চাঁদের নেশা লেগে ঢুলে নিশীথিনী

বাণী

চাঁদের নেশা লেগে ঢুলে নিশীথিনী।
মদির হাওয়ার তালে নাচন লাগে ডালে ডালে —
ঝিল্লি নূপুর পরি’ পায় নাচে কানন বিহারিণী।।
নেশার ঘোর লাগে বনে পাপিয়া জাগে
‘চোখ গেল চোখ গেল’ গেয়ে ওঠে গুল-বাগে,
একেলা বাতায়নে হায় জাগে বিরহিণী।।
মহুয়া বকুল ফুলে মদির সুবাস ঘনায়,
চাঁদের ওই মুখ মদের ছিটে লাগে কনক চাঁপায়।
শান্ত হৃদয় মম দুলিছে সাগর সম,
এমন রাতে সে কোথায় আমি যার অনুরাগিণী।।

কোন্ অজানা জনে দিব প্রাণ মোর

বাণী

কোন্ অজানা জনে দিব প্রাণ মোর।
নেবে আমার মালা সে-কোন কিশোর।।
কাহার লাগি’ একেলা জাগি
কোথা সে আমার প্রেম-অনুরাগী,
কোন্ কাননে রয় সে বনমালী চোর।।
পরি’ বধূর সাজ ভুলিয়া কুল লাজ
বৃথা আছি ব’সে কোথা হৃদয়-রাজ,
মম যৌবন-নিশি জেগে হল ভোর।।

রাধা-তুলসী প্রেম-পিয়াসি গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ

বাণী

রাধা-তুলসী, প্রেম-পিয়াসি, গোলকবাসী শ্রীকৃষ্ণ নারায়ণ।
নাম জপ মুখে, মূরতি রাখ বুকে ধ্যান দেখ তারি রপ মোহন।।
	অমৃত রসঘন কিশোর-সুন্দর,
	নব নীরদ শ্যাম মদন মনোহর —
সৃষ্টি প্রলয় যুগল নূপুর শোভিত যাহার রাঙা চরণ।।
	মগ্ন সদা যিনি লীলারসে,
	যে লীলা-রস ভরা গোপী-কলসে,
কান্না-হাসির আলো-ছায়ার মায়ায় যাহার মোহিত ভূবন।।

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে

বাণী

তৃষিত আকাশ কাঁপে রে।
প্রখর রবির তাপে রে।।
চাহিয়া তৃষ্ণার বারি
চাতক ওঠে ফুকারি’
করুণ-শান্ত বিলাপে রে।।
রুদ্রযোগী ও-কে দূর বিমানে,
নিমগ্ন রহিয়াছে যেন ধ্যানে।
শকুন্তলা সম ভয়ে
কাঁপে ধরা র’য়ে র’য়ে,
অগ্নি-ঋষির অভিশাপ রে।।

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে

বাণী

ভুল করে আসিয়াছি অপরাধ যেয়ো ভুলে’।
দেবতা চাহে কি ফুল মরে যবে পদমূলে।।
	ভুলে গেছি স্বপন-ঘোরে
	তুমি যে ভুলেছ মোরে,
তবু খুঁজি স্মৃতির রেখা ভাঙন-ধরা মনের কূলে।।
নাহি মনে — ব্যথা দিয়ে কবে কথা কয়েছিলে
বিশ্ব আমার শূন্য ক’রে কবে বঁধু বিদায় নিলে,
হাসি-মুখখানি শুধু মনে ওঠে দুলে’ দুলে’।।
আমার স্মৃতির চিতা পুড়িয়ে সে-কত বাকি
দেখিয়া চলিয়া যাব যে দেশে নাই তোমার আঁখি,
তুমি থাক হাসির দেশে, আমি হতাশার কূলে।।

গগনে প্রলয় মেঘের মেলা

বাণী

গগনে প্রলয় মেঘের মেলা জীবন-ভেলা দোলে টলমল
নীর অপার ভব পারাবার তীর না হেরে পরান বিকল
	তীর না হেরে নয়নে পরান বিকল।।
	দীন দয়াল ভীত দীন জনে
	মাগে শরণ তব অভয় চরণে
দুস্তর দুর্গম দুঃখ জলধি তরিতে চরণ-তরী ভরসা কেবল।।