জাগো জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর

বাণী

জাগো	জাগো গোপাল নিশি হ’ল ভোর,
কাঁদে		ভোরের তারা হেরি’ তোর ঘুম-ঘোর॥
		দামাল ছেলে তুই জাগিস্‌নি তাই
বনে		জাগেনি পাখি ঘুমে মগ্ন সবাই ,
		বাতাস নিশ্বাস ফেলে খুঁজিছে বৃথাই
তোর		বাঁশরি লুটায়ে কাঁদে আঙিনায় মোর॥
তুই		উঠিস্‌নি ব’লে দেখ রবি ওঠেনি
ঘরে		আনন্দ নাই, বনে ফুল ফোটেনি।
		ধোয়াবে বলিয়া তোর মুখের কাজল
		থির হ’য়ে আছে ঘাটে যমুনার জল,
		অঞ্চল-ঢাকা মোর, ওরে চঞ্চল,
আমি		চেয়ে আছি কবে ঘুম ভাঙিবে তোর॥

দেশপ্রিয় নাই শুনি ক্রন্দন সহসা

বাণী

‘দেশপ্রিয় নাই’ শুনি ক্রন্দন সহসা প্রভাতে জাগি’।
আকাশে ললাট হানিয়া কাঁদিছে ভারত চির-অভাগী।।
বহুদিন পরে আপনার ঘরে মা’র কোলে মাথা রাখি’,
ঘুমাতে এসেছে শ্রান্ত সেননী, জাগায়ো না তারে ডাকি’।
দেশের লাগিয়া দিয়াছে সকলি, দেয়নি নিজেরে ফাঁকি —
তাহারি শুভ্র শান্ত হাসিটি অধরে রয়েছে লাগি’।।
স্বার্থ অর্থ বিলাস বিভব গৌরব সম্মান
মায়ের চরণে দিয়াছে সে-বীর অকাতরে বলিদান,
রাজ-ভিখারির ছিল সম্বল শুধু দেহ আর প্রাণ
তাই দিয়ে দিল শেষ অঞ্জলি দানবীর বৈরাগী।।

প্রথম খন্ড

নবনীত সুকোমল লাবনি তব শ্যাম

বাণী

নবনীত সুকোমল লাবনি তব শ্যাম
অবনীতে টলে টলমল।
পত্রে পুষ্পে বনে সুনীল গগন কোণে
সেই লাবনির মায়া ঝরে ঝলমল।।
বিল ঝিল, তড়াগ, পুকুর
সাগর, নদীতে তব শ্যামলিমা হেরি ভরপুর।
শিশির-মুকুরে তব করুণ ছায়া, শ্যাম, করে ছলছল।
নীলের সাগরে তব যেন বিন্দু প্রায়
কোটি গ্রহ তারকা ভাসিয়া ভাসিয়া যায়;
বিশ্ব ব্রহ্মলোক অহরহ করে ধ্যান
শ্যামসুন্দর তব রূপ ঢল ঢল।।

মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে

বাণী

মোহাম্মদের নাম জপেছিলি বুলবুলি তুই আগে।
তাই কিরে তোর কণ্ঠেরি গান, (ওরে) এমন মধুর লাগে।।
	ওরে গোলাপ নিরিবিলি
	নবীর কদম ছুঁয়েছিলি —
তাঁর কদমের খোশবু আজো তোর আতরে জাগে।।
	মোর নবীরে লুকিয়ে দেখে
	তাঁর পেশানির জ্যোতি মেখে,
ওরে ও চাঁদ রাঙলি কি তুই গভীর অনুরাগে।।
	ওরে ভ্রমর তুই কি প্রথম
	চুমেছিলি তাঁহার কদম,
গুন্‌গুনিয়ে সেই খুশি কি জানাস্‌ রে গুল্‌বাগে।।

কিশোরী বাসন্তী ডাকিছে

বাণী

পুরুষ	:	কিশোরী বাসন্তী ডাকিছে তোমায় ফুলবন।
স্ত্রী	:	ডাকে হে শ্যাম, তোমায় তাল ও তমাল বন শন্ শন্।।
পুরুষ	:	তুমি ফুলের বারতা
স্ত্রী	:	তুমি বন-দেবতা,
উভয়ে	:	আমরা আভাস ফাল্গুনের, দূর স্বর্গের পরশন।।
পুরুষ	:	কল্প-লোকের তুমি রূপ-রানী গো প্রিয়া,
		অপাঙ্গে ফোটাও যুঁই-চম্পা-টগর-মোতিয়া।
স্ত্রী	:	নিঠুর পরশ তব (হায়) যাচিয়া জাগে বনভূমি
		ফুলদল পড়ে ঝরি’ তব চারু পদ চুমি’,
উভয়ে	:	আমরা ফুলশর-ঊর্বশী দেব-সভার মোরা হরষণ।।

গাগরী ভরণে চলে চপলা

বাণী

গাগরী ভরণে চলে চপলা ব্রজনারী
যৌবন-লাবনি অঙ্গে বিথারি’।
কাজল-কালো নয়ন গরল মাখানো বাণ,
চকিত চাহনি হানে চতুরা শিকারী।।
চঞ্চল-অঞ্চল উড়ায়ে সাঁজের বায়
আধো আলো আধো ছায়া লুকোচুরি খেলে যায়,
রাঙা তপন হেসে লুকায় লতার পাশে কাঁদে দরশ-ভিখারি।।