উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে

বাণী

উঠেছে কি চাঁদ সাঁঝ গগনে
আজিকে আমার বিদায় লগনে।।
জানালা পাশে চাঁপার শাখে
‘বউ কথা কও’ পাখি কি ডাকে?
ফুটেছে কি ফুল মালতী বকুল —
আমার সাধের কুসুম বনে সাঁঝ গগনে।।
তুলসী তলায় জ্বলেছে কি দীপ
পরেছে আকাশ তারকার টিপ?
হারিয়ে যাওয়া বঁধূ অবেলায়
এলো কি ফিরে দেখিতে আমায়,
ঝুরিছে বাঁশি পিলু বারোয়াঁয় —
কেন গো আমার যাবার ক্ষণে।।

চল রে কাবার জিয়ারতে

বাণী

চল রে কাবার জিয়ারতে, চল নবীজীর দেশ।
দুনিয়াদারির লেবাস খুলে পর রে হাজীর বেশ।।
আওকাতে তোর থাকে যদি - আরফাতের ময়দান,
	চল আরফাতের ময়দান,
এক জামাত হয় যেখানে ভাই নিখিল মুসলমান। 
মুসলিম গৌরব দেখার যদি থাকে তোর খায়েশ।।
যেথায় হজরত হলেন নাজেল মা আমিনার ঘরে
খেলেছেন যার পথে-ঘাটে মক্কার শহরে, 
	চল মক্কার শহরে।
সেই মাঠের ধূলা মাখবি যথা নবী চরাতেন মেষ।।
ক'রে হিজরত কায়েম হলেন মদিনায় হজরত - যে মদিনায় হজরত,
সেই মদিনা দেখবি রে চল, মিটবে রে তোর প্রানের হসরত;
সেথা নবীজীর ঐ রওজাতে তোর আরজি করবি পেশ।। 

ও-তুই যাস্‌নে রাই-কিশোরী কদমতলাতে

বাণী

ও-তুই যাস্‌নে রাই-কিশোরী কদমতলাতে,
সেথা ধরবে বসন-চোরা ভূতে, পারবিনে আর পালাতে।।
	সে দেখলে কি আর রক্ষে আছে,
	ও-তোর বসন গিয়ে উঠ্‌বে গাছে,
ওলো গোবর্ধন-গিরিধারী সে — পারবিনে তায় টলাতে।।
	দেখতে পেলে ব্রজবালা,
	ঘট কেড়ে সে ঘটায় জ্বালা,
(ওলো) নিজেই গ’লে জল হ’বি তুই পারবিনে তায় গলাতে।।
	ঠেলে ফেলে অগাধ-নীরে
	সে হাসে লো দাঁড়িয়ে তীরে,
শেষে ভাসিয়ে নিয়ে প্রেম-সাগরে ওলো দোলায় নাগরদোলাতে।।

পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে

বাণী

পিউ পিউ বিরহী পাপিয়া বোলে;
কৃষ্ণচূড়া বনে ফাগুন সমীরণে
ঝুরে ফুল বন পথতলে॥
নিশি পোহায়ে যায় কাহার লাগি
নয়নে নাহি ঘুম বসিয়া জাগি
আমারই মত হায় চাহিয়া আশা পথ
নিশীথের চাঁদ পড়ে গগনে ঢলে॥

শোন্ ও-সন্ধ্যা-মালতী বালিকা তপতী

বাণী

শোন্ 	ও-সন্ধ্যা-মালতী, বালিকা তপতী
	বেলা শেষের বাঁশি বাজে, বাজে।
	শোনো মাধবী চাঁদের মধুর মিনতি
	উদাস আকাশ মাঝে।।
তব	মৌন ব্রত ভাঙ্গো কও কথা কও
মোর	নৃত্য আরতির সঙ্গিনী হও,
	মাধবী হেনা হের এলো বাহিরে —
	রসরাজে হেরি’ রাস-নৃত্যের সাজে।।
তুমি	যার লাগি’ সারাদিন, বিরহ ধ্যান-লীন একাকিনী কুঞ্জে।
	সুন্দর দাঁড়ায়ে তব দ্বারে আঁধারে
	মঞ্জরি-দীপ জ্বালো ডাকো তারে,
	বুকের চন্দন-সুরভি ঢালো —
	পাতার আঁচলে মুখ ঢেকো না লাজে।।

ভুল ক’রে কোন্ ফুল-বিতানে

বাণী

ভুল ক’রে কোন্ ফুল-বিতানে গানের পাখি পথ হারালি।
প্রেম-সমাধির বুকে এ-যে সাজানো ম্লান ফুলের ডালি।।
	বাণ-বেঁধা বুক ল’য়ে কোথায়
	উড়ে এলি শান্তি-আশায়,
চোখের জলের নদীর পাশেই রয় নিরাশার চোরা-বালি।।
	জানিস্‌নে তুই ফুলের বনে
	কাল-সাপিনী রয় গোপনে,
তৃষ্ণা-কাতর হৃদয়ে তোর বিষের জ্বালা দিলি ঢালি’।।
	আলেয়ারই আলোয় ভুলে
	এলি এ কোন্ মরণ-কূলে,
হৃদয়ের এ শ্মশান-ভূমে প্রেমের চিতা জ্বলছে খালি।।