হায় স্মরণে আসে গো অতীত কথা

বাণী

হায় স্মরণে আসে গো অতীত কথা।
নয়নে জল ভরে তাই হৃদয় করে ব্যথা,
মুখ তার রহি’ রহি’ পড়ে মোর মনে।।
তার স্মৃতি ভুলিতে চাহি যতই
সখি মনে পড়ে তারে ততই,
সে কাঁদায় সখি মোরে ঘুমে জাগরণে।।
তার সাথে গেছে প্রাণ, দেহ আছে প’ড়ে,
বাঁচার অধিক আমি সখি গো আছি ম’রে।
নাহি ফুল, আছে কাঁটার স্মৃতি
নাহি আর সে-চাঁদিনী তিথি,
নাহি আর সুখ শান্তি সখি এ জীবনে।।

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে

বাণী

কে হেলে দুলে চলে এলোচুলে
হেসে নদীকুলে এলো হেলে দুলে!
	নূপুর রিনিকি ঝিনি বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।
দূরে মন উদাসি বাজে বাঁশের বাঁশি,
	বকুল-শাখে পাপিয়া ডাকে —
হেরিয়া বুঝি এই বন-বালিকায়
	রঙিন সাজে রে, বাজে রে।।
	এ বুঝি নদীর কেউ
তাই অধীর হলো জলে ঢেউ।
	চন্দন-মাখা যেন চাঁদের পুতলি,
	যত চলে তত রূপ ওঠে উথলি
মেঘে লুকালো পরী লাজে রে, বাজে রে
	পথ-মাঝে রে, বাজে রে।।

হংস-মিথুন ওগো যাও ক’য়ে যাও

বাণী

হংস-মিথুন ওগো যাও ক’য়ে যাও।
বৈশাখী তৃষ্ণার জল কোথা পাও।।
কোন মানস-সরোবর জলে
পদ্মপাতার ছায়া-তলে,
পাখায় বাঁধিয়া পাখা দু’জনে প্রখর বিরহ দাহন জুড়াও।।
অলস দুপুর মোর কাটে না একা,
ঝ’রে যায় চন্দন-পত্রলেখা।
কখন আসিবে মেঘ নভে
মিটিবে আমার তৃষ্ণা কবে,
তৃষায় মূর্ছিতা চাতকী কোথায় তাহার ঘনশ্যাম, ব’লে দাও।।

সুন্দর সুন্দর অপরূপ নন্দন-আনন্দ

বাণী

সুন্দর! সুন্দর! অপরূপ! নন্দন-আনন্দ! মনোহর!!
একহাতে মালা তার একহাতে তরবার
শুভ্র পদ্মজ্যোতিঃ ও-কি দেব-সেনাপতি।
ও কি রতির পতি কিশোর মুরলীধর।।

নাটক : ‘মধুমালা’

পুষ্পিত মোর তনুর কাননে

বাণী

পুষ্পিত মোর তনুর কাননে হায়।
ওগো ফুলধনু, লগ্ন যে ব’য়ে যায়।।
আজি ফাগুন ঋতু উৎসবে
এ দেহ দেউল শূন্য কি রবে,
রতির আরতি ধূপ কি পুড়িবে বিফল কামনায়।।

দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়

বাণী

দুলিবি কে আয় মেঘের দোলায়।
কুসুম দোলে পাতার কোলে পুবালি হাওয়ায়।।
অলকা-পরী অলক খু’লে
কাজরি নাচে গগন-কূলে,
বলাকা-মালার ঝুলন ঝুলায়।।
দাদুরি বোলে, ডাহুকী ডাকে
ময়ূরী নাচে তমাল শাখে,
ময়ূর দোলে কদম-তলায়।।
তটিনী দুলে ঢেউয়ের তালে,
নিবিড় আঁধার ঝাউয়ের ডালে,
বেণুর ছায়া ঘনায় মায়া পরান ভোলায়।।