লায়লী লায়লী ভাঙিয়ো না ধ্যান মজনুর

বাণী

লায়লী! লায়লী! ভাঙিয়ো না ধ্যান মজনুর এ মিনতি।
লায়লী কোথায়? আমি শুধু দেখি লা এলা'র জ্যোতি।।
পাথর খুঁজিয়া ফিরিয়াছি প্রিয়া প্রেম-দরিয়ার কূলে,
খোদার প্রেমের পরশ-মানিক পেলাম কখন ভুলে।
	সে মানিক যদি দেখ একবার
	মজনুরে তুমি চাহিবে না আর
জুলেখা-ইয়ুসুফ লাজ মানে হেরি' তাহার খুব -সুরতি।।
মজনুরে ও যে লায়লী ভোলায় সে যে কত সুন্দর
বুঝিবে লায়লী যদি তুমি তারে নেহার এক নজর।
	সাধ মিটিবে না হেথা ভালোবেসে,
	চল চল প্রিয়া লা এলা'র দেশে
নিত্য মিলনে ভুলিব আমরা এই বিরহের ক্ষতি।।

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা

বাণী

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা নামিল সখি মোর পরানে।
	ভরি’ মোর নিশীথ নিঝুম,
	বাজে নূপুর কার রুমুঝুম,
	মোর চোখে নাহি ঘুম —
পাষাণ টুটে লো যায় ছুটে মন-তটিনী মোর সাগর পানে।।
পান্‌সে চাঁদের জোছনাতে ঐ বেলের কুঁড়ি মুঞ্জরে,
মন যেতে চায় ফুল-বিছানো বকুল-বীথির পথ ধ’রে।
	আজ চাইবে যে, দিব তাকে
	সেই ফুল ছুঁয়ে এই আপনাকে,
অরুণ-রাগে হৃদয় জাগে, ভাসিয়া যাব নৃত্যে গানে।।

মম প্রাণ-শতদল হোক প্রণামী-কমল

বাণী

মম প্রাণ-শতদল হোক প্রণামী-কমল (ওগো) তব চরণে
আমার এ হৃদয় নাথ হোক তন্ময় তোমারি স্বরণে তোমারি স্বরণে॥
তব পূজার বেদী হোক আমার এ মন
হোক্ আরতি-প্রদীপ মোর এ দুটি নয়ন
নাথ, লহ মোরে পায় তোমারি সেবায় জীবনে-মরণে॥
মম দুঃখে সুখে মম তৃষিত বুকে তুমি বিরাজ,
মোর সকল কাজে বীণা-বেণু সম নিশিদিন বাজো॥
মোর দেহখানি, নাথ চন্দন প্রায়
হোক্ ক্ষয় তব মন্দির-পাষাণ-শিলায়,
পাই যেন লয়, নাথ, তব সৃষ্টির রূপে বরণে॥

আন্‌মনে জল নিতে ভাসিল গাগরী

বাণী

আনমনে জল নিতে ভাসিল গাগরী
সাঁতার জানি না, আনি কলস কেমন করি।।
জানি না বলিব কি শুধাবে যবে ননদী
কাহার কথা ভাবে পোড়া মন নিরবধি
কলসি না ভাসিয়া ভাসিতাম আমি যদি
কি বলিব কেন মোর ভিজিল ঘাগরী।।
একেলা কুলবধূ, পথ বিজন, নদীর বাঁকে
ডাকিল বৌ–কথা–কও কেন হলুদ চাঁপার শাখে
বিদেশে শ্যাম আমার পড়ল মনে সেই সে ডাকে
ঠাঁই দে যমুনে, বুকে, আমিও ডুবিয়া মরি।।

আমারে চরণে দিও ঠাঁই

বাণী

আমারে চরণে দিও ঠাঁই
ও চরণ বিনা, ওহে গিরিধারী! কামনা কিছুই নাই।।
ব্যথিত হৃদয় হতে আকুল মরম বাণী,
থেকে থেকে ভেসে আসে, ফিরে এসো এসো রানী।
ফিরিতে পারি না আর অসীমে মিশিয়া যাই —
তুমি ফিরে যাও সখা আমাতে আর আমি নাই।।

শ্যামা তোর নাম যার জপমালা

বাণী

শ্যামা তোর নাম যার জপমালা তার কি মা ভয় ভাবনা আছে।
দুঃখ-অভাব-রোগ-শোক-জরা লুটায় মা তার পায়ের কাছে॥
	যার চিত্ত নিবেদিত তোর চরণে
	ওমা কি ভয় তাহার জীবনে মরণে।
যেমন খেলে শিশু মায়ের সম তোর অভয় কোলে সে তেমনি নাচে॥
	রক্ষামন্ত্র যার শ্যামা তোর নাম,
	সকল বিপদ তারে করে প্রণাম।
	সদা প্রসন্ন মন তার ধ্যানে মা তোর,
	ভূমানন্দে মা গো রহে সে বিভোর।
তার নিকটে আসিতে নারে কালো কঠোর তব নাম প্রসাদ সে লভিয়াছে॥