আমার কোন কুলে আজ ভিড়লো তরী

বাণী

আমার	কোন্‌ কূলে আজ ভিড়লো তরী
			এ কোন সোনার গাঁয়
আমার	ভাটির তরী আবার কেন
			উজান যেতে চায়
		তরী	উজান যেতে চায়
	কোন কূলে মোর ভিড়লো তরী
	এ কোন্‌ সোনার গাঁয়।।
আমার	দুঃখেরে কান্ডারী করি’
আমি	ভাসিয়েছিলাম ভাঙা তরী
তুমি	ডাক দিলে কে স্বপন–পরী
			নয়ন ইশারায়।।
	নিভিয়ে দিয়ে ঘরের বাতি
	ডেকেছিলে ঝড়ের রাতি
তুমি	কে এলে মোর সুরের সাথী গানের কিনারায়।
তুমি 	কে এলে? ওগো কে এলে মোর সুরের সাথী
			গানের কিনারায়?
	সোনার দেশের সোনার মেয়ে,
ওগো তুমি	হবে কি মোর তরীর নেয়ে,
	ভাঙ্গা তরী চলো বেয়ে রাঙা অলকায়।।

১. ‘অন্তরা’ অংশ গ্রামোফোন রেকর্ডে গাওয়া হয়নি।

আয় বিজয়া আয় রে জয়া

বাণী

আয় বিজয়া আয় রে জয়া উমার লীলা যা রে দেখে।
সেজেছে সে মহাকালী চোখের কাজল মুখে মেখে।।
	সে ঘুমিয়েছিল আমার কোলে
	জেগে উঠে কেঁদে বলে,
আমায় কালী সাজিয়ে দে মা ছেলেরা মোর কাঁদছে ডেকে।।
চেয়ে দেখি মোর উমা নাই নাচে কালী দিগম্বরী,
হুঙ্কার দেয় কোটি গ্রহের মুণ্ডমালা গলায় পরি’।
	আমি শুধু উমায় চিনি
	এ কোন্ মহামায়াবিনী,
কালোরূপে বিশ্বভুবন আকাশ-পবন দিল ঢেকে।।

শূণ্য এ বুকে পাখি মোর আয়

বাণী

শূন্য এ–বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয় ফিরে আয়!
তোরে না হেরিয়া সকালের ফুল অকালে ঝরিয়া যায়।।
		তুই নাই ব’লে ওরে উন্মাদ
		পান্ডুর হ’ল আকাশের চাঁদ,
কেঁদে নদী–জল করুণ বিষাদ ডাকে: ‘আয় ফিরে আয়’।।
		গগনে মেলিয়া শত শত কর
		খোঁজে তোরে তরু, ওরে সুন্দর!
তোর তরে বনে উঠিয়াছে ঝড় লুটায় লতা ধূলায়!
		তুই ফিরে এলে, ওরে চঞ্চল
		আবার ফুটিবে বন ফুল–দল
ধূসর আকাশ হইবে সুনীল তোর চোখের চাওয়ায়।।

নিরন্ধ্র মেঘে মেঘে অন্ধ গগন

বাণী

নিরন্ধ্র মেঘে মেঘে অন্ধ গগন।
অশান্ত-ধারে জল ঝরে অবিরল,
		ধরণী ভীত-মগন॥
ঝঞ্ঝার ঝল্লরী বাজে ঝনন্‌ননন
দীর্ঘশ্বসি’ কাঁদে অরণ্য শনশন,
প্রলয় বিষাণ বাজে বজ্রে ঘনঘন —
মূর্ছিত মহাকাল-চরণে মরণ॥
শুধিবে না কেহ কি গো এই পীড়নের ঋণ,
দুঃখ-নিশি-শেষে আসিবে না শুভদিন।
দুষ্কৃতি বিনাশায় যুগ-যুগ-সম্ভব
অধর্ম নিধনে এসো অবতার নব,
‘আবিরাবির্ম এধি’ ঐ ওঠে রব —  
জাগৃহি ভগবন্, জাগৃহি ভগবন্॥

বাঁকা চোখে চাহে ও কে

বাণী

‌	বাঁকা চোখে চাহে ও কে
	ওকি ভয়ে, না লাজে, না ভালোবাসায়?
	বটের ঝুরি ধ’রে হেসে তাকায়
	দীঘির জলে কভু কল্‌সি ভাসায়॥
(আমার) পাখি শিকার দেখে তাহার আঁখি ছলছল
যেন	দুটি ঝিনুক ভরা কাজলা দীঘির জল
তার	আঁজলা ভরা শাপলা কাঁপে টলমল্ গো
সে	বাঁকিয়ে জোড়া ভুরু মোরে শাসায়॥
কভু	এলায়ে গা বাঁধে খোঁপা কোমরে জড়ায় আঁচল
	মট্‌কায় আঙুল, কভু ঘসে সে পা গো
কভু	জলে ডোবে কভু সাঁতার কাটে
	নানান ছলে সে দেরি করে জলের ঘাটে
মোরে	জানায় যেন ও সে আছে ব’সে
	কাহার আসার আশায়॥

কোন্‌ বন হ’তে করেছ চুরি

বাণী

কোন্ বন হ’তে করেছ চুরি হরিণ-আঁখি (গো ঐ)।
যেন আননে বেঁধেছে বাসা কানন-পাখি (ভীরু)।।
চুরি করা ঐ নয়ন কি তাই ভয় এত চোখে।
নীল সাগর বলে, ডাগর ও-চোখ আমারি নাকি।।
চিরকালের বিজয়িনী ও-উজল নয়নে।
(তুমি) দু’ধারী তলোয়ার রেখেছ জহর মাখি’।।
পুড়িল মদন তোমার ঐ চোখের দাহে।
সে গেছে তোমার ঐ চোখে তার ফুল-বাণ রাখি’।।