মোর হৃদি-ব্যথার কেউ সাথী নাহি

বাণী

মোর হৃদি-ব্যথার কেউ সাথী নাহি।
ল’য়ে আহত প্রাণ একা গান গাহি।।
	দিবস বরষ মাস
	বুকে চাপি’ হা-হুতাশ,
চলি মরুপথে মেঘ-ছায়া চাহি’।।
কানন রচি বৃথা, কুসুম নাহি ফোটে
বাসি হয় গাঁথা মালা পথের ধূলায় লোটে,
কবে বহিবে নিঝর-ধারা পাষাণ বাহি’।।

রাধা শ্যাম কিশোর প্রিয়তম কৃষ্ণগোপাল

বাণী

রাধা শ্যাম কিশোর প্রিয়তম কৃষ্ণগোপাল বনমালী ব্রজের রাখাল।
কৃষ্ণ গোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল
কভু শ্যাম রাঘব, কভু শ্যাম মাধব, কভু সে কেশব যাদব ভূপাল॥
যমুনা বিহারী মুরলীধারী, বুন্দাবনে সখা গোপী মনহারী,
কভু মথুরাপতি কভু পার্থসারথি কভু ব্রজে যশোদা আনন্দ দুলাল॥
দোলে গলে তাহার মন বন ফুলহার,
বাজে চরণে নূপুর গ্রহ তারকার কোটি গ্রহ তারকার।
কালিয়-দমন কভু, করাল মুরারি কাননচারী শিখী পাখা ধারী;
শ্যামল সুন্দর গিরিধারীলাল।
কৃষ্ণগোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল শ্রীকৃষ্ণগোপাল॥

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা

বাণী

সুরের ধারার পাগল-ঝোরা নামিল সখি মোর পরানে।
	ভরি’ মোর নিশীথ নিঝুম,
	বাজে নূপুর কার রুমুঝুম,
	মোর চোখে নাহি ঘুম —
পাষাণ টুটে লো যায় ছুটে মন-তটিনী মোর সাগর পানে।।
পান্‌সে চাঁদের জোছনাতে ঐ বেলের কুঁড়ি মুঞ্জরে,
মন যেতে চায় ফুল-বিছানো বকুল-বীথির পথ ধ’রে।
	আজ চাইবে যে, দিব তাকে
	সেই ফুল ছুঁয়ে এই আপনাকে,
অরুণ-রাগে হৃদয় জাগে, ভাসিয়া যাব নৃত্যে গানে।।

বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো

বাণী

	বল্লরি-ভুজ-বন্ধন খোলো।
	অভিসার-নিশি অবসান হ’ল।।
	পান্ডুর চাঁদ হের অস্তাচলে
	জাগিয়া শ্রান্ত-তনু পড়েছে ঢ’লে,
তার 	মল্লিকা১ মালা ম্লান বক্ষতলে — 
	অভিমান-অবনত আঁখি তোলো।।
	উতল সমীর আমি নিমেষের২ ভুল,
	কুসুম ঝরাই কভু৩ ফোটাই মুকুল।
	আলোকে শুকায় মোর প্রেমের শিশির
	দিনের বিরহ আমি মিলন নিশির,
	হে প্রিয়, ভীরু এ স্বপন-বিলাসীর — 
	অকরুণ প্রণয় ভোলো ভোলো।।

১. মিলনের, ২. ক্ষণিকের, ৩. আমি

জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন

বাণী

জাগো বিরাট ভৈরব যোগ সমাধি মগ্ন।
ভুবনে আনো নব দিনের শুভ প্রভাত লগ্ন।।
	অনন্ত শয্যা ছাড়ি’ অলখ লোকে
	এসো জ্যোতির পথে,
দেব-লোকের তিমির-কারা-প্রাচীর কর ভগ্ন।।
ভয়হীন, দ্বিধাহীন উদার আনন্দে,
তোমার আবির্ভাব হোক প্রবল ছন্দে।
হোক মানব স্বপ্রাকশ আপন স্বরূপে
বিরাট রূপে, সফল কর আমার সোহং স্বপ্ন।।

সঙ্গীতালেখ্য : ‘ষট ভৈরব’

ওরে মাঝি ভাই

বাণী

				ওরে মাঝি ভাই।
ও তুই, কি দুখ পেয়ে কূল হারালি অকূল দরিয়ায়॥
চোখের জল্ তুই ছাপাতে চাস্, নদীর জলে এসে,
শেষে নদীই এলো চক্ষে রে তোর; তুই চলিলি ভেসে।
ও তুই কলস দেখে নামলি জলে রে, এখন ডুবে দেখিস্ কলস নাই॥
	ও তুই কূলে যাহার কূল পেলিনে তরী অগাধ জলে
	মিছে খুঁজে মরিস ওরে পাগল, তরী বাওয়ার ছলে।
ও রে দুই ধারে এর চোরা বালি রে, (ও) তোর হেথায় মনের মানুষ নাই॥