শান্ত হও শিব বিরহ-বিহ্বল

বাণী

শান্ত হও, শিব, বিরহ-বিহ্বল
চন্দ্রলেখায় বাঁধো জটাজুট পিঙ্গল।।
ত্রি-বেদ যাহার দিব্য ত্রিনয়ন
শুদ্ধ-জ্ঞান যা’র অঙ্গ-ভূষণ,
সেই ধ্যানী শম্ভু — কেন শোক-উতল।।
হে লীলা-সুন্দর, কোন্ লীলা লাগি’,
কাঁদিয়া বেড়াও হ’য়ে বিরহী-বিবাগী।
হে তরুণ যোগী, মরি ভয়ে ভয়ে
কেন এ মায়ার খেলা মায়াতীত হ’য়ে,
লয় হবে সৃষ্টি — তুমি হলে চঞ্চল।।

নামাজ পড় রোজা রাখ কল্‌মা পড় ভাই

বাণী

নামাজ পড়, রোজা রাখ, কল্‌মা পড় ভাই।
তোর আখেরের কাজ করে নে, সময় যে আর নাই।।
	সম্বল যার আছে হাতে
	হজ্বের তরে যা কা'বাতে,
জাকাত দিয়ে বিনিময়ে শাফায়াত যে পাই।।
ফরজ তরক্ ক'রে কর্‌লি করজ ভবের দেনা,
আল্লাহ ও রসুলের সাথে হ'ল না তোর চেনা। 
	পরানে রাখ কোরআন বেঁধে,
	নবীরে ডাক কেঁদে কেঁদে্‌
রাত্রি দিন তুই কর মোনাজাত — আল্লাহ্ তোমায় চাই।।

কত কথা ছিল তোমায় বলিতে

বাণী

কত কথা ছিল তোমায় বলিতে
ভুলে যাই হয় না বলা পথ চলিতে।।
ভ্রমরা আসে যবে বনেরই পথে
না-বলা সেই কথা কয় ফুল-কলিতে।।
পুড়ে মরে পতঙ্গ, দীপ তবু
পারে না বলিতে, থাকে জ্বলিতে।।
সে কথা কইতে গিয়ে গুণীর বীণা
কাঁদে কভু সারঙ কভু ললিতে।।
যত বলিতে চাই লুকাই তত
গেল মোর এ জনম হায় মন ছলিতে।।

খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা

বাণী

খেলে চঞ্চলা বরষা-বালিকা
মেঘের এলোকেশে ওড়ে পুবালি বায়
দোলে গলায় বলাকার মালিকা।।
চপল বিদ্যুতে হেরি' সে চপলার
ঝিলিক হানে কণ্ঠের মণিহার,
নীল আঁচল হতে তৃষিত ধরার পথে
ছুড়ে ফেলে মুঠি মুঠি বৃষ্টি শেফালিকা।।
কেয়া পাতার তরী ভাসায় কমল-ঝিলে
তরু-লতার শাখা সাজায় হরিৎ নীলে।
ছিটিয়ে মেঠো জল খেলে সে অবিরল
কাজলা দীঘির জলে ঢেউ তোলে
আনমনে ভাসায় পদ্ম-পাতার থালিকা।।

দে জাকাত দে জাকাত তোরা

বাণী

	দে জাকাত, দে জাকাত, তোরা দে রে জাকাত।
	তোর দিল্‌ খুলবে পরে ওরে আগে খুলুক হাত।।
	দেখ পাক্‌ কোরআন শোন্‌ নবীজীর ফরমান
	ভোগের তরে আসেনি দুনিয়ায় মুসলমান।
তোর	একার তরে দেননি খোদা দৌলতের খেলাত।।
তোর	দর্‌ দালানে কাঁদে ভুখা হাজারো মুসলিম
আছে	দৌলতে তোর তাদেরও ভাগ, বলেছেন রহিম।
	বলেছেন রহমানুর রহিম, বলেছেন রসুলে করিম।
	সঞ্চয়ে তোর সফল হবে পাবি রে নাজাত।।
	এই দৌলত বিভব রতন যাবে না তোর সাথে
	হয়তো চেরাগ জ্বলবে না তোর গোরে শবেরাতে।
	এই জাকাতের বদলাতে পাবি বেহেশ্‌তী সওগাত।।

ওরে ও-স্রোতের ফুল

বাণী

ওরে ও-স্রোতের ফুল!
ভেসে ভেসে হায় এলি অসহায় কোথায় পথ-বেভুল।।
	কোল্ খালি ক’রে কোন্ লতিকার
	নিভাইয়া নয়নের জ্যোতি কা’র,
বনের কুকুম অকূল পাথারে খুঁজিয়া ফিরিস্ কূল।।
ভবনের স্নেহ নারিল রাখিতে ঠেলে ফেলে দিল যা’রে,
সারা ভুবনের স্নেহ কি কখনো তাহারে ধরিতে পারে।
	জল নয়, তোর জননী যে ভুঁই
	অভিমানী! সেথা চল্ ফিরে তুই,
ধূলিতেও যদি ঝরিস্ সেথায় স্বর্গ সেই অতুল।।