দিন গেল মোর মায়ায় ভুলে মাটির পৃথিবীতে

বাণী

দিন গেল মোর মায়ায় ভুলে মাটির পৃথিবীতে।
কে জানে কখন নিয়ে যাবে গোরে মাটি দিতে রে।।
	পাঁচ ভূতে আর চোরে মিলে
	রোজগার মোর কেড়ে নিলে;
এখন কেউ নাই রে পারে যাবার দুটো কড়ি দিতে রে।।
রাত্রি শুয়ে আবার যে ভাই উঠব সকাল বেলা,
বলতে কি কেউ পারি তবু খেলি মোহের খেলা।
	বাদ্‌শা আমির ফকির কত
	এলো আবার হল গত রে;
দেখেও বারেক আল্লার নাম জাগে নাকো চিতে।
এবার বসবি কবে ও ভোলা মন আল্লার তস্‌বিতে রে।।

কোন্ মাটিতে আমার কায়া

বাণী

কোন্ মাটিতে আমার কায়া
	সৃজিলে হায় প্রভৃ মোর।
মস্‌জিদে মোর ঠাঁই নাহি পাই,
	সকল দেউল বন্ধ-দোর।।
ফিরি নগর-নারীর মতো
	কাফের দরবেশ বদ্-নসীব,
নাই বেহেশ্‌তের আশা আমার,
	দীন ও দুনিয়া শত্রু ঘোর।।
বেড়াই শ্রীহীন, দেয় অভিশাপ
	যে হেরে সেই আমারে,
রূপ-পূজারি ভুলতে নারি
	মোর প্রতিমার মুখ কিশোর।।
চাইব শারাব, প্রিয়ার অধর
	মরব যেদিন পানশালায়,
কোথায় নরক, কোথায় স্বরগ,
	শারাব-নেশায় রইব ভোর।।

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে

বাণী

যে ব্যথায় এ অন্তর-তল নিশিদিন উঠিছে দুলে'।
তারি ঢেউ এ সঙ্গীতে মোর মুরছায় সুরের কূলে।।
	ভালোবাসা তোমরা যারে
	দু'দিনেই ভোলো গো তারে (হায়)
শরতের সজল মেঘ-প্রায় কেঁদে যাও নিমেষে ভুলে।।
	কঠিন পুরুষেরি মন
	গলিয়া বহে গো যখন
বহে সে নদীর মতন চিরদিন পাষাণ-মূলে।।
আলোর লাগি' জাগে ফুল, নদী ধায় সাগরে যেমন,
চকোর চায় চাঁদ, চাতক মেঘ, যারে চায় তায় চাহে এই রে মন।
নিয়ে যায় সুদূর অমরায় পূজে তায় বাণী-দেউলে।।

ওরে আজই না হয় কালই তোরে

বাণী

ওরে		আজই না হয় কালই তোরে কালী কালী বল্‌তে হবে।
তুই 		কাঁদ্‌বি ধ’রে কালীর চরণ মহাকাল আসিবে যবে।।
		তুই জন্মের আগে ছিলি শিখে মা বল্‌তে মা কালীকে,
তুই 		ভুল্‌লি আদি-জননীকে দু’দিন মা পেয়ে ভবে।।
তুই 		কালি দিয়ে লিখ্‌লি হিসাব কেতাব-পুঁথি শিখ্‌লি পড়া,
তোর		মাঠে ফসল ফুল্ ফুটালো কালো মেঘের কালি-ঝরা।
		তোর চোখে জ্বলে কালীর কালো তাই জগতে দেখিস্ আলো,
(কালি)	প্রসাদ গুণে সেই আলো তুই হৃদ্‌পদ্মে দেখ্‌বি কবে।।

কাঁদবো না আর শচীদুলাল তোমায় ডেকে ডেকে

বাণী

কাঁদবো না আর শচীদুলাল তোমায় ডেকে ডেকে
		মোরা কাঁদবো না —
(প্রিয়) তুমি গেছ চলে তোমার প্রেম গিয়েছ রেখে 
		তাই কাঁদব না॥
	ত্যাগ যেখানে প্রেম যেখানে
	তোমার মধু-রূপ সেখানে
ওগো জগন্নাথের দেউল তোমায় রাখবে কোথায় ঢেকে॥
হল বৈরাগিনী ধরা তোমার চরণ ধূলি মেখে
তোমার মন্ত্র নিল অসীম আকাশ চাঁদের তিলক এঁকে।
	সুন্দর যা কিছু হেরি
	ওগো রূপ সে শচী-নন্দনেরি
তোমার ডাক শুনি যে আজো হৃদয়পুরীর সাগর থেকে।
তোমার ডাক শুনি যে ওহে প্রিয়
ডাক শুনি যে আজো হৃদয়পুরীর সাগর থেকে॥

আমার বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন

বাণী

আমার বুকের ভেতর জ্বলছে আগুন, দমকল ডাক ওলো সই।
শিগ্‌গির ফোন কর বঁধুরে, নইলে পুড়ে ভস্ম হই॥
	অনুরাগ দিশ্‌লাই নিয়ে
	চোখের লম্প জ্বালতে গিয়ে,
আমার প্রাণের খোড়ো ঘরে লাগল আগুন ওই লো ওই॥
	প্রেমের কেরোসিন যে এত
	অল্পে জ্বলে জানিনে তো,
কি দাবানল জ্বলছে বুকে জানবে না কেউ আমা বই॥
	প্রণয় প্রীতির তোষক গদি
	রক্ষে করতে চায় সে যদি
মনে ক’রে আনতে বলিস (তারে) আদর সোহাগ বালতি মই॥