দিল দোলা ওগো দিল দোলা

বাণী

	দিল দোলা ওগো দিল দোলা
কোন	দখিন হাওয়া গজল-গাওয়া
		কুসুম-ছাওয়া বনে।
ওঠে	চমকি চমকি পরান ক্ষণে ক্ষণে।।
	ফুল-বঁধুদের মধু যেচে' বেড়ায় হিয়া নেচে' নেচে'
	দেখেছিলাম স্বপনে যায় পেয়েছি তায় আজকে জাগরণে।।
	কুল ছাপিয়ে মন-তটিনী নটিনীর বেশে, দুলে' দুলে' যায় ভেসে'।
	বস-ভুষণ আজি শাসন নাহি মানে খুশির তুফানে।
চাই	কুঞ্জপথে ঝ'রে যেতে ঝরা ফুলের সনে।।

প্রভু তোমারে খুঁজিয়া মরি ঘুরে ঘুরে

বাণী

প্রভু তোমারে খুঁজিয়া মরি ঘুরে ঘুরে বৃথা দূরে চেয়ে থাকি
তুমি অন্তরতম আছ অন্তরে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি॥
	তুমি কাছে থাকি খেল লুকোচুরি
	তাই বাহিরে চাহিয়া দেখিতে না পাই
যেমন আঁখির পল্লব নাথ দেখিতে পায় না আঁখি॥
মোরা ভাবি তুমি কত দূরে বুঝি গ্রহ তারকার পারে
বুকে যে ঘুমায় তারে খুঁজি বনে প্রান্তরে দ্বারে দ্বারে।
	বাহিরে না পেয়ে ফিরি যবে ঘরে
	দেখি জেগে আছ তুমি মোর তরে
যত ডাকি তত লুকাও হে চোর মোর বুকে মুখ রাখি॥

পোহাল পোহাল নিশি খোল গো আঁখি

বাণী

পোহাল পোহাল নিশি খোল গো আঁখি।
কুঞ্জ-দুয়ারে তব গাহিছে পাখি,
		ওই গাহিছে পাখি॥
ওই বংশী বাজে দূরে
শোন ঘুম ভাঙানো সুরে,
খোল দ্বার লহ বঁধূরে ডাকি॥

১. ডাকিছে, ২. খুলি’ দ্বার বঁধূরে লহ গো ডাকি’॥

নাটকঃ ‘আলেয়া’ (ভোরের হাওয়ার গান)

গোধূলির শুভ লগন এনে

বাণী

গোধূলির শুভ লগন এনে সে কেন বিদায়ের বাঁশি বাজায়।
ওর মিলনের মালা ভালো লাগে না বুঝি গো, ও-শুধু বিরহের অশ্রু চায়।।
	কে জানিত ও-বিরহ-বিলাসী
	সকালের ফুল চায়, সন্ধ্যায় উদাসী,
দিনে যে ধরা দেয় দীনের মতন রাতে সে শূন্যে কেন মিশে যায়।।
	ঘরে এনে কেন ভোলাতে চায় ঘর
	আত্মা জড়ায়ে কাঁদে, আত্মীয়ে করে পর,
প্রেম-কৃপা-ঘন সে নাকি সুন্দর — কেন তবে অসহ দুঃখ দিয়ে কাঁদায়।।

যেন ফিরে না যায় এসে

বাণী

যেন	ফিরে না যায় এসে আজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।
সখি	দিস্‌নে তোরা তা’রে লাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	পথ ভুল ক’রে যায় আন-ঘরে জানি সই,
তবু	আমারি সে রাজাধিরাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	ফুল চুরি ওর পেশা ও শুধু চোখের নেশা, জানি সই,
একা	আমারি ছবি তার হিয়া-মাঝ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।
	সুন্দর ব’লে তায় সকলে পাইতে চায়,
সে	পরালে মোরে প্রেমের তাজ বঁধুয়া ফিরে না যায়।।

মা আমি আর কি ভুলি

বাণী

মা আমি আর কি ভুলি
মাগো আমি আর কি ভুলি।
চরণ যখন ধরেছি তোর মাগো আমি আর কি ভুলি।
আমায় বহু জনম ঘুরিয়েছিস্ মা পরিয়ে চোখে মায়ার ঠুলি॥
	তোর পা ছেড়ে যে মোক্ষ যাচে,
	তুই বর্‌ নিয়ে যা তাহার কাছে
ওমা আমি যেন যুগে যুগে পাই মা প্রসাদ চরণ-ধূলি॥
মোরে শিশু পেয়ে খেল্‌না দিয়ে, রেখেছিলি মা ভুলিয়ে
এখন খেল্‌না ফেলে কোলে নিতে মাকে ডাকি দু’হাত তুলি।
	তোর ঐশ্বর্য যা কিছু মা
	দে ভক্তগণে বিলিয়ে উমা,
তোর ভিখারি এই সন্তানে দিস্ মাতৃনামের ভিক্ষাঝুলি॥