চাঁদের মতন রূপ পেল রূপ তোমার

বাণী

		চাঁদের মতন রূপ পেল রূপ তোমার রৌশন্‌ রূপ-বিভায়।
		অপরূপ সে হল তোমার চিবুক গালের টোল খাওয়ায়।।
		তোমার রূপের পিয়াসি প্রাণ এলো হের অধর-তীর,
		জানাও আদেশ ফিরুক সে প্রাণ, নয় বুঝি সে ছেড়ে যায়।।
শেয়র	:	কখন মঞ্জুর হবে, প্রভু, এই ব্যথিতের আর্জি পেশ।
		কোন্‌ মোহনায় এক হবে মোর হৃদয় ও তার আকুল কেশ।
		নাই গো তাহার শান্তি ও সুখ হের্‌ল যারে ঐ আঁখি,
		তাহার চেয়ে চটুল ও-চোখ পর্দাতেই রাখ ঢাকি’।
		রক্ত-রাঙা পথ হতে মোর বাঁচিয়ে চ’লো নীল আঁচল,
		তোমার প্রেমের শহীদ অনেক রাঙিয়েছে ঐ পথতল।
		ফুল্লমুখী ফুলের তোড়া পাঠিয়ে দিও ভোর-বায়ে,
		তোমার দেশের ফুল-কাননের গন্ধ পাব সেই হাওয়ায়।।
		প্রার্থনা তার জানায় হাফিজ — শুননেওয়ালা কও, ‘আমীন!’
		প্রিয়া আমার মৌ-মিঠে তার চূণীর ঠোঁটের চুম বিলায়।।

খাতুনে জান্নাত ফাতেমা জননী

বাণী

খাতুনে জান্নাত ফাতেমা জননী — বিশ্ব-দুলালী নবী নন্দিনী,
মদিনাবাসিনী পাপতাপ নাশিনী উম্মত-তারিণী আনন্দিনী।।
	সাহারার বুকে মাগো তুমি মেঘ-মায়া,
	তপ্ত মরুর প্রাণে স্নেহ-তরুছায়া;
মুক্তি লভিল মাগো তব শুভ পরশে বিশ্বের যত নারী বন্দিনী।।
হাসান হোসেনে তব উম্মত তরে, মাগো
কারবালা প্রান্তরে দিলে বলিদান,
বদলাতে তার রোজ হাশরের দিনে
চাহিবে মা মোর মত পাপীদের ত্রাণ।
	এলে পাষাণের বুকে চিরে নির্ঝর সম,
	করুণার ক্ষীরধারা আবে-জমজম;
ফিরদৌস হ’তে রহমত বারি ঢালো সাধ্বী মুসলিম গরবিনী।।

মানবতাহীন ভারত শ্মশানে

বাণী

মানবতাহীন ভারত শ্মশানে দাও মানবতা হে পরমেশ।
কি হবে লইয়া মানবতাহীন ত্রিশ কোটি মানুষ মেষ।।
		কলের পুতুল এরা প্রাণহীন
		পাষাণ আত্মা বিশ্বাসহীন,
নিজেরে ইহারা চিনে না জানে না, কেমনে চিনিবে নিজের দেশ।।
		ভারত শ্মশানে ফেরে প্রেতপাল,
		নর নাই, শুধু নর-কঙ্কাল;
এই চির অভিশপ্তের মাঝে জাগাও হে প্রভু প্রাণের রেশ।।
		ভায়ে ভায়ে হেথা নাহি প্রেমবোধ,
		কেবলি কলহ, কেবলি বিরোধ;
হে দেশ-বিধাতা, দূর কর এই লজ্জা ও গ্লানি, এ দীন বেশ।।

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে

বাণী

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে
হেসে নদীকুলে এলো হেলে দুলে!
	নূপুর রিনিকি ঝিনি বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।
দূরে মন উদাসি বাজে বাঁশের বাঁশি,
	বকুল-শাখে পাপিয়া ডাকে —
হেরিয়া বুঝি এই বন-বালিকায়
	রঙিন সাজে রে, বাজে রে।।
	এ বুঝি নদীর কেউ
তাই অধীর হলো জলে ঢেউ।
	চন্দন-মাখা যেন চাঁদের পুতলি,
	যত চলে তত রূপ ওঠে উথলি
মেঘে লুকালো পরী লাজে রে, বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।

কিশোরী বাসন্তী ডাকিছে

বাণী

পুরুষ	:	কিশোরী বাসন্তী ডাকিছে তোমায় ফুলবন।
স্ত্রী	:	ডাকে হে শ্যাম, তোমায় তাল ও তমাল বন শন্ শন্।।
পুরুষ	:	তুমি ফুলের বারতা
স্ত্রী	:	তুমি বন-দেবতা,
উভয়ে	:	আমরা আভাস ফাল্গুনের, দূর স্বর্গের পরশন।।
পুরুষ	:	কল্প-লোকের তুমি রূপ-রানী গো প্রিয়া,
		অপাঙ্গে ফোটাও যুঁই-চম্পা-টগর-মোতিয়া।
স্ত্রী	:	নিঠুর পরশ তব (হায়) যাচিয়া জাগে বনভূমি
		ফুলদল পড়ে ঝরি’ তব চারু পদ চুমি’,
উভয়ে	:	আমরা ফুলশর-ঊর্বশী দেব-সভার মোরা হরষণ।।

মেরো না আমারে আর নয়ন-বাণে

বাণী

মেরো না আমারে আর নয়ন-বাণে।
কী জ্বালা ব্যাধের বাণে বনের হরিণই জানে।।
একে এ পরান দহে
মদির ও-আঁখির মোহে
চাহনির যাদু মাখা তায়।
জ্বলিছে আলেয়া-শিখা
নয়ন-জলের মরীচিকা
পিয়াসি পথিক ছোটে হায় — তাহারি টানে।।