কার বাঁশরি বাজে মূলতানী-সুরে

বাণী

কার		বাঁশরি বাজে মূলতানী-সুরে
			নদী-কিনারে কে জানে।
সে 		জানে না কোথা সে সুরে
			ঝরে ঝর-নিঝর পাষাণে।।
একে		চৈতালী-সাঁঝ আলস
তাহে		ঢলঢল কাঁচা বয়স,
রহে		চাহিয়া, ভাসে কলস,
ভাসে		হৃদি বাঁশুরিয়া পানে।।
বেণী		বাঁধিতে বসি’ অঙ্গনে
বধু		কাঁদে গো বাঁশরি-স্বনে।
যারে		হারায়েছে হেলা-ভরে
তারে		ও সুরে মনে পড়ে,
		বেদনা বুকে গুমরি’ মরে
			নয়ন ঝুরে বাধা না মানে।।

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি

বাণী

তুমি আমারে কাঁদাও নিজেরে আড়াল রাখি',
তুমি চাও আমি নিশি-দিন যেন তব নাম ধরে ডাকি।।
হে লীলা-বিলাসী অন্তরতম, অন্তর-মধু চাও বুঝি মম
গোপনে করিতে পান, ওগো বঁধু, অন্তরালে সে থাকি।।
বিরহ তোমার ছল, কেন নাহি বুঝি!
আমাতে রহিয়া কাঁদাও আমারে তবু কেন মরি খুঁজি'।
ভুলিয়া থাকি সুখের মোহে তাই বুঝি প্রিয় কাঁদাও বিরহে —
বন্ধু, ওগো বন্ধু;
তুমি অন্তরে এলে রাজ-সমারোহে নয়নেরে দিয়ে ফাঁকি।।

নয়ন যে মোর বারণ মানে না

বাণী

নয়ন যে মোর বারণ মানে না।
বারণ মানে না মন কাঁদন মানে না।।
	নিশিদিন তব আশে
	আছি চেয়ে পথ পাশে
দুকূল বেয়ে সলিল আসে কাজল মানে না।।
	সবার মাঝে থেকেও একা
আমি	তাই তো তোমার চাই গো দেখা,
মরম যে গো, তোমায় ছাড়া কারেও জানে না।।

আদরিণী মোর কালো মেয়ে

বাণী

	আদরিণী মোর কালো মেয়ে রে কেমনে কোথায় রাখি।
তারে	রাখিলে চোখে বাজে ব্যথা বুকে বুকে রাখিলে দুখে ঝুরে আঁখি।।
	কাঙাল যেমন পাইলে রতন লুকাতে ঠাঁই নাহি পায়;
	তেমনি আমার শ্যামা মেয়েরে জানি না রাখিব কোথায়।
			দুরন্ত মোর এই মেয়েরে
			বাঁধব আমি কি দিয়ে রে,
(তাই)পালিয়ে যেতে চায় সে যবে আমি অমনি মা ব’লে ডাকি।।

বাজিয়ে বাঁশি মনের বনে

বাণী

বাজিয়ে বাঁশি মনের বনে এসো কিশোর বংশীধারী।
চূড়ায় আঁধার ময়ূর-পাখা বামে লয়ে রাধাপ্যারী।।
	আমার আঁধার প্রাণের মাঝে
	এসো অভিসারের সাজে,
নয়ন-জলের যমুনাতে উজান বেয়ে ছুটুক বারি।।
এমনি চোখে তোমায় আমি দেখতে যদি না পাই হরি,
দেখাও পদ্মপলাশ আঁখি, তোমার প্রেমে অন্ধ করি’।
হরি হে, ঘুচাও এবার মায়ার বেড়ী,
	পরাও তিলক কলঙ্কেরি,
শ্যাম রাখি কি কুল রাখি’ ভাব শ্যাম হে আর সইতে নারি।।

মহাবিদ্যা আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী কালিকা

বাণী

মহাবিদ্যা আদ্যাশক্তি পরমেশ্বরী কালিকা।
পরমা প্রকৃতি জগদম্বিকা, ভবানী ত্রিলোক-পালিকা।।
	মহাকালি মহাসরস্বতী,
	মহালক্ষ্মী তুমি ভগবতী
তুমি বেদমাতা, তুমি গায়ত্রী, ষোড়শী কুমারী বালিকা।।
কোটি ব্রক্ষ্মা, বিষ্ণু, রুদ্র মা মহামায়া তব মায়ায়,
সৃষ্টি করিয়া করিতেছ লয় সমুদ্রে জলবিম্ব-প্রায়।
	অচিন্ত্য পরমাত্মারূপিণী,
	সুর-নর চরাচর-প্রসবিনী।
নমস্তে শিরে অশুভ নাশিনী, তারা মঙ্গল চন্ডিকা।
নমস্তে শিরে অশুভ নাশিনী, তারা মঙ্গল সাধিকা।।