তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা

বাণী

তোর রূপে সই গাহন ক’রে জুড়িয়ে গেল গা
তোর গাঁয়েরি নদীর ঘাটে বাঁধলাম এ মোর না।।
	তোর চরণের আলতা লেগে
	পরান আমার উঠল রেঙে (রে)
ও তোর বাউরি কেশের বিনুনীতে জড়িয়ে গেল পা।
তোর বাঁকা ভুরু বাঁকা আঁখি বাঁকা চলন, সই,
দেখে পটে আঁকা ছবির মতন দাঁড়িয়ে পথে রই।
	উড়ে এলি’ দেশান্তরী
	তুই কি ডানা-কাটা পরী (রে)
তুই শুকতারারি সতিনী সই সন্ধ্যাতারার জা’।।

গেরুয়া রঙ মেঠো পথে বাঁশরি বাজিয়ে কে যায়

বাণী

গেরুয়া রঙ মেঠো পথে বাঁশরি বাজিয়ে কে যায়।
সুরের নেশায় নুয়ে প'ড়ে ভুঁই-কদম তার পায়ে জড়ায়।
	আহা ভূঁই-কদম তারা পায়ে জড়ায়।।
	সুর শুনে তার সাঝেঁর ঠোটেঁ,
	বাঁকা শশীর হাসি ফোটে,
গো-পথ বেয়ে ধেনু ছোটে রাঙা মাটির আবির ছড়ায়।
	তারা রাঙা মাটির আবির ছাড়ায়।।
	গগন গোঠে গ্রহ তারা
	সে সুর শুনে দিশেহারা
হাটের পথিক ভেবে সারা ঘরে ফেরার পথ ভুলে যায়।।
	জল নিতে নদী কূলে
	কুলবালা কূল ভুলে
সন্ধ্যা তারা প্রদীপ তুলে বাঁশুরিয়ার নয়নে চায়।
	তারা বাঁশুরিয়ার নয়নে চায়।।

ওগো অন্তর্যামী ভক্তের তব শোন শোন নিবেদন

বাণী

ওগো অন্তর্যামী, ভক্তের তব শোন শোন নিবেদন
যেন থাকে নিশিদিন তোমারি সেবায় মোর তনু-প্রাণ-মন।।
	নয়নে কেবল দেখি যেন আমি
	তোমারই স্বরূপ ত্রিভুবন-স্বামী
শিরে বহি যেন তোমারি পূজার অর্ঘ্য অনুক্ষণ।।
এ রসনা শুধু জপে তব নাম এই বর দাও নাথ;
তোমারি চরণ সেবায় লাগুক মোর এই দুটি হাত।
	ওঠে তব নাম প্রতি নিঃশ্বাসে
	শ্রবনে কেবল তব নাম ভাসে
তব মন্দির-পথে যেন সদা চলে মোর এ চরণ।।

আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো

বাণী

আমার দেওয়া ব্যথা ভোলো।
আজ যে যাবার সময় হলো।।
নিব্‌বে যখন আমার বাতি 
আসবে তোমার নূতন সাথি, 
আমার কথা তা'রে বলো।।
ব্যথা দেওয়ার কী যে ব্যথা 
জানি আমি, জানে দেবতা।
জানিলে না কী অভিমান 
করেছে হায় আমায় পাষাণ, 
দাও যেতে দাও, দুয়ার খোলো।।

মুরলীধ্বনি শুনি ব্রজনারী

বাণী

	মুরলীধ্বনি শুনি ব্রজনারী
	যমুনা-তটে আসিল ছুটে
কুল মান যৌবন দিল চরণে ডারি।।
	পবন গতিহীন রয়ে
	যমুনা উজান বহে
বাঁশরি শুনি’ বিসরে গীত ময়ূর ময়ূরী শুক সারি।।
চকিত হয়ে ধেনুগণ তৃণ নাহি পরশে
গলিয়া পড়ে মেঘ সুর শুনি হরষে।
	বেভুল আহিরিণী
	চেয়ে থাকে উদাসিনী
বাঁশরি শুনি পাশরি গেল নিতে গাগরিতে বারি।।

আজো হেথা তেমনি ধারা বাজে

বাণী

আজো হেথা তেমনি ধারা বাজে শ্যামের বাঁশরি।
আজো হেথা নিশীথরাতে কুঞ্জে আসে কিশোরী।।
বাঁশির তানে শ্রীযমুনা তেমনি উজান বয়
গোঠে গিয়ে বৎস ধেনু উর্ধ্বমুখী রয়।
	কে বলে শ্যাম চ’লে গেছে
	যায়নি ব্রজেই কানু আছে
সে কিরে সই থাকতে পারে বৃন্দাবন পাসরি।।

নাটিকাঃ ‘মীরাবাঈ’