এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়

বাণী

এ কোন মায়ায় ফেলিলে আমায়
	চির জনমের স্বামী-
তোমার কারণে এ তিন ভুবনে
	শান্তি না পাই আমি।।
	অন্তরে যদি লুকাইতে চাই
এ আগুন আমি কেমনে লুকাই, ওগো অন্তর্যামী।।
মুখ থাকিতেও বলিতে পারে না বোবা স্বপনের কথা;
বলিতেও নারি লুকাতেও নারি; তেমনি আমার ব্যথা।
	যে দেখেছে প্রিয় বারেক তোমায়
	বর্ণিতে রূপ- ভাষা নাহি পায়
পাগলিনী-প্রায় কাঁদিয়া বেড়ায় অসহায়, দিবাযামী।।

রুমুঝুম রুমুঝুম্ কে এলে নূপুর পায়

বাণী

রুমুঝুম রুমুঝুম্ কে এলে নূপুর পায়
ফুটিল শাখে মুকুল ও রাঙা চরণ-ঘায়।।
সে নাচে তটিনী-জল টলমল টলমল,
বনের বেণী উতল ফুলদল মুরছায়।।
বিজরি-জরীর আঁচল ঝলমল ঝলমল
নামিল নভে বাদল ছলছল বেদনায়।
তালীবন থৈ তাথৈ করতালি হানে ঐ, (হায় রে হায়)
‌‌‘কবি, তোর তমালী কই’ — শ্বসিছে পুবালি-বায়।।

বিরহের নিশি কিছুতে আর চাহে না

বাণী

বিরহের নিশি কিছুতে আর চাহে না পোহাতে ওগো প্রিয়।
জাগরণে দেখা দিলে না নাথ স্বপনে আসিয়া দেখা দিও।।
	হেরিব কবে সে-মোহন রূপ
	শুকায়েছে মালা, পুড়েছে ধূপ,
নিভে যদি যায় জীবন-দীপ তুমি এসে নাথ জ্বালাইও।।
	তব আশা-পথ চাহি’ বৃথায়
	দিবস মাস বরষ যায়,
এ জনমে যদি ভুলিলে হায় — পর জনমে না ভুলিও।।

১. নিভাইও

আল্লা ব’লে কাঁদ বারেক্ রসুল ব’লে কাঁদ্

বাণী

	আল্লা ব’লে কাঁদ বারেক্ রসুল ব’লে কাঁদ্।
	সাফ্ হবে তোর মনের আকাশ উঠবে ঈদের চাঁদ।।
	ভোগে কেবল দুর্ভোগ সার, বাড়ে দুখের বোঝা
	ত্যাগ শিখ্ তুই সংযম শিখ, সেই তো আসল রোজা,
এই	রোজার শেষে ঈদ আস্‌বে, রইবে না বিষাদ।।
	আস্‌বে খোদার দরগা থেকে শিরনি তোর তরে
	কমলিওয়ালা নবীর দেখা পাবি রে অন্তরে,
	খোদার প্রেমের স্রোত বইবে ভেঙ্গে মনের বাঁধ।।
	তোর হৃদয়ের কারবালাতে বইবে ফোরাত নদী
	শহীদের দর্‌জা তোরে দেবেন আল্লা হাদী,
	দুনিয়াদারি ক’রেই পাবি বেহেশ্‌তেরি স্বাদ।।

সখি বল কোন দেশে যাই

বাণী

সখি বল কোন দেশে যাই।
সে বৃন্দা আছে সে বন আছে তবু সে বৃন্দাবন নাই —
গোবিন্দ বিনে লো বৃন্দে (বৃন্দে গো) রাধার বৃন্দাবন হয়েছে আঁধার।
বনে সীতার ছিল যে রাম, মোর বনে নাই ঘনশ্যাম।
আমি কি লয়ে থাকি, কেন দেহ রাখি।
পিঞ্জর আছে প'ড়ে, নাই শ্যাম পাখি,
আর ময়ূর ডাকে না 'কে গো' বলিয়া।
পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
কৃষ্ণপ্রিয়া গো 'প্রিয়া প্রিয়া' বলে পাপিয়া ডাকে না পিয়া।
পথে পথে আর রহে না গো ব্রজগোপিনী আড়ি পাতিয়া।
আজি রাধার সাথে সবার আড়ি,
কৃষ্ণপ্রিয়ার কৃষ্ণ গেছে ছাড়ি'
তাই রাধার সাথে সবার আড়ি, সখি গো —
শুকায়ে গিয়াছে দ্বাদশ কুঞ্জ,
পূর্ণ চাঁদেরই ব্রজে একাদশীর তিথি,
হয়ত আবার বাজিবে বেণু তার, রবে না ব্রজে যবে রাধার স্মৃতি।।

আজি এ বাদল দিনে

বাণী

আজি এ বাদল দিনে কত কথা মনে পড়ে।
হারাইয়া গেছে পিয়া এমনি বাদল-ঝড়ে।।
	আমারি এ বুকে থাকি’
	ঘুমাত সে ভীরু পাখি,
জলদ উঠিলে ডাকি’ লুকাত বুকের ’পরে।।
মোর বুকে মুখ রাখি নিবিড় তিমির কাঁদে,
আমার প্রিয়ার মত বাঁধিয়া বাহুর বাঁধে।
	কোথায় কাহার বুকে
	আজি সে ঘুমায় সুখে,
প্রদীপ নিভায়ে কাঁদি একা ঘরে তারি তরে।।