ওগো প্রিয় তব গান আকাশ-গাঙের জোয়ারে

বাণী

ওগো	প্রিয়, তব গান! আকাশ-গাঙের জোয়ারে
		উজান বহিয়া যায়
	মোর কথাগুলি কাঁদিছে বুকের দুয়ারে
		পথ খুঁজে নাহি পায়।।
ওগো	দখিনা বাতাস, ফুলের সুরভি বহ
		ওরি সাথে মোর না-বলা বাণী লহ
ওগো	মেঘ, তুমি মোর হয়ে গিয়ে কহ
	বন্দিনী গিরি ঝরনা পাষাণ-তলে
		যে কথা কহিতে চায়।।
	ওরে ও সুরমা, পদ্মা, কর্ণফুলি তোদের ভাটির স্রোতে
	নিয়ে যা আমার না-বলা কথাগুলি ধুয়ে মোর বুক হ'তে
ওরে	'চোখ গেল' বউ কথা কও' পাখি
	তোদের কণ্ঠে মোর সুর, যাই রাখি' কি?
(ওরে)	মাঠের মুরলী কহিও তাহারে ডাকি,
	আমার গানের কলি না-ফোটা বুলি ঝ'রে গেল নিরাশায়।।

বল দেখি মা নন্দরানী

বাণী

	বল দেখি মা নন্দরানী ওগো গোকুলবালা
(ওমা)	কেমন করে তোদের ঘরে (মা) এলো নন্দলালা।
	(মা তুই) কোন সাধনায় দধি মথন করে
	তুললি ননী হৃদয় পাত্র ভরে;
	তুই সেই নবনি দিয়ে যতন করে
	(মা তুই) গড়লি কি এই ননীর পুতুল আঁধার চিকনকালা।।
	অমন রসবিগ্রহ মা গড়তে পারে কে?
	গোপঝিয়ারি গড়তে পারে কে?
	গোকুল মেয়ে নস্ তুই মা তুই কুমারের ঝি।
	(মাগো) তুই নস্ যোগিনী তবু স্বগুণ বলে
	(মা তুই) শ্রীকৃষ্ণে বাঁধলি উদূখলে
	(আমায়) সেই যোগ তুই শিখিয়ে দে মা বসেই জপমালা।।

আমি মুক্তা নিতে আসিনি মা

বাণী

(মা)	আমি, মুক্তা নিতে আসিনি মা ও মা তোর মুক্তি-সাগর কূলে।
	মোর ভিক্ষা-ঝুলি হ’তে মায়ার মুক্তা মানিক নে মা তুলে।।
		মা তুই, সবই জানিস অন্তর্যামী,
		সেই চরণ-প্রসাদ ভিক্ষু আমি,
	শবেরও হয় শিবত্ব লাভ মা তোর যে চরণ ছুঁলে।।
	তুই অর্থ দিয়ে কেন ভুলাস এই পরমার্থ ভিখারিরে,
	তোর প্রসাদী ফুল পাই যদি মা গঙ্গা ধারাও চাই না শিরে।
		তোর শক্তিমন্ত্রে শক্তিময়ী
		আমি হতে পারি ব্রহ্ম-জয়ী
	সেই মাতৃনামের মহাভিক্ষু তোর মায়াতেও নাহি ভুলে।।

নব কিশলয়-রাঙা শয্যা পাতিয়া

বাণী

নব কিশলয়-রাঙা শয্যা পাতিয়া
বালিকা-কুঁড়ির মালিকা গাঁথিয়া
আমি একেলা জাগি রজনী
বঁধু,এলো না তো কই সৃজনী,
বিজনে বসিয়া রচিলাম বৃথা
বনফুল দিয়া ব্যজনী।
কৃষ্ণচূড়ার কলিকা অফুট
আমি তুলি আনিবৃথা রচিনু মুকুট,
মোর হৃদয়ের রাজা এলো না,
মোর হৃদি-সিংহাসন শূন্য রহিল
আমি যাহার লাগিয়া বাসর সাজাই
সে ভাবে মিছে এ খেলনা (সখি)।
সে-যে জীবন লইয়া খেলা করে সখি,
আমি মরণের তীরে ব'সে তা'রে ডাকি
হেসে যায় বঁধু আনঘরে
সে-যে জীবন লইয়া খেলা করে।
সে-যে পাষাণের মুরতি বৃথা পূজা-আরতি
	নিবেদন করি তার পায়:
সাধে কি গো বলে সবে পাষাণ গলেছে কবে?
	তবু মন পাষাণেই ধায় (সখি রে)।
আমি এবার মরিয়া পুরুষ হইব,বঁধু হবে কুলবালা
দিয়ে তারে ব্যথা যাব যথাতথা বুঝিবে সেদিন কালা,
বিরহিণীর কি যে জ্বালা তখনি বুঝিবে কালা।
দিয়ে তারে ব্যথা যাব যথাতথা বুঝিবে সেদিন কালা।।

বেদনা-বিহ্বল পাগল পূবালী পবনে

বাণী

বেদনা-বিহ্বল পাগল পূবালী পবনে
হায় নিদ-হারা তার আঁখি-তারা জাগে আনমনা একা বাতায়নে।।
	ঝরিছে অঝোর নভে বাদল,
	হিয়া দুরু দুরু মন উতল,
কাজলের বাঁধ নাহি মানে হায় — অশ্রুর নদী দু' নয়নে।।
	মন চলে গেছে দূর সুদূর —
	একা প্রিয় যথা ব্যথা-বিধুর,
এ বাদল-রাতি কাটে বিনা সাথী, তারি কথা শুধু পড়ে মনে।।

ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে

বাণী

দ্বৈত	:	ওগো নন্দ দুলাল নাচে ছন্দতালে
স্ত্রী	:	মধু মঞ্জির বোলে মণি কুন্তল দোলে
পুরুষ	:	চন্দন লেখা শোভে চারুভালে॥
স্ত্রী	:	রস যমুনায় জাগে ঢেউ উতরোল
পুরুষ	:	ব্রজগোপিকার প্রাণে লাগে তারি হিল্লোল
দ্বৈত	:	রাস পূর্ণিমা রাতে শিখী নাচে সাথে সাথে
		ফুল দোলে কুঞ্জেরই বকুল ডালে॥
স্ত্রী	:	নাচে নন্দ দুলাল বাজে মোহন বেণূ
পুরুষ	:	অঙ্গের লাবনিতে আলো করে অবনিতে
দ্বৈত	:	হাসিতে ঝরায় ফুল পরাগ রেণু।
স্ত্রী	:	রাঙা পায়ে রুমুঝুমু বাজে মধুর
পুরুষ	:	জীবন মরণ তার যুগল নূপুর
দ্বৈত	:	মুগ্ধ তারকা শশী রাতের দেউলে বসি
		আরতি প্রদীপ শিখা নিত্য জ্বালে॥