ওরে মথুরা-বাসিনী মোরে বল্

বাণী

ওরে মথুরা-বাসিনী, মোরে বল্।
কোথায় রাধার প্রাণ — ব্রজের শ্যামল।।
		আজও রাজ-সভা মাঝে
	(সে)	আসে কি রাখাল-সাজে?
আজও তার বাঁশি শুনে যমুনার জল হয় কি উতল।।
পায়ে নূপুর কি পরে শিরে ময়ূর-পাখা,
আছে শ্রীমুখে কি অলকা তিলক আঁকা।
		রাধা রাধা ব’লে কি গো
		কাঁদে সেই ময়া-মৃগ?
নারায়ণ হয়েছে সে তোদের মথুরা এসে মোদের চপল।।

তুমি দিয়েছ দুঃখ-শোক-বেদনা তোমারি জয়

বাণী

তুমি দিয়েছ দুঃখ-শোক-বেদনা, তোমারি জয় তোমারি জয়।
ভালোবাস যারে কাঁদাও তাহারে ছলানাময়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তুমি কাঁদায়েছ বসুদেব দেবকীরে,
নন্দ যশোদা ব্রজের গোপীরে,
কাঁদাইলে তুমি শত শ্রীমতীরে হে নিরদয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়॥
তোমারে চাহিয়া কোটি নয়নে বিরহ অশ্রু ঝুরে,
ধরণী যে আজ ডুবু ডুবু শ্যাম সাগর সলিলে পুরে।
ভক্তে কাঁদাতে হে ব্যথা বিলাসী
যুগে যুগে আসি’ বাজাইলে বাঁশি
তবুও এ-প্রাণ তোমারি পিয়াসি মানে না ভয়।
	তোমারি জয়, তোমারি জয়, তোমারি জয়।

বৈতালিক

তেপান্তরের মাঠে বঁধু হে একা বসে থাকি

বাণী

		তেপান্তরের মাঠে বঁধু হে একা বসে থাকি।
		তুমি যে পথ দিয়ে গেছ চলে তারি ধূলা মাখি’ হে।।
যেমন		পা ফেলেছ গিরিমাটির রাঙা পথের ধূলাতে,
		অমনি করে আমার বুকে চরণ যদি বুলাতে,
আমি		খানিক জ্বালা ভুলতাম ঐ মানিক বুকে রাখি’ হে।।
আমার	খাওয়া পরার নাই রুচি, আর ঘুম আসে না চোখে হে,
আমি		আউরী হয়ে বেড়াই পথে, হাসে পাড়ার লোকে
					দেখে হাসে পাড়ার লোকে।
আমি		তাল পুকুরে যেতে নারি — একি তোমার মায়া হে,
আমি		কালো জলে দেখি তোমার কালো রূপের ছায়া হে;
আমার	কলঙ্কিনী নাম রটিয়ে তুমি দিলে ফাঁকি হে।।

ঘন-ঘোর-মেঘ-ঘেরা দুর্দিনে ঘনশ্যাম

বাণী

ঘন-ঘোর-মেঘ-ঘেরা দুর্দিনে ঘনশ্যাম ভূ-ভারত চাহিছে তোমায়।
ধরিতে ধরার ভার নাশিতে এ হাহাকার আরবার এসো এ ধরায়।।
		নিখিল মানবজাতি কলহ ও দ্বন্দ্বে
		পীড়িত শ্রান্ত আজি কাঁদে নিরানন্দে,
শঙ্খপদ্ম হাতে এ ঘোর তিমির-রাতে তিমির-বিদারী এসো অরুণ-প্রভায়।।
বিদূরিত কর এই নিরাশা ও ভয়, মানুষে মানুষে হোক প্রেম অক্ষয়।
কলিতে দলিতে এসো এই দুখ-পাপ-তাপ আন বর সুন্দর, শেষ হোক অভিশাপ,
গদা ও চক্র করে অরিন্দম এসো, হত-মার দুর্বল মাগিছে সহায়।।

চির-আপনার তুমি হে হরি

বাণী

চির-আপনার তুমি হে হরি।
তুমি ভুলো না যদি আমি রই পাশরি’।।
আমি ভুলিয়া যদি কভু রহি ঘুমে
তুমি ঘুম ভাঙাও মোর আঁখি চুমে,
তুমি আমি এক তরীতে তরি।।
আমার বাঁধন মোচন মাঝে
হরি হে তোমারও মুকুতি রাজে,
তুমি জীবনে আমার আছ প্রাণ ধরি’।।

তুমি কেন এলে পথে

বাণী

তুমি কেন এলে পথে
ঝরা মল্লিকা ভাসাইতেছিনু
	একাকিনী নদী-স্রোতে।।
কলসি আমার অলস খেলায়
ধীর তরঙ্গে যদি ভেসে' যায়
তীরে সে কলসি তুলে' আনো তুমি
	কেন নদী' জল হ'তে।।
আমার নিরালা বনে
আমি গাঁথি হার, তুমি গান গাহি'
	ধ্যান ভাঙো অকারণে।
আমি মুখ হেরি' আরশিতে একা
তুমি সে মুকুরে কেন দাও দেখা
	বাতায়নে চাহি' তুমি কেন হাসো
	আসিয়া চাঁদের রথে।।