কারা-পাষাণ ভেদি’ জাগো নারায়ণ

বাণী

কারা-পাষাণ ভেদি’ জাগো নারায়ণ!
কাঁদিছে বেদীতলে আর্ত জনগণ,
বন্ধ-ছেদন জাগো নারায়ণ।।
হত্যা-যূপে আজি শিশুর বলিদান
অমৃত-পুত্রেরা মৃত্যু-ম্রিয়মাণ!
শোণিত-লেখা জাগে — নাহি কি ভগবান?
মৃত্যুক্ষুধা জাগে শিয়রে লেলিহান!
শঙ্কা-নাশন জাগো নারায়ণ।।

তোমারে চেয়েছি কত যুগ যুগ ধরি প্রিয়া

বাণী

পুরুষ	:	তোমারে চেয়েছি কত যুগ যুগ ধরি প্রিয়া।
স্ত্রী	:	এসেছি তাই ফিরে পুন পথিকের প্রীতি নিয়া॥
পুরুষ	:	তোমার নয়নে তাই চাহি ফিরে ফিরে,
স্ত্রী	:	হের তব ছবি প্রিয় মোর আঁখি নীরে।
উভয়ে	:	কত জনম শেষে এসেছি ধরণী তীরে
		কার অভিশাপে ছিনু হায় চির পাশরিয়া॥
স্ত্রী	:	আরো প্রিয় আরো হাতে এ নব বাসর রাতে,
পুরুষ	:	যেয়ো না স্বপন সম মিশায়ে নিশীথ প্রাতে।
স্ত্রী	:	তারার দীপালি জ্বলে হের গো গগন তলে
পুরুষ	:	হের শুক্লা একাদশী চাঁদের তরণী দোলে,
উভয়ে	:	মোদের মিলন হেরি নিখিল ওঠে দুলিয়া॥

সখি বল কোন দেশে যাই

বাণী

সখি বল কোন দেশে যাই।
সে বৃন্দা আছে সে বন আছে তবু সে বৃন্দাবন নাই —
গোবিন্দ বিনে লো বৃন্দে (বৃন্দে গো) রাধার বৃন্দাবন হয়েছে আঁধার।
বনে সীতার ছিল যে রাম, মোর বনে নাই ঘনশ্যাম।
আমি কি লয়ে থাকি, কেন দেহ রাখি।
পিঞ্জর আছে প'ড়ে, নাই শ্যাম পাখি,
আর ময়ূর ডাকে না 'কে গো' বলিয়া।
পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
কৃষ্ণপ্রিয়া গো 'প্রিয়া প্রিয়া' বলে পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
পথে পথে আর রহে না গো ব্রজগোপিনী আড়ি পাতিয়া।
আজি রাধার সাথে সবার আড়ি,
কৃষ্ণপ্রিয়ার কৃষ্ণ গেছে ছাড়ি'
তাই রাধার সাথে সবার আড়ি, সখি গো —
শুকায়ে গিয়াছে দ্বাদশ কুঞ্জ,
পূর্ণ চাঁদেরই ব্রজে একাদশীর তিথি,
হয়ত আবার বাজিবে বেণু তার, রবে না ব্রজে যবে রাধার স্মৃতি।।

মদির আঁখির সুধায় সাকি ডুবাও আমার

বাণী

মদির আঁখির সুধায় সাকি		ডুবাও আমার এ তনু মন
আজিকে তোমায় ও আমায়	বেদনার বাসর জাগরণ।
মঙ্গালস ও আঁখি তব,		সাকি, দিল দোলা প্রাণে।।
বাদল-ছাওয়া এ গুল-বাগিচায়	বুলবুল কাঁদে গজল গানে।।
গোলাবী গুলের নেশা		ছিল মোর ফুলেল ফাগুনে।
শুকায়ে গিয়াছে ফুলবন,		নাই গোলাব গুলিস্তানে।।
শুনি, সাকি তোমার কাছে		ব্যথা ভোলার দারু আছে —
হিয়া কোন অমিয়া যাচে		জান তুমি, খোদা জানে।।
দুখের পশরা লয়ে			বিফল কাঁদিয়া বৃথা (সাকি)।
সকলি গিয়াছে যখন		যাক ঈমান শ্যরাব পানে।।

সোনার খাটে ঘুমায় কন্যা রূপার খাটে কেশ

বাণী

	সোনার খাটে ঘুমায় কন্যা রূপার খাটে কেশ।
	ময়ূরপঙ্খী যাও উড়ে সেই মধুমালার দেশ।।
তার	নামের চেয়ে রূপে সখি অনেক বেশী মউ,
	নবলক্ষের মালা পাবে সে হবে যার বউ।
	তারায় তারায় ছড়িয়ে আছে তারি রূপের রেশ,
	ময়ূরপঙ্খী যাও উড়ে সেই মধুমালার দেশ।।

নাটক : ‘মধুমালা’

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে

বাণী

ঘন ঘোর বরিষণ মেঘ-ডমরু বাজে
শ্রাবণ রজনী আঁধার।
বেদনা-বিজুরি-শিখা রহি’ রহি’ চমকে
মন চাহে প্রেম অভিসার॥
কোথা তুমি মাধব কোথা তুমি শ্যামরায়?
ঝরিছে নয়ন-বারি অঝোর ধারায়,
কদম-কেয়া-বনে
ডাহুকী আনমনে —
সাথি বিনা কাঁদে অনিবার॥