আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়

বাণী

আনো সাকি শিরাজি আনো আঁখি-পিয়ালায়
অধীর করো মোরে নয়ন-মদিরায়।।
পান্‌সে জোছনাতে ঝিম্‌ হয়ে আসে মন
শরাব বিনে, হের গুল্‌বন উচাটন,
মদালসা আঁখি কেন ঘোম্‌টা ঢাকা এমন
			বিষাদিত নিরালায়।।
তরুণ চোখে আনো অরুণ রাগ-ছোঁওয়া
আঁখির করুণা তব যাচে ভোরের হাওয়া।
জীবন ভরা কাঁটা-রি জ্বালা
ভুলিতে চাহি শরাব পিয়ালা
তোমার হাতে ঢালা —
দুলাইয়া দাও মোরে আনন্দের হিন্দোলায়
			ভুলাইয়া বেদনায়।।

আমার হরিনামে রুচি কারণ পরিণামে লুচি

বাণী

আমার হরিনামে রুচি, কারণ, পরিণামে লুচি
			আমি ভোজনের লাগি করি ভজন।
আমি মালপোর লোভে এ কল্পলোকে তল্পী বাঁধিয়া এসেছি মন।।
‘রাধা-বল্লভী’ লোভে পূজি রাধা-বল্লভে,
আসি রসগোল্লার তরে রাস মোচ্ছবে।
আমার গোল্লায় গেছে মন, দাদা গো, রসগোল্লায় গেছে মন।
ও তো রসগোল্লা কভু নয়
যেন ন্যাড়া-মাথা বাবাজী থালাতে হয়েন উদয়!
(আর) গজা দেখে প্রেম যে গজায় হৃদিতলে রে,
পানতোয়া দেখে প্রাণ নাচে হরি ব’লে রে!
ঐ গোলগাল মোয়া এই মায়াময় সংসার দেয় গো ভুলিয়ে,
আর ক্ষীরের খোয়াতে খোয়াইতে কুল মন ওঠে চুলবুলিয়ে।
(আমার) মন বলে হরি হরি হাত বলে হর হে,
যত অরসিকে তেড়ে আসে বলে ব্যাটায় ধর হে!
আর এই সংসারে রসিক শুধু রাঁধুনী ও ময়রাই —
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
যারা ময়দা খেয়ে মালপো ঢালে
সেই দুই ভাই আজি এসেছে রে!
আমি চিনি মেখে গায় যোগী হব দাদা যাব ময়রার দেশে,
আর রসকরার কড়াই-এ ডুবিয়া মরিব গলে সন্দেশ ঠেসে।
ভোজন ভজহরি-র শোনো এই তথ্য
গো-ময় সংসারে ভজনই সত্য।।

সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়

বাণী

		সই নদীর পারে বকুল তলায় সুবাস শীতল ছায়
(সখি)	আকুল তাহার আঁখি দুটি কাহার পানে চায়॥
		সই যা না লো দাঁড়ায়ে, কাঁটা বিঁধেছে মোর পায়ে
		তোরা দাঁড়া সখি ক্ষণেক, (সখি) ওকি হাসিস্ কেন হায়॥
		আমার কলসিটি যে ভারি, ডালে বেঁধেছে মোর শাড়ি
		তোরা বলিস ছলে হেরি ওরে (ওলো) ছি ছি একি দায়!
		যদি হেরেই থাকি ওরে, তোরা দুষিস্ কেন মোরে
ওলো		আমার আমি বশে নাই মোর (পাগল) আঁখির নেশায়॥

কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন

বাণী

কে এলে মোর ব্যথার গানে গোপন-লোকের বন্ধু গোপন
নাইতে আমার গানের ধারায় এলে সুরের মানসী কোন।।
	গান গেয়ে যাই আপন মনে
	সুরের পাখি গহন-বনে
সে সুর বেঁধে কার নয়নে জানে শুধু তারি নয়ন।।
	সুরের গোপন বাসর-ঘরে
	গানের মালা বদল ক'রে
সকল আঁখির অগোচরে না দেখাতেই মোদের মিলন।।

ওগো প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ

বাণী

ওগো	প্রিয়তম তুমি চ’লে গেছ আজ আমার পাওয়ার বহু দূরে।
তবু	মনের মাঝে বেণু বাজে সেই পুরানো সুরে সুরে॥
	বাজে মনের মাঝে বেণু বাজে
	প্রিয় বাজাতে যে বেণু বনের মাঝে আজো তার রেশ মনে বাজে॥
	তব কদম-মালার কেশরগুলি
	আজি ছেয়ে আছে ওগো পথের ধূলি,
	ওগো আজিকে করুণ রোদন তুলি’ বয় যমুনা ভাটি সুরে॥
	(আর উজান বয় না,)
	ওগো আজিকে আঁধার তমাল বনে, বসে আছি উদাস মনে
	ওগো তোমার দেশে চাঁদ উঠেছে আমার দেশে বাদল ঝুরে॥
	সেথা চাঁদ উঠেছে —
	ওগো শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
	সেথা শুল্কা তিথির চতুর্দশীর চাঁদ উঠেছে
	সখি তাদের দেশে আকাশে আজ আমার দেশের চাঁদ উঠেছে।
	ওগো মোর গগনে কৃষ্ণা তিথি আমার দেশে বাদল ঝুরে॥

শক্তের তুই ভক্ত শ্যামা

বাণী

শক্তের তুই ভক্ত শ্যামা (তোরে) যায় না পাওয়া কেঁদে।
(তাই) শাক্ত সাধক রাখে তোরে ভক্তি-ডোরে বেঁধে।।
(মা) শাক্ত বড় শক্ত ছেলে
(সে) জানে দড়ি আলগা পেলে
যাবি পালিয়ে চোখে ধূলা দিয়ে মায়া জালে বেঁধে।।
(তুই) সুরাসুরে ভুলিয়ে রাখিস্‌ ইন্দ্রত্বের মোহে,
(ওমা) গুণের কিছু ঘাট নাই তোর নির্গুণ তাই কহে।
তোর মায়াতে ভুলে গিয়ে,
বিষ্ণু ঘুমান লক্ষী নিয়ে
(তোর) অন্ত খুঁজে শিব হয়েছেন ভবঘুরে বেদে।।