কালো জল ঢালিতে সই

বাণী

		কালো জল ঢালিতে সই চিকন কালারে পড়ে মনে।
		কালো মেঘ দেখে শাওনে সই পড়্ল মনে কালো বরণে॥
			কালো জলে দীঘির বুকে
			কালায় দেখি নীল-শালুকে
(আমি)	চম্‌কে উঠি, ডাকে যখন কালো কোকিল বনে॥
		কল্‌মিলতার চিকন পাতায় দেখি আমার শ্যামে লো
		পিয়া ভেবে দাঁড়াই গিয়ে পিয়াল গাছের বামে লো।
			উড়ে গেলে দোয়েল পাখি
			ভাবি কালার কালো আঁখি
		আমি নীল শাড়ি পরিতে নারি কালারি কারণে লো কালারি কারণে॥

ব্রজে আবার আসবে ফিরে আমার ননী-চোরা

বাণী

ব্রজে আবার আসবে ফিরে আমার ননী-চোরা
	আর কাঁদিস্‌নে গো তোরা।
স্বভাব যে ওর লুকিয়ে থেকে কাঁদিয়ে পাগল করা —
	আর কাঁদিস্‌নে গো তোরা।
	আমি যে তার মা যশোদা
	সে আমারেই কাঁদায় সদা,
যেই কাঁদি সে যায় যে ভুলে বনে বনে ঘোরা॥
মথুরাতে আমার গোপাল রাজা হ’ল নাকি,
যেখানে যায়, সে রাজা হয় (তোরে) ভুল দেখেনি আঁখি।
	সে রাজা যদি হয়েই থাকে
	তাই ব’লে কি ভুলবে মাকে,
আমি হব রাজ-মাতা, তাই ওর রাজবেশ পরা॥

দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল যায় ভেসে

বাণী

দিনগুলি মোর পদ্মেরই দল যায় ভেসে যায় কালের স্রোতে
ওগো সুদূর ওগো বিধুর তোমার সাগর-তীর্থ -পথে।।
	বিফল দিনের কমলগুলি
	পড়লো ঝ'রে পাপড়ি খুলি'
নিও প্রিয় তদের তুলি দিন শেষের ম্লান আলোতে।।
সঞ্চিত মোর দিনগুলি হায় ছড়িয়ে গেল অযতনে;
তোমার বরণ-মালা গাঁথা হলো না আর এ জীবনে।
	অন্য মনে কখন বেভুল
	ভাসিয়ে দিলাম দলি সে ফুল
বঞ্চিত তাই হবে কি হায় তোমার চরণ-ছোওয়া হ'তে।।

শত জনম আঁধারে আলোকে

বাণী

শত জনম আঁধারে আলোকে তারকা-গ্রহে লোকে লোকে
প্রিয়তম! খুঁজিয়া ফিরেছি তোমারে।।
	স্বপন হয়ে রয়েছ নয়নে
	তপন হ’য়ে হৃদয়-গগনে,
হেরিয়া তোমারে বিরহ-যমুনা, প্রিয়তম! দুলিয়া উঠে বারে বারে।।
হে লীলা-কিশোর! ডেকেছে আমারে তোমার বাঁশি,
যুগে যুগে তাই তীর্থ-পথিক ফিরি উদাসী।
	দেখা দাও, তবু ধরা নাহি দাও
	ভালোবাস ব’লে তাই কি কাঁদাও,
তোমারি শুভ্র পূজার-পুষ্প প্রিয়তম! ফুটিয়া ওঠে অশ্রুধারে।।

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায়

বাণী

ফিরে ফিরে দ্বারে আসে যায় কে নিতি।
তার অধরে হাসি আর নয়নে প্রীতি।।
দোদুল্ তাহার কায়া ঘনায় চোখে মায়া,
জেগে ওঠে দেখে তা’য় পুরানো স্মৃতি।।
তাহার চরণ-পাতে তাহার সাথে সাথে,
আসে আঁধার রাতে শুক্লা চাঁদের তিথি।।
গেলে মন দিতে চাহে না সে নিতে,
ধরিতে গেলে চোখে সে কী তার ভীতি।।
ডাকি প্রিয় ব’লে তবু যায় সে চ’লে,
পায়ে পায়ে দ’লে হৃদয় ফুল-বীথি।।

নাইয়া ধীরে চালাও তরণী

বাণী

	নাইয়া! ধীরে চালাও তরণী
	একে ভরা ভাদর তায় বালা মাতোয়ালা মেঘলা রজনী।।
	হায় পারে নেওয়ার ছলে নিলে মাঝ নদীতে
	যৌবন-নদী টলমল নারি রোধিতে
ঐ	ব্যাকুল বাতাস হরি’ নিল লাজ বাস
তায়	চঞ্চল-চিত যে তুমি চাহ বধিতে
	পায়ে ধরি ছাড়, বঁধু আমি পরের ঘরের ঘরণী।।
	তরঙ্গ ঘোর রঙ্গ করে, অঙ্গে লাগে দোল্
	একি এ নেশার ঘোরে তনু মন আঁখি লোল্।
	দুলিছে নদী দুলে বায়ু দুলিছে তরী
	কেমনে থির রাখি মোর চিত উতরোল ।
	ওঠে ডিঙি পান্‌সি ভরি’ বারি কি করি কিশোরী রমণী।।