ফুলে ফুলে বন ফুলেলা

বাণী

ফুলে ফুলে বন ফুলেলা।
ফুলের দোলা ফুলের মেলা
ফুল-তরঙ্গে ফুলের ভেলা।।
ফুলের ভাষা ভ্রমর কুঞ্জে
দোলন চাঁপার ঝুলন কুঞ্জে,
মুহু মুহু কুহরে কুহু
সহিতে না পারি ফুল-ঝামেলা।।

নাটক: ‘সাবিত্রী’

হে গোবিন্দ ও অরবিন্দ চরণে

বাণী

হে গোবিন্দ, ও অরবিন্দ চরণে শরণ দাও হে।
বিফল জনম কাটিল কাঁদিয়া, শান্তি নাহি কোথাও হে।।
	জীবন-প্রভাত কাটিল খেলায়,
	দুপুর ফুরাল মোহের মেলায়।
ডাকিব যে নাথ সন্ধ্যা-বেলায়, ডাকিতে পারিনি তাও হে।।
এসেছি দুঃখ-জীর্ণ পথিক মৃত্যু-গহন রাতে।
কিছু নাহি প্রভু সম্বল, শুধু জল আছে আঁখি-পাতে।।
	সন্তান তব বিপথগামী,
	ফিরিয়া এসেছে হে জীবন-স্বামী।
পাপী তাপী তবু সন্তান আমি ধূলা মুছে-কোলে নাও হে।।

এখনো মেটেনি আশা এখনো মেটেনি সাধ

বাণী

এখনো মেটেনি আশা এখনো মেটেনি সাধ।
এখনো নয়ন মানে নাই তার চাহনির অপরাধ।।
	আজো ঢেউগুলি নীল সায়রের কোলে
	জল-তরঙ্গে ঝঙ্কার তোলে
পিয়াসি চাতক আজো চেয়ে ফেরে বরষার পরসাদ।।
কবে ফুটছিল রূপের কুসুম বনানীর লতা-গাছে,
আজো গৌরী-চাঁপার রঙটুকু তার মরমে লাগিয়া আছে।
	চ'লে গেছে চাঁদ আলো আবছায়
	দাগ ফেলে হিয়া-আয়নার গায়
থেমেছে কানুর বাঁশরি থামেনি যমুনার কলনাদ।।
ঢাল পিয়ালে লাল সিরাজী নিত্য দোদুল তালে তালে
আঁকবো বুকে প্রীতির ব্যথা রঙ্গিন নেশায় রঙ্গিন জালে।।
মত্ত হবো চিত্ত হারা বেদনা ভরা বদমেজাজি
করলে পাগল ব্যর্থ আশায় করলে প্রেমরে দাগাবাজি।।
রঙ্গিন বঁধু তুমি শুধু, তুমি শুধু সত্যি হবে
রঙ্গিন নেশায় রঙ্গিন পথে তুমি শুধু সাথী হবে।।
শুল্ক তালু কণ্ঠ আমার দে রে আমার রুগ্ন গালে
দে রে সাকি দে রে ঢেলে নিত্য দোদুল তালে তালে।।

চন্দ্রমল্লিকা চন্দ্রমল্লিকা

বাণী

চন্দ্রমল্লিকা, চন্দ্রমল্লিকা — 
চাঁদের দেশের পথ-ভোলা ফুল চন্দ্রমল্লিকা।
রঙ্‌-পরীদের সঙ্গিনী তুই অঙ্গ’ চাঁদের রূপ-শিখা।।
ঊষর ধরায় আস্‌লি ভুলে তুষার দেশের রঙ্গনী’
হিমেল দেশের চন্দ্রিকা তুই শীত-শেষের বাসন্তিকা।।
চাঁদের আলো চুরি ক’রে আনলি তুই মুঠি ভ’রে,
দিলাম চন্দ্র-মল্লিকা নাম তাই তোরে আদর ক’রে।
	ভঙ্গিমা তোর গরব-ভরা
	রঙ্গিমা তোর হৃদয়-হরা,
ফুলের দলে ফুলরানী তুই — তোরেই দিলাম জয়টিকা।।

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী

বাণী

শ্যাম-সুন্দর-গিরিধারী।
মানস মধু-বনে মধুমাধবী সুরে মুরলী বাজাও বনচারী।।
মধুরাতে হে হৃদয়েশ মাধবী চাঁদ হয়ে এসো,
হৃদয়ে তুলিও ভাবেরই উজান রস-যমুনা-বিহারী।।
অন্তর মন্দিরে প্রীতি ফুলশয্যায় বিলাস কর লীলা-বিলাসী,
আঁখির প্রদীপ জ্বালি' শিয়রে জাগিয়া রব শ্যাম, তব রূপ-পিয়াসি।
যত সাধ আশা গেল ঝরিয়া, পর তাই গলে মালা করিয়া;
নূপুর করিব তব চরণে গাঁথি' মম নয়নের বারি।।

হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা

বাণী

কৃষ্ণ	: হের আহিরিণী মানস-গঙ্গা দুকূল পাথার।
রাধা	: হরি ভয়ে মরি একা নারী কিসে হব পার।।
কৃষ্ণ	: পারের কাণ্ডারি আমি প্যারী এসো আমার নায়।
রাধা	: ওগো একেলা গোপের কুলবধু আমি, তুমিও তরুণ মাঝি তায়।।
কৃষ্ণ	: যৌবন ভার ভারি পসার রাধে! তবু নাহি ভয়।
রাধা	: ওইটুকু তরী, ভয়ে মরি হরি, ভার যদি নাহি সয়।
উভয়ে	: হের মানস-গঙ্গায় উঠিয়াছে ঢেউ ঝড় বহে অনিবার।।
রাধা	: নাই পারের কড়ি পারে যাব কি করি,
কৃষ্ণ	: দিয়ে মন বাঁধা পারে চল কিশোরী।
উভয়ে	: মোরা ভেসেছি অকূলে প্রেমের গোকুলে কুলের ভয় কি আর।।