ও কে উদাসী আমায় হায়

বাণী

ও কে উদাসী আমায় হায়
ডাকে আয় আয়
	গোধূলি-বেলায় বাজায়ে বাঁশরি।
তা’র পাহাড়ি সুরে
মোর নয়ন ঝুরে
	মম কুল-লাজ গৃহ-কাজ যাই পাশরি’।।
তা’র সুরের মায়ায় আকাশ ঝিমায়,
	চাঁদের চোখে তিমির ঘনায় —
তা’র বিরহে মধুর মোহে জীবন মরণ পলকে বিসরি।।

মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা

বাণী

মালঞ্চে আজ কাহার যাওয়া আসা।
ঝরা পাতায় বাজে
মৃদুল তাহার পায়ের ভাষা।।
আসার কথা জানায়
ঐ যে ফুলের আখর সবুজ পাতায়,
ঐ দোয়েল শ্যামার কূজন কয় যে বাণী
ঐ ঐ তার ভালোবাসা।।
মদির সমীরণে
তনুর সুবাস পাই যে ক্ষণে ক্ষণে,
সবুজ বসন ফেলি’
পরল ঐ বন কুস্‌মী রাঙা চেলি।
তাই বসুন্ধরায় জাগে অরুণ আশা —
ঐ ঐ যে আলোকের পিপাসা।।

মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন

বাণী

মেঘ-মেদুর গগন কাঁদে হুতাশ পবন
কে বিরহী রহি’রহি’দ্বারে আঘাত হানো।
শাওন ঘন ঘোর ঝরিছে বারি অঝোর
কাঁপিছে কুটির মোর দীপ নেভানো।।
বজ্রে বাজিয়া ওঠে তব সঙ্গীত,
বিদ্যুতে ঝলকিছে আঁখি-ইঙ্গিত,
চাঁচর চিকুরে তব ঝড় দুলানো, ওগো মন ভুলানো।।
এক হাতে, সুন্দর, কুসুম ফোটাও!
আর হাতে নিষ্ঠুর মুকুল ঝরাও।
হে পথিক, তব সুর অশান্ত ব‍ায়
জন্মান্তর হতে যেন ভেসে আসে হায়!
বিজড়িত তব স্মৃতি চেনা অচেনায় প্রাণ কাঁদানো।।

ওরে মথুরা-বাসিনী মোরে বল্

বাণী

ওরে মথুরা-বাসিনী, মোরে বল্।
কোথায় রাধার প্রাণ — ব্রজের শ্যামল।।
		আজও রাজ-সভা মাঝে
	(সে)	আসে কি রাখাল-সাজে?
আজও তার বাঁশি শুনে যমুনার জল হয় কি উতল।।
পায়ে নূপুর কি পরে শিরে ময়ূর-পাখা,
আছে শ্রীমুখে কি অলকা তিলক আঁকা।
		রাধা রাধা ব’লে কি গো
		কাঁদে সেই ময়া-মৃগ?
নারায়ণ হয়েছে সে তোদের মথুরা এসে মোদের চপল।।

ফিরি ক’রে ফিরি আমি আল্লাহ্ নবীর নাম

বাণী

	ফিরি ক’রে ফিরি আমি আল্লাহ্ নবীর নাম।
	দেশ-বিদেশে পথে ঘাটে হাঁকি সুব্হ-শাম।।
			কলমা শাহাদতের বাণী
		যে	বারেক বলে একটুখানি,
সে	চাওয়ার অধিক দেয় আমারে মোর সওদার দাম।।
	দাম দিয়ে সব দুনিয়াদারীর দামি জিনিস চায়,
	অমূল্য এই আল্লারই নাম কেউ চাহে না হায়।
			আল্লাহ্ নামের ফেরিওয়ালায়
			ডাকে ওরা শেষের বেলায়,
ঐ	নাম দিয়ে সে আখেরে পায় বেহেশ্‌তী আরাম।।

১. দাম দিয়ে সব দুনিয়াদারীর মিটায় দেনা; / অমূল্য এই আল্লাহর নাম কেই চা’বে না?

ফিরি পথে পথে মজনুঁ দীওয়ানা হয়ে

বাণী

	ফিরি পথে পথে মজনুঁ দীওয়ানা হয়ে।
	বুকে মোর এয়্ খোদা তোমারি এশ্‌ক ল’য়ে।।
	তোমার নামের তস্‌বিহ্‌ ল’য়ে ফিরি গলে
	দুনিয়াদার বোঝে না মোরে পাগল বলে,
	ওরা চাহে ধনজন, আমি চাহি প্রেমময়ে।।
	আছ সকল ঠাঁয়ে শু’নে বলে সবে
	এমনি চোখে তোমার দিদার কবে হবে
আমি	মনসুর নহি যে পাগল হব ‘আনাল্ হক’ ক’য়ে।।
	তোমার হবিবের আমি উম্মত্ এয়্ খোদা
	তাই ত দেখিতে তোমায় সাধ জাগে সদা,
আমি	মুসা নহি যে বেহোঁশ্ হয়ে পড়ব ভয়ে।।
	তোমারি করুণায় যাবই তোমায় জেনে
	বসাব মোর হৃদে তোমার আর্শ এনে,
আমি	চাই না বেহেশ্‌ত, র’ব বেহেশ্‌তের মালিক ল’য়ে।।