্গ মাঝে
		তব মণি-মঞ্জির বাজে,
অম্বর ব্যাপিয়া দোলে ধূলি-গৈরিক তব বসন-প্রান্ত।।
		শাওন-ঘন তব লাবনি
		বিন্দু বিন্দু ঝরি’ ভরিল অবনী,
কৃষ্ণ-চূড়ার রাঙা অঞ্জলি ঝরে চঞ্চল তব চরণে হে কান্ত।।