তোমার কথার পারাবতগুলি

বাণী

তোমার কথার পারাবতগুলি আকাশে উড়িয়া যায়।
অঞ্চল মেলি’ চঞ্চল মন তাহারে ধরিতে চায়।।
	ব্যাকুল বক্ষে কোন্‌ তরুণীর
	উহারা কি কভু বাঁধিবে না নীড়?
(ওরা) শূন্য মনের কথা কি গো তাই শূন্যে মিলায় হায়।।
গানের আড়ালে ওগো ও-সুরের দেবতা কেন এ লুকিয়ে রাখা,
কেন কামনার কপোতগুলি ছড়াও দিগ্বিদিকে পরায়ে সুরের পাখা!
	যে বুকে জাগে এ সুর, এত কথা
	সারা বিশ্বের বিরহের ব্যথা,
বল বল সেথা একটি হৃদয় ঠাঁই কেন নাহি পায়।।

গীতি-আলেখ্য : ‘আকাশবাণী’

১. ভবনে বসিয়া উন্মুখ মন তাহারে ধরিতে চায়, ২. কবি, ৩. থাকা

মেরে শ্রীকৃষ্ণ ধরম শ্রীকৃষ্ণ করম

বাণী

মেরে শ্রীকৃষ্ণ ধরম শ্রীকৃষ্ণ করম শ্রীকৃষ্ণহি তন-মন-প্রাণ।
সব্‌সে নিয়ারে পিয়ারে শ্রীকৃষ্ণজী নয়নুঁকে তারে সমান॥
দুখ সুখ সব শ্রীকৃষ্ণ মাধব কৃষ্ণহি আত্মা জ্ঞান
কৃষ্ণ কণ্ঠহার আঁখকে কাজর কৃষ্ণ হৃদয়মে ধ্যান
শ্রীকৃষ্ণ ভাষা শ্রীকৃষ্ণ আশা মিটায়ে পিয়াস উয়ো নাম (মেরে)
স্বামী-সখা-পিতা-মাতা শ্রীকৃষ্ণজী ভ্রাতা-বন্ধু-সন্তান॥

বলেছিলে ভুলিবে না মোরে

বাণী

বলেছিলে ভুলিবে না মোরে।
ভুলে গেলে হায়, কেমন ক’রে।।
নিশীথের স্বপনে কে যেন কহে
ধরণীর প্রেম সে কি স্মরণে রহে,
ফুলের মতন ফুটে যায় রে ঝ’রে।।
বোঝে না বিরহী মন অসহায়,
যত নাহি পায় তত জড়াইতে চায়।
যত দূরে যাও তত, তব গাওয়া গান
কেন স্মৃতিপথে এসে কাঁদায় এ প্রাণ,
আঁখিতে দেখি না দেখি আঁখির লোরে।।

একদা সব সুরাসুরের খেয়াল হল

বাণী

একদা সব সুরাসুরের খেয়াল হল দাদা।
সমুদ্রেরে ঘেঁটে ঘুঁটে করতে হবে দধিকাদা।।
দেখেছ তো গয়লানিরা যে-ভাবে দুই মথে।
(তেমনি) সাগরকে সব ঘুঁটেছিলেন মন্দার পর্বতে।।
(অর্থাৎ) মন্দার গিরি হয়েছিল দই ঘুঁটবার কাঠি।।
আর কূর্ম হলেন সমুদ্ররূপ দই রাখবার বাটি।।
কাঠি এলো, বাটি এলো, দড়া কোথায় পান।
(সবে) বাসুকীর শ্রী-লেজুড় ধ’রে মারেন হেঁচ্কা টান।।
বাসুকী কয় ল্যাজ ছাড়ো বাপ গ্যাজ উঠল মুখে।
বাসুকীকে করল দড়া দেবতারা সব রুখে।।
ল্যাজ ধরল দেবতা, অসুর দানব ধরে মুড়ো।
সাগর বলে আস্তে বাবা একি প্রলয় হুড়ো।।
যা আছে মোর বের করছি — ঘাঁটিস্‌নে আর পেট।।
উচ্চৈঃশ্রবা, চন্দ্র, লক্ষ্মী — সব দিচ্ছি ভেট।।
(ক্রমে) অমৃত যেই উঠল অমনি লাগলো গুঁতোগুঁতি।
দৈত্যেরা সব কোপ্‌নি আঁটে দেবতা কষেন ধুতি।।
মাঝে থেকে শ্রীবিষ্ণু মোহিনী রূপ ধ’রে।
ছোঁ মেরে সেই সুধার ভাণ্ড নিয়ে পড়লেন স’রে।।
অমৃত খান দেবতারা সব, অসুর মাটি চাটে।
(যেমন) দোহন শেষে দুগ্ধ খোঁজে বাছুর শুকনো বাঁটে।।
(ক্রম) ঘটর ঘটর ঘোঁটার ঠেলায় উঠলো হলাহল।
ত্রাহি ত্রাহি বলে ত্রিলোক, করে কোলাহল।।
বিষের জ্বালায় সৃষ্টি বুঝি পটল তোলে ওই।
সিদ্ধিখোর শ্রীপিশাচপতি কয় ডেকে মাভৈঃ।।
ছুটে এসে পাগ্‌লা ভাঙোড় এক সুমুদ্দুর বিষ।
ঢক ঢকিয়ে ফেললে গিলে গা করে নিস্‌পিস্‌।।
বলদে যে বেড়ায় চ’ড়ে ছাই পাঁশ গায়ে মাখে।
তাকে ছাড়া চতুর দেবতা বিষ দেবে বল কাকে।।
ফুলের মধ্যে ধুতরো নিলেন মশান যাহার ঘর।
(পোড়া) কপালে তার আগুন জ্বলে — জয় ন্যাংটেশ্বর।।

নাটক : ‘সতী’ (মন্মথ রায়-রচিত)

রাস-মঞ্চে দোল-দোল লাগে রে

বাণী

রাস-মঞ্চে দোল-দোল লাগে রে, জাগে ঘূর্ণি-নৃত্যের দোল।
আজি রাস-নৃত্য নিরাশ চিত্ত জাগো রে,
চল যুগলে যুগলে বন-ভবনে -  
আনো নিথর হেমন্ত হিম পবনে চঞ্চল হিল্লোল॥
শতরূপে প্রকাশ আজি শ্রী হরি,
শত দিকে শত সুরে বাজে বাঁশরি -  
সকল গোপিনী আজি রাই কিশোরী, -
যাবে তৃষ্ণা, পাবে কৃষ্ণের কোল॥
তরল তাল ছন্দ-দুলাল নন্দ-দুলাল নাচে রে,
অপরূপ রঙ্গে নৃত্য-বিভঙ্গে অঙ্গের পরশ যাচে রে;
মানস-গঙ্গা অধীর-তরঙ্গা প্রেমের-যমুনা হ’ল রে উতরোল॥

প্রণমি তোমায় বনদেবতা

বাণী

প্রণমি তোমায় বনদেবতা।
শাখে শাখে শুনি তব ফুল-বারতা — দেবতা।।
তোমার ময়ূর তোমার হরিণ
লীলা-সাথী রয় নিশিদিন,
বিলায় ছায়া বাণী-বিহীন —
		তরু ও লতা — দেবতা।।