মহুয়া বনে লো মধু খেতে সই

বাণী

মহুয়া বনে লো মধু খেতে, সই,
বাহিরে চাঁদ এলো, ঘরে মোর চাঁদ কই।।
আমার নাচের সাথী কোথা পাইনে দেখা
সরে না পা ওলো নাচতে একা
সে বিনে সখী লো আমি আমার নই।।
মিছে মাদলে তাল হানে মাদলিয়া,
সে কি গেল বিদেশ, মোরে না বলিয়া।
দূরে বাঁশি বাজে পলাশ পিয়াল বনে,
বুঝি ঐ বঁধু মোর, যেন লাগে মনে
সে মোরে ভুলে নাচে কাহার সনে?
সে যে জানতো না সজনী কভু আমি বৈ।।

শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ

বাণী

শ্রীকৃষ্ণ রূপের করো ধ্যান অনুক্ষণ
হবে নিমেষে সংসার-কালীয় দমন।।
	নব-জলধর শ্যাম
	রূপ যাঁর অভিরাম
(যাঁর)	আনন্দ ব্রজধাম লীলা নিকেতন।।
বিদ্যুৎ - বর্ণ পীতান্বরধারী,
বনমালা-বিভূষিত মধুবনারী;
গোপ-সখা গোপী-বঁধু মনোহারী
নওল-কিশোর তনু মদনমোহন।।

ভূমিকম্পের প্রলয়-লীলায় সব হ’ল ছারখার

বাণী

ভূমিকম্পের প্রলয়-লীলায় সব হ’ল ছারখার;
ভিক্ষার ঝুলি ছাড়া আজ ভাই সম্বল নাহি আর।
ভিক্ষা দাও গো ভিক্ষা দাও, কাঁদন কি ঐ শুনিতে পাও —
বিত্তবিহীন চিত্ত ভরিয়া সকরুণ হাহাকার।।
	সারা জীবনের শ্রম-সঞ্চিত
	সম্পদ হ’তে হ’য়ে বঞ্চিত
রিক্ত হস্ত জনগণ হের ফিরিতেছে দ্বার দ্বার।
তোমার ক্ষুধার অন্নে আছে এ ক্ষুধিতের অধিকার।।
	আর্ত বিহারী তরে এ ভিক্ষা
	নহে হে বন্ধু, করে প্রতীক্ষা,
দ্বারে তব দীন পীড়িত মানুষ প্রার্থনা সবাকার।
এই পীড়িতেরে ফিরাতে কে পারে, রুধিবে কে আজি দ্বার।।
	আজ যাহা দিবে সম্বলহীনে
	ফিরায়ে তা পাবে তব দুর্দিনে,
ঐশ্বর্যের পরিণতি হের সমুখে তব বিহার।
ভিক্ষার ঝুলি ভরিয়া হে দাতা বর লহ বিধাতার।।

হায় গো ভালোবেসে অবশেষে

বাণী

(হায় গো) 	ভালোবেসে অবশেষে কেঁদে দিন গেল।
		ফুল-শয্যা বাসি হল, বঁধূ না এলো।।
		শুকাইল পানের খিলি বাঁটাতে ভরা,
		এ পান আমি কারে দিব সে বঁধূ ছাড়া।
(হায় গো) 	নীলাম্বরী শাড়ি ছি ছি পরলেম মিছে লো।।
		এবার ধ’রে দিস্ যদি তায়
		রাখ্‌ব বেঁধে বিনোদ খোঁপায়,
		কাঙালে পাইলে রতন রাখে যেমন লো।।
		সোঁদা-মাখা নিস্‌নে কেশে, গন্ধে যে লো তার
		মনে আনে চন্দন-গন্ধ সোনার বঁধূয়ার।
		এত দুঃখ ছিল আমার এই বয়সে লো।।

বাউল

গভীর রাতে জাগি খুঁজি তোমারে

বাণী

গভীর রাতে জাগি’ খুঁজি তোমারে।
দূর গগনে প্রিয় তিমির–‘পারে।।
জেগে যবে দেখি বঁধু তুমি নাই কাছে
আঙিনায় ফুটে’ ফুল ঝ’রে পড়ে আছে,
বাণ–বেঁধা পাখি সম আহত এ প্রাণ মম —
লুটায়ে লুটায়ে কাঁদে অন্ধকারে।।
মৌনা নিঝুম ধরা, ঘুমায়েছে সবে,
এসো প্রিয়, এই বেলা বক্ষে নীরবে।
কত কথা কাঁটা হ’য়ে বুকে আছে বিঁধে
কত আভিমান কত জ্বালা এই হৃদে,
দেখে যাও এসো প্রিয় কত সাধ ঝ’রে গেল —
কত আশা ম’রে গেল হাহাকারে।।

১. দেখিবে এসো প্রিয়

দিও বর হে মোর স্বামী যবে যাই

বাণী

দিও বর হে মোর স্বামী যবে যাই আনন্দ ধামে
যেন প্রাণ ত্যাজি হে স্বামী শ্রীকৃষ্ণ গোবিন্দ নামে॥
ভাসি যেন আমি ভাগীরথী নীরে অথবা প্রয়াগে যমুনার তীরে
অন্তিম সময়ে হেরি আঁখি নীরে যেন মোর রাধা শ্যামে॥
ব্রজগোপালের শুনায়ে নূপুর মরণ আমার করিও মধুর
বাজায়ো বাঁশি দাঁড়ায়ো আসি’ রাধারে লইয়া বামে॥