দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়

বাণী

দুঃখ সাগর মন্থন শেষ ভারতলক্ষ্মী আয় মা আয়
কবে সে ডুবিলি অতল পাথারে উঠিলি না আর হায় মা হায়॥
	মন্থনে শুধু উঠে হলাহল
	শিব নাই পান কে করে গরল
অমৃত ভান্ড লয়ে আয় মাগো জ্বলিয়া মরি বিষের জ্বালায়॥
হরিৎ ক্ষেত্রে সোনার শস্যে দুলে না আর তোর আঁচল
শুকায়েছে মাগো মায়ের স্তন্য গাভীর দুগ্ধ নদীর জল।
	চাই না মোক্ষ চাই মা বাঁচিতে
	অক্ষয় আয়ু লয়ে ধরণীতে
চাই প্রাণ চাই ক্ষুধায় অন্ন মুক্ত আলোকে মুক্ত বায়॥

তোমার বুকের ফুলদানিতে ফুল হব বঁধু আমি

বাণী

তোমার বুকের ফুলদানিতে ফুল হব বঁধু আমি
শুকাতে হয় শুকাইব ঐ বুকে ক্ষণেক থামি'।।
ঐ নয়নের জ্যোতি হব তিল হব ঐ কপোলের
দুলব মণির মালা হয়ে ঐ গলে দিবস-যামি।।
অঙ্গে তোমার রূপ হব গো ধূপ হব মিলন-রাতে,
গহীন ঘুমে স্বপন হব জল হব নয়ন-পাতে (আমি)।
তোমার প্রেমের সিঙহাসনে রানী হব, হে রাজা মোর।
চরণতলের ধূলি হব হে আমার জীবন-স্বামী।।

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়

বাণী

চিরদিন কাহারও সমান নাহি যায়
আজিকে যে রাজাধিরাজ কা'ল সে ভিক্ষা চায়।।
অবতার শ্রীরামচন্দ্র যে জানকীর পতি
তারও হলো বনবাস রাবণ করে দুর্গতি।
আগুনেও পুড়িল না ললাটের লেখা হায়।।
স্বামী পঞ্চ পাণ্ডব, সখা কৃষ্ণ ভগবান
দুঃশাসন করে তবু দ্রৌপদীর অপমান
পুত্র তার হলো হত যদুপতি যার সহায়।।
মহারাজ হরিশচন্দ্র, রাজ্য দান ক'রে শেষ
শ্মশান-রক্ষী হয়ে লভিল চণ্ডাল-বেশ
বিষ্ণু-বুকে চরণ-চিহ্ন, ললাট-লেখা কে খণ্ডায়।।

আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী

বাণী

	আমার মা যে গোপাল-সুন্দরী। 
যেন	এক বৃন্তে কৃষ্ণ-কলি অপরাজিতার মঞ্জরি।।
মা	আধেক পুরুষ অর্ধ অঙ্গে নারী
	আধেক কালি আধেক বংশীধারী,
	অর্ধ অঙ্গে পীতাম্বর আর অর্ধ অঙ্গে দিগম্বরী।।
মা	সেই পায়ে প্রেম-কুসুম ফোটায় নূপুর-পরা যে চরণ,
মা'র	সেই পায়ে রয় সর্প-বলয় যে পায়ে প্রলয়- মরণ। 
	মার আধ-ললাটে অগ্নি-তিলক জ্বলে
	চন্দ্রলেখা আধেক ললাট তলে,
	শক্তিতে আর ভক্তিতে মা আছেন যুগল রূপ ধরি'।।

সখি আমি-ই না হয় মান করেছিনু

বাণী

সখি		আমি-ই না হয় মান করেছিনু তোরা তো সকলে ছিলি। 
		ফিরে গেল হরি, তোরা পায়ে ধরি, কেন নাহি ফিরাইলি।। 
		তা'রে ফিরায় যে পায়ে ধরি' (তার) পায়ে পায়ে ফেরেন হরি 
		পরিহরি মান, অভিমান (তা'রে) কেন নাহি ফিরাইলি। 
		তোরা তো হরির স্বভাব জানিস। 
তা'র		স্ব-ভাবের চেয়ে পরভাব বেশি তোরা তো হরির স্বভাব জানিস্। 
		তা'র স্বভাব জেনেও রহিলি স্ব-ভাবে ডাকিলি না পরবোধে। 
তা'রে		প্রবোধ কেন দিলি নে সই, তোরা তো চিনিস্ হরিরে 
		প্রবোধ কেন দিলি নে সই।   
		(কেন) ডাকিলি না পরবোধে। 
		(হরি) প্রহরী হইয়া রহিত রাধার ঈষৎ অনুরোধে 
		(তা'রে) অনুরোধ কেন করলি নে সই 
		তোরা যে আমার অন্তরাধা অনুরোধ কেন করলি নে সই। 
		তোরা যে রাধার অনুবর্তিনী 
		অনুরোধ কেন করলি নে সই (কেন) ডাকিলি না পরবোধে।। 

দিকে দিকে পুনঃ জ্বলিয়া উঠেছে

বাণী

দিকে দিকে পুনঃ জ্বলিয়া উঠেছে দীন-ই-ইসলামী লাল মশাল।
ওরে বে-খবর, তুইও ওঠ্‌ জেগে, তুইও তোর প্রাণ-প্রদীপ জ্বাল।।
গাজী মুস্তফা কামালের সাথে জেগেছে তুর্কী সুর্খ-তাজ,
রেজা পহ্‌লবী-সাথে জাগিয়াছে বিরান মুলুক ইরানও আজ
গোলামী বিসরি’ জেগেছে মিসরী, জগলুল-সাথে প্রাণ-মাতাল।।
ভুলি’ গ্লানি লাজ জেগেছে হেজাজ নেজদ্‌ আরবে ইবনে সউদ্‌
আমানুল্লার পরশে জেগেছে কাবুলে নবীন আল-মামুদ,
মরা মরক্কো বাঁচাইয়া আজি বন্দী করিম রীফ্‌-কামাল।।
জাগে ফয়সল্‌ ইরাক আজমে, জাগে নব হারুন-আল্‌-রশীদ,
জাগে বয়তুল মোকাদ্দস্‌ রে; জাগে শাম দেখ্‌ টুটিয়া নিদ
জাগে না কো শুধু হিন্দের দশ কোটি মুসলিম বে-খেয়াল।।
মোরা আস্‌হাব কাহাফের মত হাজারো বছর শুধু ঘুমাই,
আমাদেরি কেহ ছিল বাদশাহ্‌ কোন কালে; তার করি বড়াই,
জাগি যদি মোরা, দুনিয়া আবার কাঁপিবে চরণে টাল্‌মাটাল।।