অনাদরে স্বামী পড়ে আছি আমি

বাণী

অনাদরে স্বামী প’ড়ে আছি আমি তব কোলে তুলে নাও
নিয়ে ধরণীর ধূলি আছি আমি ভুলি’ চরণের ধূলি দাও॥
	বিভবে বিলাসে সংসার কাজে
	অশান্ত প্রাণ কাঁদে বন্ধন মাঝে
বৃথা দ্বারে দ্বারে চেয়েছি সবারে এবার তুমি মোরে চাও॥
	যাহা কিছু প্রিয় জীবনের মম
	হরিয়া লহ তুমি, লও প্রিয়তম।
	সূর্যের পানে সূর্যমুখী ফুল
	যেমন চাহিয়া রয় বিরহ-ব্যাকুল
তেমনি প্রভু আমার এ মন তোমার পানে ফিরাও॥

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া

বাণী

লায়লী তোমার এসেছে ফিরিয়া মজনুঁ গো আঁখি খোলো।
প্রিয়তম! এতদিনে বিরহের নিশি বুঝি ভোর হলো।।
মজনুঁ! তোমার কাঁদন শুনিয়া মরু–নদী পর্বতে
বন্দিনী আজ ভেঙেছে পিঞ্জর বাহির হয়েছে পথে।
আজিদখিনা বাতাস বহে অনুকূল,
		ফুটেছে গোলাপ নার্গিস ফুল,
ওগো বুলবুল, ফুটন্ত সেই গুলবাগিচায় দোলো।।
বনের হরিণ–হরিণী কাঁদিয়া পথ দেখায়েছে মোরে,
হুরী ও পরীরা ঝুরিয়া ঝুরিয়া চাঁদের প্রদীপ ধ’রে।
		আমার নয়নে নয়ন রাখিয়া
		কি বলিতে চাও, হে পরান–পিয়া!
নাম ধ’রে ডাকো ডাকো মোরে স্বামী
		ভোলো অভিমান ভোলো।।

জগতে আজিকে যারা

বাণী

জগতে আজিকে যারা
আগে চলে ভয়-হারা
ডেকে যায় আজি তারা,
		চল্‌ রে সুমুখে চল।
পিছু পানে চেয়ে’ মিছে
প’ড়ে আছি সব নীচে,
চাস্‌নে রে তোরা পিছে
		অগ্র-পথিক দল।।
চলার বেগে উঠবে জেগে বনে নূতন পথ
বর্তমানের পানে মোদের চল্‌বে অরুণ-রথ,
অতীত আজি পতিত রে ভাই, রচ্‌ব ভবিষ্যৎ।
স্বর্গ মোরা আন্‌ব, না হয় যাব রসাতল।।
	রইব না পিছে প’ড়ে
	অতীতের কঙ্কাল ধ’রে,
বইবে নব জীবন-স্রোত যৌবন-চঞ্চল।
বিশ্ব-সভাঙ্গনে সকল জাতির সনে
বসিব সম-আসনে গৌরব-উজ্জ্বল।।

বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে

বাণী

বাঁশির কিশোর লুকায়ে হেরিছে একেলা।
পিয়াল বনের পথে নিরালা সাঁঝের বেলা।
হেলে দুলে চলে কে কাঁখে গাগরি,
কাহার ঝিয়ারি, ও কাহার পিয়ারি ওই নবীনা নাগরি।।
নূপুর মিনতি করে কাঁদিয়া কাঁদিয়া
আমারে রাখিও চরণে বাঁধিয়া,
পিয়া পিয়া ব'লে ডেকে ওঠে পাপিয়া।
অঙ্গ জড়ায়ে দোলে আনন্দে ঘাগরি।।
চাঁদের মুখে যেন চন্দন মাখিয়া
কাজল কালো চোখের কলঙ্ক আঁকিয়া —
আকাশ সম ওরে রেখেছে ঢাকিয়া নীলাম্বরী।।

কে এলে হংস-রথে কোথা যাও

বাণী

কে এলে হংস-রথে, কোথা যাও?
তার লিপি এনেছ কি? দাও মোরে দাও।।
যা’র বিরহে মোর হৃদয়-কমল
অশ্রু-সরসী-নীরে কাঁপে টলমল,
শুনেছি তার সাথে তুমি কথা কও —
কার কথা হয় সেথা — শোনাও শোনাও।।
আনন্দ-দূত তুমি, লিপি আন নাই?
দেখিতে কি আসিয়াছ — কত দুঃখ পাই?
সে এত প্রেম দিয়ে কেন লুকিয়ে থাকে
কেন দেখা দেয় না এত যে ডাকে,
কেন মোর আর ভালো লাগে না কিছুই?
মনে ক’রে বলো যদি তার দেখা পাও।।

আঁধার মনের মিনারে মোর

বাণী

আঁধার মনের মিনারে মোর হে মুয়াজ্জিন, দাও আজান
গাফেলতির ঘুম ভেঙে দাও হউক নিশি অবসান।।
	আল্লাহ নামের যে তক্‌বীরে
	ঝর্না বহে পাষাণ চিরে
শুনি’ সে তক্‌বিরের আওয়াজ জাগুক আমার পাষাণ প্রাণ।।
জামাত ভারি জমবে এবার এই দুনিয়ার ঈদগাহে,
মেহেদী হবেন ইমাম সেথায় রাহ্ দেখাবেন গুমরাহে।
	আমি যেন সেই জামাতে
	সামিল হতে পারি প্রাতে
ডাকে আমায় শহীদ হতে সেথায় যতো নওজোয়ান।।