ঐ পথ চেয়ে থাকি আর কত

বাণী

ঐ পথ চেয়ে থাকি আর কত বনমালী।
করে কানাকানি লোক, দেয় ঘরে পরে গালি।।
	মোর কুলের বাঁধন খুলে
	হায় ভাসালে অকুলে,
শেষে লুকালে গোকুলে — এ কি রীতি চতুরালি।।

সাম্যের গান গাই (দ্বিতীয় খন্ড)

বাণী

সাম্যের গান গাই-
আমার চক্ষে পুরুষ-রমণী কোনো ভেদাভেদ নাই!
পুরুষ-হৃদয়হীন,
মানুষ করিতে নারী দিল তারে আধেক হৃদয় ঋণ।
ধরায় যাদের যশ ধরে না ক’ অমর মহামানব,
বরষে বরষে যাদের স্মরণে, করি মোরা উৎসব,
খেয়ালের বশে তাদের জম্ম দিয়াছে বিলাসী পিতা।
লব-কুশে বনে ত্যাজিয়াছে রাম, পালন করেছে সীতা!
নারী সে শিখাল শিশু-পুরুষেরে, স্নেহ প্রেম, দয়া মায়া,
দীপ্ত নয়নে পরল কাজল বেদনার ঘন ছায়া।
সে-যুগ হয়েছে বাসি,
যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না ক’, নারীরা আছিল দাসী!
বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যর যুগ আজি,
কেহ রহিবেনা বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি’!
নর যদি রাখে নারীরে বন্দী, তবে এর পর যুগে
আপনারি রচা ঐ কারাগারে পুরুষ মরিবে ভুগে।
যুগের ধর্ম এই-
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে পীড়া দেবে তোমাকেই!
স্বর্ণ-রৌপ্য অলঙ্কারের যক্ষপুরিতে নারী
করিল তোমায় বন্দিনী, বল, কোন্‌ সে অত্যাচারী?
যে ঘোম্‌টা তোমা করিয়াছে ভীরু, উড়াও সে আবরণ!
দূর ক’রে দাও দাসীর চিহ্ন যেথা যত আভরণ!
কখন আসিল “প্লুটো” যমরাজা নিশিথ পাখায় উড়ে,
ধরিয়া তোমায় পুড়িল তাহার আঁধার বিবর-পুরে!
ভেঙ্গে যম্পুরী নাগিনীর মত আয় মা পাতাল ফুঁড়ি’।
আধাঁরে তোমায় পথ দেখাবে মা তোমারি ভগ্ন চুড়ি!
পুরুষ যমের ক্ষুধার কুকুর মুক্ত ও-পদাঘাতে
লুটায়ে পড়িবে ও-চরণ-তলে দলিত যমের সাথে!
সেদিন সুদূর নয়-
যে দিন ধরণী পুরুষের সাথে গাহিবে নারীরও জয়।

কবিতাঃ নারী (দ্বিতীয় খন্ড)

কানে আজো বাজে আমার তোমার গানের

বাণী

কানে আজো বাজে আমার তোমার গানের রেশ
নয়নে মোর জাগে তোমার নয়নের আবেশ।।
	তোমার বাণী অনাহত
	দুলে কানে দুলের মত
ও গান যদি কুসুম হত সাজাতাম মোর কেশ।।
নদীর ধারে যেতে নারি শুনে তোমার সুর
মনে আনে তোমার গান করুণ বিধুর।
	শুনি বুনো পাখির গীতি
	জাগে তোমার গানের স্মৃতি
পরান আমার যায় যে ভেসে তোমার সুরের দেশ।।

ভোলো ভোলো গো লায়লী মজনুর ভালোবাসা

বাণী

ভোলো ভোলো গো লায়লী মজনুর ভালোবাসা।
সেই তো প্রেমিক প্রেম কয় তারে,
প্রিয়া যদি কয় ভোলো সে-প্রিয়ারে।
আজি হতে তাই ছাড়িলাম আমি তোমারে পাবার আশা
			ভোলো মজনুর ভালোবাসা।।

ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা

বাণী

ছন্দের বন্যা হরিণী অরণ্যা
চলে গিরি-কন্যা চঞ্চল ঝর্ণা
নন্দন-পথ-ভোলা চন্দন-বর্ণা।।
গাহে গান ছায়ানটে, পর্বতে শিলাতটে
লুটায়ে পড়ে তীরে শ্যামল ওড়না।।
ঝিরি ঝিরি হাওয়ায় ধীরি ধীরি বাজে
তরঙ্গ-নূপুর বন-পথ মাঝে।
এঁকেবেকে নেচে যায় সর্পিল ভঙ্গে
কুরঙ্গ সঙ্গে অপরূপ রঙ্গে
গুরু গুরু বাজে তাল মেঘ-মৃদঙ্গে
তরলিত জোছনা-বালিকা অপর্ণা।।

ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে

বাণী

	ধূলি-পিঙ্গল জটাজুট মেলে।
	আমার প্রলয় সুন্দর এলে॥
	পথে-পথে ঝরা কুসুম ছাড়ায়ে
	রিক্ত শাখায় কিশলয় জড়ায়ে,
	গৈরিক উত্তরী গগনে উড়ায়ে —
	রুদ্ধ ভবনের দুয়ার ঠেলে॥
	বৈশাখী পূর্ণিমা চাঁদের তিলক
		তোমারে পরাব,
মোর 	অঞ্চল দিয়া তব জটা নিঙাড়িয়া
		সুরধুনী ঝরাব।
	যে-মালা নিলে না আমার ফাগুনে
	জ্বালা তারে তব রূপের আগুনে,
	মরণ দিয়া তব চরণ জড়াব
	হে মোর উদাসীন, যেয়ো না ফেলে॥