যা সখি যা তোরা গোকুলে ফিরে

বাণী

যা সখি যা তোরা গোকুলে ফিরে।
যে পথে শ্যামরায় চ’লে গেছে মথুরায়
কাঁদিতে দে ল’য়ে সেই পথ ধূলিরে॥
এ তো ধূলি নয়, ধূলি নয়
হরি-চরণ-চিহ্ন-আঁকা এ যে হরি-চন্দন ধূলি নয়, ধূলি নয়
এই ধূলি মাখিয়া,
হ’য়ে পাগলিনী ফিরিব ‘শ্যাম শ্যাম’ ডাকিয়া।
হব যোগিনী এই ধূলি-তিলক-আঁকিয়া॥ (সখি গো)
শুনিয়াছি দূতি মুখে, প্রিয়তম আছে সুখে সেই মম পরম প্রসাদ।
ভুলিয়া এ রাধিকায়, সে যদি সুখ পায় তার সে সুখে সাধিব না বাদ॥
আমার দীরঘ শ্বাসে উৎসব-বাতি তার যদি নিভে যায়।
তাই ওলো ললিতা আমি হব ধূলি-দলিতা যাব না লো তার মথুরায়॥
আমি মথুরায় যাব, না গেলে মথুরাতে মোর শ্যামে আর ফিরে পাব না। (সখি গো)
হারানো মানিক কভু ফিরে লোকে পায়
হারানো হৃদয় ফিরে নাহি পাওয়া যায়॥

ঝরাফুল-বিছানো পথে এসো

বাণী

ঝরাফুল-বিছানো পথে এসো বিজন-বাসিনী।
জোছনায় ছড়ায়ে হাসি এসো সুচারু-হাসিনী।।
	এসো জড়ায়ে তব তনুতে
	গোধূলী রামধনুতে,
পাপিয়া-পিক-কূজনে গাহিয়া মধু-ভাষিণী।।
	ছন্দ-দোদুল্ গতি
	এসো নোটন্ কপোতী,
বহায়ে মনের মরুতে আনন্দ-মন্দাকিনী।।

বাদল বায়ে মোর নিভিয়া গেছে বাতি

বাণী

বাদল বায়ে মোর নিভিয়া গেছে বাতি।
তোমার ঘরে আজ উৎসবের রাতি।।
তোমার আছে হাসি, আমার আঁখি-জল
তোমার আছে চাঁদ, আমার মেঘ-দল,
তোমার আছে ঘর, ঝড় আমার সাথী।।
শূন্য করি’ মোর মনের বন-ভূমি,
সেজেছ সেই ফুলে রানীর সাজে তুমি।
	নব বাসর-ঘরে
	যাও সে-সাজ প’রে,
ঘুমাতে দাও মোরে কাঁটার সেজ পাতি’।।

ঐ জল্‌কে চলে লো কার ঝিয়ারি

বাণী

ঐ জল্‌কে চলে লো কার ঝিয়ারি। 
রূপ চাপে না তার নীল শাড়ি।। 
এমন মিঠি বিজলি দিঠি শেখালে তায় কে গো? 
রূপে ডুবু ডুবু রবির রঙ-ভরা ছবির, ছোঁয়াচ লেগেছে গো। 
মন মানে না, আর কি করি ! 
চলে পিছনে ছুটে’ তারি।। 
নাচে বুলবুলি ফিঙে ঢেউয়ে নাচে ডিঙে 
মাঠে নাচে খঞ্জন; 
তার দু’টি আঁখি-তারা নেচে হতো সারা —
দেখেছে বল কোন জন? 
আঁখি নিল যে মোর মন্‌ কাড়ি’ —
ঘরে থাকিতে আর নারি লো।। 
গোলাপ বেলী যুঁই-চামেলি - কোন্‌ ফুল তারি তুল্‌ গো
তার যৌবন-নদী বয় নিরবধি ভাসায়ে দু’ কূল গো 
নিল ভাসায়ে প্রাণ আমারি 
রূপে দু’কূল–ছাপা গাঙ্‌ তারি।।

তোমার হাতের সোনার রাখি

বাণী

তোমার হাতের সোনার রাখি আমার হাতে পরালে।
আমার বিফল বনের কুসুম তোমার পায়ে ঝরালে।।
		খুঁজেছি তোমায় তারার চোখে
		কত সে-গ্রহে কত সে-লোকে,
আজ কি তৃষিত মরুর আকাশ বাদল-মেঘে ভরালে।।
দূর অভিমানের স্মৃতি কাঁদায় কেন আজি গো!
মিলন-বাঁশি সহসা ওঠে ভৈরবীতে বাজি’ গো!
		হেনেছ হেলা, দিয়েছ ব্যথা
		মনে পড়ে আজ কেন সে-কথা,
মরণ-বেলায় কেন এ গলায় মালার মতন জড়ালে।।

ধানের ক্ষেতের ঢেউ লেগে আজ

বাণী

ধানের ক্ষেতের ঢেউ লেগে আজ প্রাণের বাঁধন ভাঙল রে!
আমার মনের পুঞ্জিত মেঘ অরুণ-রঙে রাঙল রে।।
	নাচ ভুলেছে বনের কেকা
	দ্বন্দ ভুলে’ হলাম একা,
ময়ূরকণ্ঠী শুভ্র-হংস-মালার পরশ লাগল রে।।
মেহেদি ফুলের মঞ্জরি মোর মন কেবলি রঙ লুকায়,
শিলায় দলি’ রূপের কলি, আল্‌তা হবো তাহার পায়।
	জ্বাল দীপালি খোল রে দুয়ার
	আসে শারদ-জ্যোতির জোয়ার,
আবার আনন্দিনীর আগমনের কৃপার আশা জাগল রে।।