চৈতালি চাঁদনী রাতে

বাণী

চৈতালি চাঁদনী রাতে —
নব মালতীর কলি মুকুল-নয়ন তুলি’
নিশি জাগে আমারি সাথে।।
পিয়াসি চকোরীর দিন-গোনা ফুরালো
শূন্য-গগনের বক্ষ জুড়ালো
দক্ষিণ-সমীরণ মাধবী-কঙ্কণ
	পরায়ে দিল বনভূমির হাতে।।
চাঁদিনী তিথি এলো, আমারি চাঁদ কেন এলো না;
বনের বুকের আঁধার গেল গো — মনের আঁধার গেল না।
এ মধু-নিশি মিলন-মালায়
কাঁটার মত আমি বিঁধিয়া আছি, হায়!
সবারই আঁখিতে আলোর দেয়ালি
	অশ্রু আমারি নয়ন-পাতে।।

শুক বলে মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী

বাণী

শুক বলে, ‘মোর গোঁফের রূপে ভোলে গোপনারী’
সারী বলে, ‘গোঁফের বড়াই আছে বলে দাড়ি
		(ও) আমার গোঁফ পিয়ারি।।’
শুক বলে, ‘মোর বাঁকা গোঁফে দেখে ভুবন ভোলে’
সারী বলে, ‘ঝুলন রাসের দোলনা যে দোলে
		(ও) আমার দাড়ির আশে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ ওষ্ঠে থাকেন গোষ্ঠে যেন কালা’
সারী বলে, ‘আমার দাড়ি কুলের কুলবালা
		(ও) চলেন হেলে দুলে।’
শুক বলে, ‘বীর শিকারিরা এই গোঁফে দেয় চাড়া’
সারী বলে, ‘মুনি ঋষির দেখবে দাড়ি ন্যাড়া
		(ও) কিবা বাহার তোলে।’
শুক বলে, ‘মোর ত্রিভঙ্গিম ঠোঁট বিহারী গোঁফ’
সারী বলে, ‘তমাল কানন আমার দাঁড়ির ঝোপ
		(আ, ও) দখিন হাওয়ায় দোলে।’
শুক বলে, ‘গোঁফ খুরির দধি চুরি করে খায়’
সারী বলে, ‘দাড়ি মেদীর রং লেগেছে গায়
		(ও, আচ্ছাচ্ছা) যেন হোরির আবির।’
সারী বলে, ‘দাড়ি বড় গোঁফের গরব মিছে’
শুক বলে, ‘দাড়ি যতই বাড়ুক তবু গোঁফের নীচে
		(ও) সারী টিকবে বল’।।

ঢালো মদিরা মধু ঢালো

বাণী

ঢালো মদিরা মধু ঢালো, (ঢালো আরো)
মদ রঞ্জিত হোক পান্‌সে চাঁদের আলো।।
সারা দিনমান গেল বিফল কাজে,
জাগে হৃদয়ে আনন্দ তৃষ্ণা সাঁঝে।
চাহে পরান বিধুর সুরা আর সুর —
আর অনুরাগ রাঙা দু’টি নয়ন কালো।।

নাটক : ‘দেবী দুর্গা’

ঈদ মোবারক হোক আজি

বাণী

ঈদ মোবারক হোক আজি ঈদ মোবারক হোক!
সব ঘরে পঁহুচুক এ ঈদের চাঁদের আলোক।।
যে আছে আজ প্রাণের কাছে, আছে আপন পুরে
যে আছে পরদেশে যার লাগি নয়ন ঝুরে
আজ সবারে বারে বারে খোশ খবরি কো’ক্।।
আজের মত দিলে দিলে থাকুক মহাব্বত
আজের মত খুশি থাকুক সবার তবিয়ত্,
কারো যেন থাকে না আর দুঃখ-ব্যথা-শোক।।
আজের মত এক জামাতে মিলন ঈদগাহে
দাঁড়াই যেন চলি যেন খোদারই রাহে,
দীন ইসলামের এ ক্যওমী যোশ জিন্দা হোক।।

কোন্‌ সুদূরের চেনা বাঁশির

বাণী

	কোন্‌ সুদূরের চেনা বাঁশির ডাক শুনেছিস্‌ ওরে চখা?
			ওরে আমার পলাতকা!
তোর প’ড়লো মনে কোন্‌ হানা–ঘর,
			স্বপন-পারের কোন্‌ অলকা?
			ওরে আমার পলাতকা।।
তোর জল ভ’রেছে চপল চোখে,
বল কোন্‌ হারা–মা ডাক্‌লো তোকে রে
ঐ গগন–সীমায় সাঁঝের ছায়ায় —
	হাতছানি দেয় নিবিড় মায়ায় —
	উতল পাগল! চিনিস্‌ কি তুই চিনিস্‌ ওকে রে?
যেনবুক–ভরা ও’ গভীর স্নেহে ডাক দিয়ে যায়, ‘আয়,
			ওরে আয় আয় আয়,
কোলে আয় রে আমার দুষ্টু খোকা!
‌ওরে আমার পলাতকা।।‘
			দখিন হাওয়ায় বনের কাঁপনে —
	দুলাল আমার! হাত–ইশারায় মা কি রে তোর
				ডাক দিয়েছে আজ?
			এতদিনে চিনলি কি রে পর ও আপনে!
	নিশি ভোরেই তাই কি আমার নামলো ঘরে সাঁঝ?
			ধানের শীষে, শ্যামার শিষে —
			যাদুমণি! বল্‌ সে কিসে রে,
		তুই শিউরে চেয়ে ছিঁড়্‌লি বাঁধন!
			চোখ ভরা তোর উছলে কাঁদন রে!
তোরে কে পিয়ালো সবুজ স্নেহের কাঁচা বিষে রে!
‌‌যেন আচম্‌কা কোন্‌ শশক–শিশু চম্‌কে ডাকে হায়,
			‘ওরে আয় আয় আয় —
		বনে আয় ফিরে আয় বনের সখা।
		ওরে চপল পলাতকা।।

ঘর ছাড়াকে বাঁধতে এলি

বাণী

ঘর ছাড়াকে বাঁধতে এলি কে মা অশ্রুমতী!
লীলাময়ী মহামায়া দাক্ষায়ণী সতী।।
	কে মাগো তুই কার দুলালী
	যোগীন্দ্রেরও যোগ ভুলালি,
তোর ছোঁওয়াতে স্নিগ্ধ হ’ল শিবের তপের জ্যোতি।।
সৃষ্টিরে তোর বাঁচাতে মা করিস্ কতই রঙ্গ,
তোর মায়াতে শঙ্করেরও ধ্যান হ’ল তাই ভঙ্গ।
	শুদ্ধ শিবে মুগ্ধ ক’রে
	চঞ্চলা তুই গেলি স’রে,
হরের যদি জ্ঞান হরিস্ মা মোদের কোথায় গতি।
আমরা যে তোর মায়ায় অন্ধ জীবন দুর্বল মতি —
		ওমা কোথায় মোদের গতি।।

‘সতী’