তব চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে

বাণী

তব	চঞ্চল আঁখি কেন ছলছল হে।
	হেরি মোরা অবিরল জলে ভাসে কমল
	হেরি আজি কমলে উথলে জল হে।।
	চিরদিন কাঁদায়েছে যে জল নিঠুর
আজি	অশ্রু করেছে তারে একি সুমধুর
বঁধু	সাধ যায় ধরি তব সমুখে মুকুর
যেন	বরষিছে চাঁদ মুকুতাদল হে।
কোন	অকরুণা ভাঙিল হে পাষাণের বাঁধ
তব	কলঙ্ক লেখা গেল ধুয়ে যে হে চাঁদ।
	কাঁদ কাঁদ হে বঁধু তবে বুঝিবে মনে
কত	বেদনা পেলে জল ঝরে নয়নে
আজি	কাঁদিয়া শ্যামল হ'লে নির্মল হে।।

গগনে কৃষ্ণ মেঘ দোলে

বাণী

গগনে কৃষ্ণ মেঘ দোলে – কিশোর কৃষ্ণ দোলে বৃন্দাবনে।
থির সৌদামিনী রাধিকা দোলে নবীন ঘনশ্যাম সনে;
দোলে রাধা শ্যাম ঝুলন-দোলায় দোলে আজি শাওনে।।
পরি’ ধানি রঙ ঘাঘরি, মেঘ রঙ ওড়না
গাহে গান, দেয় দোল গোপীকা চল-চরণা,
ময়ূর নাচে পেখম খুলি’ বন-ভবনে।।
গুরু গম্ভীর মেঘ-মৃদঙ্গ বাজে আঁধার অশ্রুর তলে,
হেরিছে ব্রজের রসলীলা অরুন লুকায়ে মেঘ-কোলে।
মুঠি মুঠি বৃষ্টির ফুল ছুঁড়ে হাসে
দেব-কুমারীরা হেরে অদূর আকাশে,
জড়াজড়ি করি‌‘ নাচে, তরুলতা উতলা পবনে।।

ও মন চল অকুল পানে

বাণী

	ও মন চল অকুল পানে, মাতি হরিপ্রেম-গুণগানে।
	নদী যেমন ধায় অকূলে কূল যত তায় টানে।।
তুই	কোন্ পাহাড়ে ঠেক্‌লি এসে কোন্‌ পাথারের জল
	হরির প্রেমে গ’লে এবার সেই অসীমে চল্,
তুই	স্রোতের বেগে দুল্‌বি রে কূল-বাধা যদি হানে।।
	এ পারের সব যাত্রী যাবে তোর বুকে ওপারে
	তোর কূলে শ্যাম বাজিয়ে বাঁশি আস্‌বে অভিসারে,
	শ্যামের ছবি ধর্‌বি বুকে মাত্‌বি প্রেম-তুফানে।।

চাও চাও চাও নব বধূ অবগুণ্ঠন খোলো

বাণী

চাও চাও চাও নব বধূ অবগুণ্ঠন খোলো
আনত নয়ন তোলো॥
আমি যে ননদী খরতর নদী লজ্জা কি
লজ্জায় ফুল শয্যায় কাল ছিল না তো নত ওই আঁখি
সবি বলে দেব যদি বউ কথা না বলো॥
‘বউ কথা কও’ ডাকে পাখি
তবুও নীরব রবে নাকি
দেখি দেখি গালে লালী ও কিসের? ও! লজ্জায় বুঝি লাল হলো॥
ও কি অধীর চরণে যেয়ো না যেয়ো না
আন-ঘরে লুকাইতে দেখে যদি কেউ
সখি পাশের ও ঘরে মানুষ যে রহে
তারও অন্তরে বহে বিরহের ঢেউ।
লজ্জাই যদি তব ভূষণ সজ্জায় তবে কি প্রয়োজন?
সুখে সুখী হব দুখে দুখী ব’সো মুখোমুখি লাজ ভোলো।

নাটিকাঃ ‘বিয়ে বাড়ি’

কে তুমি এলে হেলে দুলে

বাণী

কে তুমি এলে হেলে দুলে।
প্রাণের গাঙে লহর তুলে।।
তোমার চটুল চরণ ছন্দে
মন-ময়ূর নাচে আনন্দে,
ঝরে ফুলদল বেণীর বন্ধে —
মেঘের মাধুরী এলোচুলে।।
আমার গানে আমার সুরে
প্রাণে আনে তব নূপুরে,
রূপ-তরঙ্গ খেলিছে রঙ্গে —
ব্যাকুল তনুর কূলে কূলে।।

আমি মুক্তা নিতে আসিনি মা

বাণী

(মা)	আমি, মুক্তা নিতে আসিনি মা ও মা তোর মুক্তি-সাগর কূলে।
	মোর ভিক্ষা-ঝুলি হ’তে মায়ার মুক্তা মানিক নে মা তুলে।।
		মা তুই, সবই জানিস অন্তর্যামী,
		সেই চরণ-প্রসাদ ভিক্ষু আমি,
	শবেরও হয় শিবত্ব লাভ মা তোর যে চরণ ছুঁলে।।
	তুই অর্থ দিয়ে কেন ভুলাস এই পরমার্থ ভিখারিরে,
	তোর প্রসাদী ফুল পাই যদি মা গঙ্গা ধারাও চাই না শিরে।
		তোর শক্তিমন্ত্রে শক্তিময়ী
		আমি হতে পারি ব্রহ্ম-জয়ী
	সেই মাতৃনামের মহাভিক্ষু তোর মায়াতেও নাহি ভুলে।।