মৌন আরতি তব বাজে নিশিদিন

বাণী

মৌন আরতি তব বাজে নিশিদিন
ত্রিভুবন মাঝে প্রভু বানী-বিহীন।।
সম্ভ্রমে-শ্রদ্ধায় গ্রহ-তারা দল
স্থির হয়ে রয় অপলক অচপল,
ধ্যান-মৌনী মহাযোগী অটল
আপন মহিমায় তুমি সমাসীন।।
মৌন সে সিন্ধুতে জলবিম্বের প্রায়
বাণী ও সঙ্গীত যায় হারাইয়া যায়।
বিস্ময়ে অনিমেষ আঁখি চেয়ে রয়
তব পানে অনন্ত সৃষ্টি-প্রলয়,
তব ধ্রুব-লোকে, হে চির অক্ষয়,
সকল ছন্দ-গতি হইয়াছে লীন।।

কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি-কর্ণে

বাণী

	কৃষ্ণচূড়ার রাঙা মঞ্জরি-কর্ণে।
	আমি ভুবন ভুলাতে আসি গন্ধে ও বর্ণে।।
	মোরে চেন কি?
মোর	আঁচলে চাঁপা, হেনা যুঁই অতসী।
মোর	বনের সাজিতে ভরা পলাশ বকুল
	নব আমের মুকুল,
মম	উত্তরী ঝলমল কিশলয়ে পর্ণে।।
	আনি’ মলয়-গিরি হ’তে চন্দন-গন্ধ
	হৃদয়-উদাস-করা সমীর সুমন্দ,
	ছড়াই আবির হাসি জোছনার স্বর্ণে।।

মিলন-গোধূলি রাঙা হয়ে এলো

বাণী

মিলন-গোধূলি রাঙা হয়ে এলো ঐ সোনার গগনময়।
দাও আশিস অভয়, হে দেব জ্যোতির্ময়।।
	মিলিল আবার দুইটি প্রাণ
	কত যুগ পরে, হে ভগবান
সার্থক কর, হে মনোহর, এ মিলন অক্ষয়
যেন চির-সুখী হয়, হে দেব জ্যেতির্ময়।।

নাটিকাঃ ‌‘পুতুলের বিয়ে’

আজি মধুর গগন মধুর পবন

বাণী

আজি মধুর গগন মধুর পবন মধুর ধরতীধাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
বাজত বনমে মধুর মুরলী বোলাতা রাধা নাম
আয়ে ব্রিজমে ঘনশ্যাম।
আজ থির যমুনা আধীর ভায়ি
আয়ে গোকুলকে চাঁদ অন্ধেরি গ্যয়ি,
বোলে কোয়েলিয়া ময়ূর পাপিহা পিয়া পিয়া অবিরাম।।
ব্রিজকে কোঁয়ারি বনকে যোগিনী রোতি থী বিরহ মে,
আজ লেকে গাগরি ওড়ে নীল শাড়ি চলে ফের নীর ভরণে।
	আজ হরিকে সাথ হরিভি আয়ে
	রাঙা আবিরমে গোকুল ছায়ে,
বনশী বাজাওয়ে রসিয়া গারে বিভোর ব্রিজধাম।।

হে মহামৌনী তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী

বাণী

হে মহামৌনী, তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী শোনাবে কবে
যুগ যুগ ধরি’ প্রতীক্ষারত আছে জাগি’ ধরণী নীরবে॥
যে-বাণী শোনার অনুরাগে উদার অম্বর জাগে
অনাহত যে-বাণীর ঝঙ্কার বাজে ওঙ্কার প্রণবে॥
চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারায় জ্বলে যে-বাণীর শিখা
পুষ্পে-পর্ণে শত বর্ণে যে-বাণী-ইঙ্গিত লিখা।
যে অনাদি বাণী সদা শোনে যোগী-ঋষি মুনি জনে
যে-বাণী শুনি না শ্রবণে বুঝি অনুভবে॥

তব ফুলহার নহে মোর

বাণী

তব ফুলহার নহে মোর নহে।
ভুলায়ো না আর মালার মোহে।।
মালার সাথে যদি না মেলে হৃদয়
হানে আরো জ্বালা, মালা সে নয়,
	আরো কাঁদায় বিরহে।।