বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে

বাণী

বন-কুন্তল এলায়ে বন শবরী ঝুরে সকরুণ সুরে।
বিষাদিত ছায়া তার চৈতালী সন্ধ্যার চাঁদের মুকুরে।।
	চপলতা বিসরি যেন বন-যৌবন
	বিরহ-ক্ষীণ আজি উদাস উন্মন,
তোলে না ঝঙ্কার আর ঝরা পাতার মর্মর নূপুরে।।
যে কুহু কুহরিত মধুর পঞ্চমে বিভোর ভাবে,
ভগ্ন কণ্ঠে তার থেমে যায় সুর করুণ রেখাবে।
	কোন বন-শিকারীর অকরুণ তীর
	আলো হ’রে নিল ওই উজল আঁখির —
ফেলে যাওয়া বাঁশি তা’র অঞ্চলে লুকায়ে —
	গিরি–দরি–প্রান্তরে খোঁজে সে নিঠুরে।।

ভোরের তরুণ অরুণে আর পূর্ণিমার চাঁদে

বাণী

		ভোরের তরুণ অরুণে আর পূর্ণিমার চাঁদে।
		পাশাপাশি শুয়ে লো দেখ এক শয্যায় কাঁদে।।
		রাজার কুমার গড়া যেন ভোরের আলো দিয়ে
		রাজকন্যার সৃষ্টি যেন পদ্ম পাঁপড়ি নিয়ে,
(আমি)	দেখি সুন্দর বিধাতারে এ দুই রূপের ফাঁদে।।

নাটক : ‘মধুমালা’

বহিছে সাহারায় শোকেরই 'লু' হাওয়া

বাণী

বহিছে সাহারায় শোকেরই 'লু' হাওয়া
দোলে অসীম আকাশ আকুল রোদনে।
নূহের প্লাবন আসিল ফিরে যেন,
ঘোর অশ্রু-শ্রাবণ ধারা ঝরে সঘনে।।
'হায় হোসেনা' 'হায় হোসেনা' বলি'
কাঁদে গিরি নদী, কাঁদে বনস্থলী
কাঁদে পশু ও পাখী তরুলতার সনে।।
ফকির বাদশাহ গরীব ওমরাহে
কাঁদে তেমনি আজো তাঁরি মর্সিয়া গাহে,
বিশ্বে যাবে মুছে মুছিবে না এ আঁসু,
চিরকাল ঝরিবে কালের নয়নে।।
সেই সে কারবালা সেই ফোরাত নদী
কুল-মুসলিম-হৃদে গাহিছে নিরবধি,
আসমান জমীন রহিবে যতদিন
সবে কাঁদিবে এমনি আকুল কাঁদনে।।

মাধব গোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণ মুরারি

বাণী

মাধব গোবিন্দ শ্রীকৃষ্ণ মুরারি॥
কহ নাম মুখে গাহ সুখে দুখে
মণিহারই করে গেঁথে রাখ বুকে
	গোলকে হরি তার সখা সাথী প্যারী॥
পেল না ব্রহ্মা শিব ধেয়ানে যাহারে
বাঁধিল গোকুলে গোয়ালিনী তারে
	যুগে যুগে সে যে প্রেমের ভিখারি॥
লীলা রসে তাহার ডুবে রও অবিরাম
এ সংসার হবে রে সুমধুর ব্রজধাম
	ধরিবেন হৃদয়ে তোরে গিরিধারী॥

এসো বসন্তের রাজা হে আমার

বাণী

এসো বসন্তের রাজা হে আমার
এসো এ যৌবন-বাসর-সভাতে।।
ফুলের দরবারে পাখির জলসাতে
বুকের অঞ্চল-সিংহাসনে মম
বসো আমার চাঁদ চাঁদনি রাতে।।
রূপের দীপালি মোর জ্বলবে তোমায় ঘিরে বঁধূ,
পিয়াব তোমায় পিয়া কানে-কানে কথার মধু।
বন-কুসুমের মালা দিব বাহুর মালার সাথে
চরণে হব দাসী বন্ধু হব দুখ রাতে।।

রেশমি রুমালে কবরী বাঁধি

বাণী

রেশমি রুমালে কবরী বাঁধি’ —
নাচিছে আরবি নটিনী বাঁদি।।
বেদুঈনী সুরে বাঁশি বাজে
রহিয়া রহিয়া তাঁবু মাঝে,
সুদূরে সে-সুরে চাহে ঘোম্‌টা তুলিয়া শাহজাদী।।
যৌবন-সুন্দর নোটন কবুতর নাচিছে মরু-নটী
গাল যেন গোলাপ কেশ যেন খেজুর-কাঁদি।।
চায় হেসে হেসে চায় মদির চাওয়ায়,
দেহের দোলায় রং ঝ’রে যায় ঝর্‌ঝর্‌,
ছন্দে দুলে ওঠে মরু মাঝে আঁধি।।