বন-বিহারিণী চঞ্চল হরিণী

বাণী

বন-বিহারিণী	চঞ্চল হরিণী
চিনি আঁখিতে,	চিনি কানন
			নটিনী রে।।
ছুটে চলে যেন	বাঁধ ভাঙ্গা
			তটিনী রে।।
নেচে নেচে চলে	ঝর্ণার
			তীরে তীরে
ছায়াবীথি-তলে	কভু ধীরে চলে,
চকিতে পালায়	ছুটি, ছায়া হেরি,
			গিরি-শিরে।।

নাটকঃ‘সাবিত্রী’

গিন্নির চেয়ে শালী ভালো

বাণী

গিন্নির চেয়ে শালী ভালো মেসোর চেয়ে মামা।
আর ডাইনের চেয়ে ডুগি ভালো অর্থাৎ কিনা বামা।।
একশালা সে দোশালা আচ্ছা, চন্ডুর চেয়ে গাঁজা,
আর হাতের চেয়ে ভালো, তেনার হাতদিয়ে পান সাজা,
আর ধাক্কার চেয়ে গুঁতো ভালো, উকোর চেয়ে ঝামা।।
টিকির চেয়ে বেণী ভালো, ধূতির চেয়ে শাড়ি,
আর পাঠার চেয়ে মুরগি ভালো, থানার চেয়ে ফাঁড়ি
ঠুঁটোর চেয়ে নুলো ভালো, প্যান্ট চেয়ে পায়জামা।।
আর পেয়াদার চেয়ে যম ভালোরে (ভাই), শালের চেয়ে বাঁশ,
আর দাঁড়ির চেয়ে গোফ্ ভলো ভাই আঁটির চেয়ে শাঁস,
আর ছেলের চেয়ে ছালা ভালো (ওগো), ঝুড়ির চেয়ে ধামা।।
পাকার চেয়ে কাঁচা ভালো, কালোর চেয়ে ফরসা
আর পেত্‌নীর চেয়ে ভূত ভালো ভাই, ছাড়বার থাকে ভরসা,
আর ঝগ্‌ড়ার চেয়ে কুস্‌তি ভালো, কাল্লুর চেয়ে গামা।।

হে মহামৌনী তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী

বাণী

হে মহামৌনী, তব প্রশান্ত গম্ভীর বাণী শোনাবে কবে
যুগ যুগ ধরি’ প্রতীক্ষারত আছে জাগি’ ধরণী নীরবে॥
যে-বাণী শোনার অনুরাগে উদার অম্বর জাগে
অনাহত যে-বাণীর ঝঙ্কার বাজে ওঙ্কার প্রণবে॥
চন্দ্র-সূর্য-গ্রহ-তারায় জ্বলে যে-বাণীর শিখা
পুষ্পে-পর্ণে শত বর্ণে যে-বাণী-ইঙ্গিত লিখা।
যে অনাদি বাণী সদা শোনে যোগী-ঋষি মুনি জনে
যে-বাণী শুনি না শ্রবণে বুঝি অনুভবে॥

বলি মাথা খাস্ রাধে ওলো কথা শোন্

বাণী

আবৃত্তি:	কুমারী রাধিকা ঘোষের প্রতি শ্রীমৎ ক্যাগ বিমাতার উক্তি:
		বলি মাথা খাস্ রাধে ওলো কথা শোন্।

		বলি কুল আর তুই খাস্‌নে (রাধে কুল আর তুই খাস্‌নে)
		ওলো গোকুল ঘোষের কন্যা যে তুই কুল গাছ পানে চাস্‌নে
		(পরের কুল গাছ পানে চাস্‌নে)
		ও কুল গাছে বড় কাঁটা
		গায়ে অথবা পায়ে বিঁধিলে দায় হবে পথ হাঁটা
		(রাধে গায়ে অথবা পায়ে বিঁধিলে দায় হবে পথ হাঁটা)
		কলঙ্ক দিলি (কলঙ্ক দিলি)
		তুই যারি তারি কুল চুরি করে খেলি
		গোকুলের কুলে কলঙ্ক দিলি (কুলে কলঙ্ক দিলি) রাধে গো।
		ওলো ভাবিস এখনও বয়েস হয়নি কারণ বেড়াস ফ্রক পরে।
		ওই কুল গাছ আগলায় ভীমরুল চাক
		(ওই কুল গাছ আগলায় ভীমরুল চাক)
		তোর কুল খাওয়া বের হবে ফুলে হবি ঢাক
		(ফুল হবি জয় ঢাক)।
		বলি পড়তে নাকি কুল খেতে যাস রোজ রোজ ইস্কুলে
		(রাধে পড়তে নাকি কুল খেতে যাস রোজ রোজ ইস্কুলে)
		ওই কুলেরি কাঁটায় দুকুল ছিঁড়িস বেণী আঁটিস খুলে
		(রাধে বেণী আঁটিস খুলে)
		খাস তুই টোপা কুল খাস নারকুলে কুল
		(খাস তুই টোপা কুল খাস নারকুলে কুল)
		অত কুল খেয়ে রাতে পেট ডাকে কুল কুল কুল কুল।
		ওলো কুলোতে নারি (কুলোতে নারি)
		ওলো তোর কুল দিয়ে আর কুলোতে নারি (দিয়ে কুলোতে নারি)
		ছিল কুলুঙ্গীতে কুলের আচার তাও খেয়েছিল কুল খোয়ারী
		(কুলুঙ্গীর ও কুলের আচার তাও খেয়েছিস কুল খোয়ারী)।
		ওই কুল গাছ ধরে (সখি গো রাধে গো)
		(বহুত আচ্ছা দাদা বহুত আচ্ছা বহুত আচ্ছা)
		ওই কুল গাছ ধরি কোলাকুলি করি ফ্যাসাদ বাধাবি শেষে
		আর কুল ত্যাগিনী হবে কি নাশিনী কুল গাছ ভালোবেসে
		(আর কুল ত্যাগিনী হবে কি নাশিনী কুল গাছ ভালোবেসে)॥

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি

বাণী

কে দুরন্ত বাজাও ঝড়ের ব্যাকুল বাঁশি
আকাশ কাঁপে সে সুর শুনে সর্বনাশী।।
	বন ঢেলে দেয় উজাড় ক'রে
	ফুলের ডালা চরণ' পরে,
নীল গগনে ছুটে আসে মেঘের রাশি।।
বিপুল ঢেউয়ের নাগর-দোলায় সাগর দুলে
বান ডেকে যায় শীর্ণা নদীর কুলে কূলে
	তোমার প্রলয় মহোৎসবে
	বন্ধু ওগো, ডাকবে কবে?
ভাঙবে আমার ঘরের বাঁধন কাঁদন হাসি।।

ঘুম আয় ঘুম ঘুম

বাণী

ঘুম আয় ঘুম, ঘুম ঘুম ঘুম।
আকাশ-বাতাস জল থল উপবন সব হোক নিঝ্ঝুম।।
শান্ত হোক সব অশান্ত কলরোল
রে পথিক! জীবন-পথের ক্লান্তি ভোল্
নয়নে লাগুক সুখ-স্বপনের কুঙ্কুম।।

নাটক : ‘মধুমালা’ (ঘুমপরী স্বপনপরীর গান)