তুমি কি দখিনা পবন

বাণী

তুমি কি দখিনা পবন
দুলে ওঠে দেহলতা
ফুলে ফুলে ফুল্ল হয়ে ওঠে মন।।
	অন্তর সৌরভে শিহরে
	কথার কোয়েলিয়া কুহরে
তনু অনুরঞ্জিত করে গো প্রীতির পলাশ রঙন।।
কী যেন মধু জাগে হিয়াতে
চাহি’ যেন সেই মধু কোন্‌ চাঁদে পিয়াতে।
	ফুটাইয়া ফুল কোথা চলে যাও
	হুতাস নিশাসে কী ব’লে যাও
মধু পান করি না কো র’চে যাই শুধু মধু-বন।।

ওরা মানুষের তরে মালা গাঁথে

বাণী

(ওরা)	মানুষের তরে মালা গাঁথে, তাই সে-মালা শুকিয়ে যায় গো!
	সে-মালা শুকায় না কভু যারা দেয় শ্রীহরির পায় গো।।
	হরির চরণে নিবেদিত যার আত্মা ও তনুমন,
	এই সংসার তার কাছে হায় নিত্য বৃন্দাবন!
(তার)	হারায় না কিছু গো সকলই সে পায় শ্রীহরির করুণায়।।

নাটক : ‘অর্জুন-বিজয়’

লাল নটের ক্ষেতে লাল টুকটুকে বৌ যায়

বাণী

	লাল নটের ক্ষেতে, লাল টুকটুকে বৌ যায় গো।
তার	আলতা পায়ের চিহ্ন এঁকে নালতা শাকের গায় গো।।
	লাল নটের ক্ষেতে মৌমাছি ওঠে মেতে
	তার রূপের আঁচে পায়ের তলার মাটি ওঠে তেতে।
	লাল পুঁইয়ের লতা নুয়ে পড়ে জড়িয়ে ধরে পায় গো।।
	কাঁকাল বাঁকা রাখাল ছোঁড়া আগলে দাঁড়ায় আ’ল —
	রাঙা বৌ-এর চোখে লাগে লাল লঙ্কার ঝাল।
	বৌ-এর ঘেমে ওঠে গা, লাজে সরে না পা
	সে মুখ ফিরিয়ে শাড়ির আঁচল আঙুলে জড়ায় গো।।

শিব-অনুরাগিণী গৌরী জাগে

বাণী

শিব-অনুরাগিণী গৌরী জাগে।
আঁখি অনুরঞ্জিত প্রেমানুরাগে।।
	স্বপনে কি শিব এসে
	বর দিল বর-বেশে,
বালিকা বলিতে নারে, শরম লাগে।।
‘কি হয়েছে উমা তোর’ — গিরিরানী সাধে,
কে মাখালো কুম্‌কুম্‌ ভোরের চাঁদে?
	লুকায় মায়ের বুকে
	বলিতে বাধে মুখে,
পাগল শিব ঐ রূপ-ভিক্ষা মাগে।।

সই চাঁদ কত দূরে

বাণী

সই চাঁদ কত দূরে।
ফাল্গুন সন্ধ্যার রজনীগন্ধা সম —
পথ চেয়ে রই, আঁখি ঝুরে।।
সন্ধ্যামালতীর কলি
ফুটিতে গিয়া নিরাশায় পড়িয়াছি ঢুলি,
বাজিয়া শ্রান্ত হয়ে থামিয়াছে সুর ভ্রমর নূপুরে।।

মোর যাবার বেলায় বল বল তুমি

বাণী

মোর	যাবার বেলায় বল বল তুমি চিনিতে পেরেছ মোরে।
	গানের সুরের আড়ালে খুঁজিতে যে প্রেম-সুন্দরে।।
	যাহার বিরহ যাহার আদর চেয়ে
	বীণা-সম তব তনু সুরে সুরে যেত ছেয়ে,
	সে তার নামখানি তোমার চরণে লিখে গেল আঁখি লোরে।।
	ফিরায়ে দিলাম তোমারে তোমার ঘরে,
	আমি চ’লে যাই আমার নীলাম্বরে।
	বল বল, মনে আর নাই কোন ভয়
	যত কলঙ্ক হল চন্দনময়,
	নন্দনবন-পারিজাত-প্রেম পাইয়াছি অন্তরে।।